“প্রত্যেক সদস্যই সামর্থ্য অনুযায়ী দান করে”— ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম
- আপডেট সময় : ০১:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫ ৩১৫ বার পড়া হয়েছে

“প্রত্যেক সদস্যই সামর্থ্য অনুযায়ী দান করে”— ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম
দান, স্বচ্ছতা ও আত্মত্যাগের মানসিকতাই সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছে—রাজশাহী কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ছাত্রশিবিরের প্রধান আয়ের উৎস হলো তাদের জনশক্তির দান। সভাপতি থেকে ইউনিট পর্যায়ের কর্মী—প্রত্যেক সদস্যই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সংগঠনকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে থাকে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজশাহী কলেজ মাঠে অনার্স প্রথম বর্ষ (২০২৪–২৫ সেশন) ও উচ্চ মাধ্যমিকের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে আয়োজিত ‘ক্যারিয়ার গাইডলাইন নবীনবরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের আয় না থাকলেও অল্প অল্প করে সঞ্চয় ও দানের যে মানসিকতা, সেটিই ছাত্রশিবিরকে টিকিয়ে রেখেছে। ছোটবেলা থেকেই যে দুই টাকা সঞ্চয় করে ভালো কাজে ব্যয় করার অভ্যাস গড়ে ওঠে—সেখান থেকেই দানের মানসিকতা তৈরি হয়।”
তিনি বলেন, এই ধারা তাদের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সংগঠনের প্রতি আর্থিকভাবে আরও আন্তরিক করে তোলে।
ছাত্রশিবির সভাপতি জানান, “১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৪৮ বছরে সংগঠনের বিপুল সংখ্যক সাবেক সদস্য আজ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে অবস্থান করছেন—একাডেমিক থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা থেকে প্রশাসন পর্যন্ত। দেশে-বিদেশে কোনো প্রভাবশালী অঙ্গন নেই যেখানে শিবিরের সাবেকরা নেই।”
তিনি বলেন, এসব সাবেক সদস্যরাই নিয়মিতভাবে সংগঠনের জন্য আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসেন।
জাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, “অন্য সংগঠন দশ টাকা পেলে তার দুই টাকা কার্যক্রমে খরচ করে, আট টাকা বিভিন্ন পকেটে চলে যায়। কিন্তু ছাত্রশিবিরে দশ টাকা বরাদ্দ হলে দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজেদের পকেট থেকে আরও দুই টাকা যোগ করে ১২ টাকা ব্যয় করেন। এ কারণেই সংগঠনের কাজে বরকত আসে।”
তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, আত্মত্যাগ ও দায়বদ্ধতাই ছাত্রশিবিরকে আজকের অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে।
তিনি বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানও শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করেই। চাইলে এই অর্থ অন্যত্র ব্যবহৃত হতে পারত, কিন্তু ছাত্রশিবির মনে করে—শিক্ষার্থীদের উন্নয়নই প্রকৃত বিনিয়োগ।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সংগঠনের এই নীতি, স্বচ্ছতা ও আত্মত্যাগের ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী কলেজ শাখা সভাপতি মাহমুদুল হাসান মাসুম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন—কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশন সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভুইয়া, রাকসু ভিপি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, রাজশাহী মহানগর সভাপতি মো. শামীম উদ্দীন, কেন্দ্রীয় মানবাধিকার সম্পাদক ও সাবেক মহানগর সভাপতি মো. সিফাত উল আলম।




















