ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে দূরে রাখতে রাজস্থলীতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ রাজশাহী বোর্ডে রাতভর এসএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণ, সচিব বললেন জানতেন না ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইড সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগ, মতামত নিল ইউএনডিপি পঞ্চগড়ে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: র‍্যালি, আলোচনা সভা ও ৪৮ পাউন্ডের কেক শেরপুর সীমান্তে ১৬৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ বাগাতিপাড়ায় গ্যাস ট্যাবলেট সেবন, চিকিৎসাধীন নারীর মৃত্যু গোদাগাড়ীতে ডিলারের গুদামে ৮১৭ বস্তা সার, এক মাসের কারাদণ্ড দুপচাঁচিয়ায় বিএসটিআইয়ের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা ১৫ বছর ধরে অসুস্থ জুঁই, থেমে গেছে স্কুলে যাওয়া; চিকিৎসার জন্য আকুতি বগুড়ায় মশার কয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের আশাবাদী কৃষকরা!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২৪৬ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের আশাবাদী কৃষকরা!

এম এম মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে সরিষার আবাদ বেড়েছে ৩৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। গত ১০ বছরে আবাদ বেড়েছে প্রায় চার গুণ। ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি ও চাষে কম খরচ হওয়ায় সরিষার উৎপাদন বাড়ছে। একই সাথে সরিষার জমিতে উৎপাদন করা হচ্ছে সরিষার মধু। এ বছর সরিষার ফলন বাম্পার হবে বলে আশাবাদী কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন, কম খরচে সরিষা আবাদে বেশি লাভ। সাথে উৎপাদনও বাড়ছে অনেক। এছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় বেশি পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। তিন ফসলি জমিতে চাষ আরও বেড়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, সরিষা চাষ ও উৎপাদন করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এজন্য কৃষককে প্রণোদনাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলার নয়টি উপজেলা ও মহানগরীর দুটি থানায় সরিষার চাষ হয়েছে ৭৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৭ হাজার ২৬২ মেট্রিক টন। গত বছর চাষ হয়েছিল ৪২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৩৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ বেড়েছে।

এবছর গোদাগাড়ী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে। এই উপজেলায় ২২ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। এরপরে বাগমারা উপজেলায় ১৮ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে সরিষার আবাদ। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার ২১২ মেট্রিক টন। তানোর উপজেলার ১০ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। দুর্গাপুর উপজেলায় ৭ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন। মোহনপুর উপজেলায় ৭ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন। পুঠিয়া উপজেলায় সরিষা চাষ হয়েছে ৫ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন। পবা উপজেলায় ৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন।
চারঘাট উপজেলায় সরিষা চাষ হয়েছে এক হাজার ১২২ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৮০ মেট্রিক টন। বাঘা উপজেলায় ৮৩৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন ধরা হয়েছে এক হাজার ৮০ মেট্রিক টন। রাজশাহী মহানগরীর নগরীর মতিহার থানায় সরিষা চাষ হয়েছে ২৩ হেক্টর জমিতে উৎপাদন ধরা হয়েছে ১০ মেট্রিক টন। বোয়ালিয়া থানায় ১৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ১০ মেট্রিক টন।

রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে সরিষার দানা দোল খাচ্ছে। এসব এলাকার কৃষক বলছেন, কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় তারা সরিষা আবাদ করেন। এছাড়া আমদানীকৃত সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরিষা তেলের চাহিদাও বেড়েছে। এজন্য এ অঞ্চলের কৃষক সরিষা চাষ করছেন।

শফিকুল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, ‘এবার ছয় বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। ছয় হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা চাষে ঝামেলা কম। এছাড়া সেচ দিতে হয় না। প্রথমে জমিতে হালচাষ করে সরিষার বীজ বপন করার পর একবার সার দিলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। এবার বিঘা প্রতি ২০-২৫ হাজার টাকার সরিষা উৎপাদন হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি। কৃষকের দাবি, সারের দাম বাড়ায় গত বছরের চেয়ে এবার বিঘাপ্রতি ২ হাজার টাকা খরচ বেশি হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি বিঘায় প্রায় ৭ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ আট মণ ফলন পাওয়া যায়।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, ‘ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরিষার আবাদ বাড়াতে কৃষকদের সার বীজ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমি নিজেও মাঠ পরিদর্শনে যাচ্ছি। কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। ফলে এ বছর সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। বেশকিছু এলাকায় সরিষা কাটাও শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেসব কৃষক সরিষা চাষ করছেন তাদের পরামর্শসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হচ্ছে। অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা সহজ ও অল্প খরচে চাষ করা যায়। জেলায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের আশাবাদী কৃষকরা!

আপডেট সময় : ০৫:০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের আশাবাদী কৃষকরা!

এম এম মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে সরিষার আবাদ বেড়েছে ৩৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। গত ১০ বছরে আবাদ বেড়েছে প্রায় চার গুণ। ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি ও চাষে কম খরচ হওয়ায় সরিষার উৎপাদন বাড়ছে। একই সাথে সরিষার জমিতে উৎপাদন করা হচ্ছে সরিষার মধু। এ বছর সরিষার ফলন বাম্পার হবে বলে আশাবাদী কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন, কম খরচে সরিষা আবাদে বেশি লাভ। সাথে উৎপাদনও বাড়ছে অনেক। এছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় বেশি পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। তিন ফসলি জমিতে চাষ আরও বেড়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, সরিষা চাষ ও উৎপাদন করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এজন্য কৃষককে প্রণোদনাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলার নয়টি উপজেলা ও মহানগরীর দুটি থানায় সরিষার চাষ হয়েছে ৭৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৭ হাজার ২৬২ মেট্রিক টন। গত বছর চাষ হয়েছিল ৪২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৩৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ বেড়েছে।

এবছর গোদাগাড়ী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে। এই উপজেলায় ২২ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। এরপরে বাগমারা উপজেলায় ১৮ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে সরিষার আবাদ। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার ২১২ মেট্রিক টন। তানোর উপজেলার ১০ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। দুর্গাপুর উপজেলায় ৭ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন। মোহনপুর উপজেলায় ৭ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন। পুঠিয়া উপজেলায় সরিষা চাষ হয়েছে ৫ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন। পবা উপজেলায় ৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন।
চারঘাট উপজেলায় সরিষা চাষ হয়েছে এক হাজার ১২২ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৮০ মেট্রিক টন। বাঘা উপজেলায় ৮৩৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন ধরা হয়েছে এক হাজার ৮০ মেট্রিক টন। রাজশাহী মহানগরীর নগরীর মতিহার থানায় সরিষা চাষ হয়েছে ২৩ হেক্টর জমিতে উৎপাদন ধরা হয়েছে ১০ মেট্রিক টন। বোয়ালিয়া থানায় ১৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ১০ মেট্রিক টন।

রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে সরিষার দানা দোল খাচ্ছে। এসব এলাকার কৃষক বলছেন, কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় তারা সরিষা আবাদ করেন। এছাড়া আমদানীকৃত সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরিষা তেলের চাহিদাও বেড়েছে। এজন্য এ অঞ্চলের কৃষক সরিষা চাষ করছেন।

শফিকুল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, ‘এবার ছয় বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। ছয় হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা চাষে ঝামেলা কম। এছাড়া সেচ দিতে হয় না। প্রথমে জমিতে হালচাষ করে সরিষার বীজ বপন করার পর একবার সার দিলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। এবার বিঘা প্রতি ২০-২৫ হাজার টাকার সরিষা উৎপাদন হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি। কৃষকের দাবি, সারের দাম বাড়ায় গত বছরের চেয়ে এবার বিঘাপ্রতি ২ হাজার টাকা খরচ বেশি হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি বিঘায় প্রায় ৭ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ আট মণ ফলন পাওয়া যায়।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, ‘ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরিষার আবাদ বাড়াতে কৃষকদের সার বীজ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমি নিজেও মাঠ পরিদর্শনে যাচ্ছি। কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। ফলে এ বছর সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। বেশকিছু এলাকায় সরিষা কাটাও শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেসব কৃষক সরিষা চাষ করছেন তাদের পরামর্শসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হচ্ছে। অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা সহজ ও অল্প খরচে চাষ করা যায়। জেলায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।