তায়কোয়ানডো ফেডারেশনে অনিয়মের অভিযোগ, স্বর্ণজয়ী লুবাবার ক্যারিয়ার হুমকিতে
- আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে

তায়কোয়ানডো ফেডারেশনে অনিয়মের অভিযোগ, স্বর্ণজয়ী লুবাবার ক্যারিয়ার হুমকিতে
ভাতা কাটার অভিযোগ, প্রতিযোগিতায় অনিয়ম, খেলোয়াড় বহিষ্কার—তদন্ত ও হস্তক্ষেপ দাবি ক্রীড়ামহলের
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সম্ভাবনাময় একটি শাখা হিসেবে পরিচিত তায়কোয়ানডো। তবে এই উজ্জ্বল অঙ্গনের আড়ালে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বর্ণপদকজয়ী নারী খেলোয়াড় লুবাবা বিনতে আমজাদের ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাউথ এশিয়ান গেমস (এসএ গেমস) প্রস্তুতি ক্যাম্প চলাকালে খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দ মাসিক ভাতা থেকে মাথাপিছু ৬ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়। কোচদের মাধ্যমে বিষয়টি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এরশাদুল হক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বরং খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দ ট্র্যাকস্যুটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
এই অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খেলোয়াড় দীপু চাকমাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বহিষ্কার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে কয়েকজন খেলোয়াড় ক্যাম্প ত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এছাড়া জাতীয় তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আনসার দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে সেনাবাহিনী দলকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের আগে দীপু চাকমাসহ ৮ জন শীর্ষ খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করা হয়। এর প্রতিবাদে সেনাবাহিনী দল টুর্নামেন্ট বর্জন করে। পরে তাদের ছাড়া একতরফাভাবে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে।
বর্তমানে এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় আলোচনায় এসেছেন স্বর্ণজয়ী খেলোয়াড় লুবাবা বিনতে আমজাদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলোয়াড় কোটায় মেধাতালিকায় চতুর্থ স্থান অর্জন করা সত্ত্বেও তার ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জানা যায়, ২০২৪ সালের ২১তম ন্যাশনাল সিনিয়র/জুনিয়র তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক অর্জনের পর তার সনদে কিছু তথ্যগত ভুল ছিল, যা পরবর্তীতে ফেডারেশন নিজেই সংশোধন করে। তবে নতুন অ্যাডহক কমিটি সেই সংশোধিত সনদকে উপেক্ষা করে পুরোনো ভুল সনদকে ইস্যু করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে প্রশ্ন উঠেছে, কমিটি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ববর্তী কমিটির কার্যক্রম ও সনদের বৈধতা কি বাতিল হয়ে যায়? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে একজন প্রতিভাবান নারী ক্রীড়াবিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন আচরণ নজিরবিহীন।
সম্প্রতি আনসার ক্রীড়াবিদদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও ফেডারেশনের নানা অনিয়ম উঠে এসেছে, যা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো বক্তব্য দেননি। ক্রীড়াবিদদের স্বার্থ রক্ষা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।



















