ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পঞ্চগড়ে শিশু শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষক আটক পুঠিয়ায় কয়েলের আগুনে বসতবাড়ি পুড়ে ছাই রাণীশংকৈলে ভেজাল কীটনাশকে আম বাগানে বিপর্যয়, ক্ষতি প্রায় কোটি টাকা গুরুদাসপুরে ৭ বছরের শিশুকে আসামি করে মামলা, আদালতে জামিনে মুক্ত পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে চা শ্রমিকের মৃত্যু জাতীয় জুডো প্রতিযোগিতায় বাউয়েট শিক্ষার্থীর সাফল্য রাজশাহীর গ্রামীণ পথে লালে রঙিন কৃষ্ণচূড়া, মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে প্রকৃতির রূপ লালপুরে অভিনব কায়দায় মিটার চুরি, রেখে গেল মোবাইল নম্বর লেখা চিরকুট লালপুরে পৃথক অভিযানে জরিমানা ১ লাখ টাকা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছোট্ট রুহি, হৃদয়ে ছিদ্র ও মস্তিষ্কে টিউমার—বাঁচতে চায় সে

রাণীশংকৈলে ভেজাল কীটনাশকে আম বাগানে বিপর্যয়, ক্ষতি প্রায় কোটি টাকা

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:১৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ৬৮ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাণীশংকৈলে ভেজাল কীটনাশকে আম বাগানে বিপর্যয়, ক্ষতি প্রায় কোটি টাকা

২০ বিঘা জমির আম গাছ ও ফল নষ্ট, তদন্তে নেমেছে কৃষি বিভাগ

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ভেজাল কীটনাশক ব্যবহারের অভিযোগে এক কৃষকের আম বাগানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ২০ বিঘা জমির আম গাছ ও ফল নষ্ট হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী কৃষক ইসমাইল হোসেনের দাবি, এতে তাঁর প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের কাউন্সিল বাজার এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন চেকপোস্ট সীমান্তবর্তী ভদ্রেশ্বরী এলাকায় লিজ নেওয়া প্রায় ৭৫ বিঘা জমিতে আম বাগান গড়ে তোলেন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি স্থানীয় বাজারের একটি ডিলারের কাছ থেকে ‘সাফা এগ্রো প্রোডাক্টস’ কোম্পানির ‘সামজো (এমামেকটিন বেনজোয়েট)’ নামের কীটনাশক কিনে ২০ বিঘা জমিতে প্রয়োগ করেন।

তার অভিযোগ, স্প্রে করার দুই-তিন দিনের মধ্যেই আম কালো হয়ে যায় এবং গাছের ডালপালায় পোড়া লক্ষণ দেখা দেয়। ফলে বাগানের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, “আমি জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে এই বাগান করেছি। হঠাৎ করে সব শেষ হয়ে গেল। আমি চাই এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা হোক, যাতে অন্য কেউ এমন ক্ষতির মুখে না পড়ে।”

এ বিষয়ে আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মামুন বলেন, “এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন কৃষকের ক্ষতি নয়, পুরো এলাকার আম উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। ভেজাল কৃষি উপকরণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি জরুরি।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে কীটনাশকটি ভেজাল কিনা। পাশাপাশি কৃষকদের অনুমোদিত উৎস থেকে কীটনাশক ক্রয় ও ব্যবহারে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাণীশংকৈলে ভেজাল কীটনাশকে আম বাগানে বিপর্যয়, ক্ষতি প্রায় কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৮:১৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

রাণীশংকৈলে ভেজাল কীটনাশকে আম বাগানে বিপর্যয়, ক্ষতি প্রায় কোটি টাকা

২০ বিঘা জমির আম গাছ ও ফল নষ্ট, তদন্তে নেমেছে কৃষি বিভাগ

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ভেজাল কীটনাশক ব্যবহারের অভিযোগে এক কৃষকের আম বাগানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ২০ বিঘা জমির আম গাছ ও ফল নষ্ট হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী কৃষক ইসমাইল হোসেনের দাবি, এতে তাঁর প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের কাউন্সিল বাজার এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন চেকপোস্ট সীমান্তবর্তী ভদ্রেশ্বরী এলাকায় লিজ নেওয়া প্রায় ৭৫ বিঘা জমিতে আম বাগান গড়ে তোলেন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি স্থানীয় বাজারের একটি ডিলারের কাছ থেকে ‘সাফা এগ্রো প্রোডাক্টস’ কোম্পানির ‘সামজো (এমামেকটিন বেনজোয়েট)’ নামের কীটনাশক কিনে ২০ বিঘা জমিতে প্রয়োগ করেন।

তার অভিযোগ, স্প্রে করার দুই-তিন দিনের মধ্যেই আম কালো হয়ে যায় এবং গাছের ডালপালায় পোড়া লক্ষণ দেখা দেয়। ফলে বাগানের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, “আমি জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে এই বাগান করেছি। হঠাৎ করে সব শেষ হয়ে গেল। আমি চাই এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা হোক, যাতে অন্য কেউ এমন ক্ষতির মুখে না পড়ে।”

এ বিষয়ে আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মামুন বলেন, “এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন কৃষকের ক্ষতি নয়, পুরো এলাকার আম উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। ভেজাল কৃষি উপকরণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি জরুরি।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে কীটনাশকটি ভেজাল কিনা। পাশাপাশি কৃষকদের অনুমোদিত উৎস থেকে কীটনাশক ক্রয় ও ব্যবহারে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”