ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পথেই হাঁটছে-নিহত নাদিমের পরিবার

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ৩৯৪ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পথেই হাঁটছে-নিহত নাদিমের পরিবার

বাংলা নিউজ ডটকমের সাবেক জামালপুর জেলা প্রতিনিধি ও একাত্তর টিভির সাবেক উপজেলা সংবাদদাতা গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ায় তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। ধীরে ধীরে মামলাটি যেন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতোই দীর্ঘসূত্রতায় গা ভাসাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহত নাদিমের পরিবার।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) সাংবাদিক নাদিমের জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারটি এখনও গভীর শোকে দিন কাটাচ্ছে। সেখানে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মোঃ খায়রুল আলম রফিক ও তার টিমের কাছে নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম ও তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য আব্দুল করিম মামলার তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন।

মনিরা বেগম বলেন, “আমার স্বামী হত্যায় সাধুরপাড়া ইউনিয়নের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল আলম ওরফে বাবু চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ২৭ জন খুনে অংশ নেয়। অথচ চার্জশিটে মাত্র ৯ জনের নাম আনা হয়েছে। এতে প্রকৃত খুনিরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। আমরা আদালতে নারাজি দিয়েছি, এখন শুনানির অপেক্ষায় আছি। আমরা খুবই অসহায়। কেবল বকশীগঞ্জের সাংবাদিক সমাজই আমাদের পাশে আছে।”

এসময় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রফিক বলেন, “১৯৯২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬৯ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনার বেশিরভাগই বিচারহীন থেকে গেছে। এজন্যই সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করার সাহস পেয়েছে খুনিরা। সাগর-রুনি হত্যার তদন্তের মতোই যদি নাদিম হত্যার তদন্তও বারবার পিছতে থাকে, সাংবাদিক সমাজ এবার কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”

তিনি আরও জানান, নাদিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পেশাদার খুনিদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে এবং মামলাটি আড়াল করতে তদন্ত কর্মকর্তারা বারবার “নাটক” তৈরি করছেন।

এ ঘটনায় তদারকির জন্য সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ একটি ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান সিনিয়র সাংবাদিক ও আইন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আবির, সাথে রয়েছেন মোঃ আব্দুল মান্নান, জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু, মাসুদ উল হাসান এবং এক মানবাধিকার কর্মী।

এর আগে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নাদিমের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। দেখা যায়, নাদিম হত্যার পর থেকে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে ভুগছে। এরপর তারা বকশীগঞ্জ থানায় ওসি খন্দকার শাকের আহমেদের সাথে দেখা করেন এবং মামলার অগ্রগতি বিষয়ে আলোচনা করেন।
পরে নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক নাদিমের কবর জিয়ারত করেন ও তার বাবার সঙ্গে কথা বলেন। সবশেষে বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাব পরিদর্শনকালে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পথেই হাঁটছে-নিহত নাদিমের পরিবার

আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পথেই হাঁটছে-নিহত নাদিমের পরিবার

বাংলা নিউজ ডটকমের সাবেক জামালপুর জেলা প্রতিনিধি ও একাত্তর টিভির সাবেক উপজেলা সংবাদদাতা গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ায় তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। ধীরে ধীরে মামলাটি যেন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতোই দীর্ঘসূত্রতায় গা ভাসাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহত নাদিমের পরিবার।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) সাংবাদিক নাদিমের জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারটি এখনও গভীর শোকে দিন কাটাচ্ছে। সেখানে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মোঃ খায়রুল আলম রফিক ও তার টিমের কাছে নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম ও তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য আব্দুল করিম মামলার তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন।

মনিরা বেগম বলেন, “আমার স্বামী হত্যায় সাধুরপাড়া ইউনিয়নের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল আলম ওরফে বাবু চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ২৭ জন খুনে অংশ নেয়। অথচ চার্জশিটে মাত্র ৯ জনের নাম আনা হয়েছে। এতে প্রকৃত খুনিরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। আমরা আদালতে নারাজি দিয়েছি, এখন শুনানির অপেক্ষায় আছি। আমরা খুবই অসহায়। কেবল বকশীগঞ্জের সাংবাদিক সমাজই আমাদের পাশে আছে।”

এসময় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রফিক বলেন, “১৯৯২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬৯ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনার বেশিরভাগই বিচারহীন থেকে গেছে। এজন্যই সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করার সাহস পেয়েছে খুনিরা। সাগর-রুনি হত্যার তদন্তের মতোই যদি নাদিম হত্যার তদন্তও বারবার পিছতে থাকে, সাংবাদিক সমাজ এবার কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”

তিনি আরও জানান, নাদিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পেশাদার খুনিদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে এবং মামলাটি আড়াল করতে তদন্ত কর্মকর্তারা বারবার “নাটক” তৈরি করছেন।

এ ঘটনায় তদারকির জন্য সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ একটি ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান সিনিয়র সাংবাদিক ও আইন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আবির, সাথে রয়েছেন মোঃ আব্দুল মান্নান, জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু, মাসুদ উল হাসান এবং এক মানবাধিকার কর্মী।

এর আগে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নাদিমের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। দেখা যায়, নাদিম হত্যার পর থেকে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে ভুগছে। এরপর তারা বকশীগঞ্জ থানায় ওসি খন্দকার শাকের আহমেদের সাথে দেখা করেন এবং মামলার অগ্রগতি বিষয়ে আলোচনা করেন।
পরে নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক নাদিমের কবর জিয়ারত করেন ও তার বাবার সঙ্গে কথা বলেন। সবশেষে বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাব পরিদর্শনকালে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।