রাজশাহী-নাটোর বাস মালিকদের দ্বন্দ্বে দূরপাল্লার বাস বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
- আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী-নাটোর বাস মালিকদের দ্বন্দ্বে দূরপাল্লার বাস বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ ঢাকা রুট; সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের আশ্বাস
রাজশাহী ও নাটোর বাস মালিক সমিতির চলমান বিরোধের জেরে রাজশাহী-ঢাকা রুটসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজশাহী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় বাস মালিক সমিতির নেতারা। তবে রাজশাহী থেকে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের ওপর দিয়ে রাজশাহীর বাস চলাচল নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, নাটোর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ‘আন্দান পরিবহন’ নামের একটি বাস নির্ধারিত সময়সূচি ও নিয়ম না মেনে রংপুর-রাজশাহী রুটে চলাচল করায় এ বিরোধের সূত্রপাত। তবে পাল্টা অভিযোগ করে নাটোর বাস মালিকরা দাবি করেন, রাজশাহীতে তাদের বাস আটকে দেওয়া হচ্ছে—যা রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা অস্বীকার করেছেন।
হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বাস টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে গন্তব্যে যেতে পারেননি। পরে কেউ ট্রেন, কেউ মাইক্রোবাস বা স্থানীয় পরিবহনে ভেঙে ভেঙে যাত্রা করছেন।
ঢাকাগামী যাত্রী আজিম বলেন, “গতকাল ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু যেতে পারিনি। আজ আবার এসে ফিরে যাচ্ছি। পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বাস বন্ধ পেয়ে বিপাকে পড়েছি। কোনোভাবে নাটোর পৌঁছাতে পারলেই অন্য ব্যবস্থা নেব।”
আরেক যাত্রী ইফতেখার উদ্দিন বলেন, “হঠাৎ করে বাস বন্ধ করে দিলে আমাদের ভোগান্তি বাড়ে। অন্তত আগে নোটিশ দেওয়া উচিত ছিল।”
দেশ ট্রাভেলসের মালিক বজলুর রহমান রতন অভিযোগ করেন, নাটোর বাস মালিক সমিতি অন্যায়ভাবে রাজশাহীর গাড়ি আটকে দিয়েছে। কোনো আলোচনা ছাড়াই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে নাটোর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি প্রশান্ত কুমার পোদ্দার লক্ষ্মণ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কোনো বাস আটকাইনি। বরং রাজশাহীতেই আমাদের কয়েকটি বাস আটকে রাখা হয়েছে।”
এদিকে, যাত্রীদের দাবি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এ বিরোধ নিষ্পত্তি করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হোক।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে নাটোর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। দুই জেলার পরিবহন মালিকদের নিয়ে দ্রুত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।



















