ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোমস্তাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃ/ত্যু জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬: বাগাতিপাড়ায় তিন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ গালিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাগাতিপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এ শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা আরএমপির উদ্যোগে উদ্ধার ১০১ হারানো মোবাইল ফোন, মালিকদের হাতে হস্তান্তর লালপুরে বজ্রপাতে ইটভাটা শ্রমিক নিহত, আহত ২ নারী দা’ফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক্টরে ধা/ক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃ/ত্যু, স্ত্রী আহত দুই বছরের মধ্যে চালু হতে পারে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর- মির্জা ফখরুল জলবায়ু ঝুঁকিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় মান্দায় গণতান্ত্রিক সংলাপ অনুষ্ঠিত বিজিবি উত্তর-পশ্চিম রিজিয়নে এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য আটক সিংড়ায় ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রাজশাহী মেডিকেলে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট, ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১২৮ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী মেডিকেলে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট, ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা

ছয় মাস ধরে সরবরাহ বন্ধ, নিজস্ব মজুদও শেষ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে জলাতঙ্ক (রেবিস) রোগের ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে সরকারিভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ছয় মাস ধরে সরকারিভাবে কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকলেও রামেক হাসপাতাল নিজস্ব উদ্যোগে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে রোগীদের বিনামূল্যে প্রদান করে আসছিল। তবে সেই মজুদও তিন দিন আগে শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া বন্ধ রয়েছে।

হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২৭০ থেকে ২৮০ জন রোগী জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে আসেন। সে হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ডোজ ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীর স্বজন রাশেদ রিপন বলেন, “হাসপাতালে এসে জানতে পারলাম ভ্যাকসিন নেই। অনেকেই আমাদের মতো ফিরে যাচ্ছেন। পরে বাইরে খোঁজ করেও ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।”

তিনি জানান, শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় কিছু ফার্মেসিতে ভ্যাকসিন পাওয়া গেলেও প্রতিটির দাম প্রায় ৪৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। যা অনেকের পক্ষে বহন করা কঠিন।

কুকুরে কামড়ানো রোগী সঞ্জয় রায় বলেন, “ডাক্তার দ্রুত ভ্যাকসিন নিতে বলেছেন। কিন্তু হাসপাতালে এসে দেখি ভ্যাকসিনই নেই। এখন খুব আতঙ্কে আছি।”

আরেক রোগী বাঁধন হোসেন বলেন, “প্রাণঘাতী রোগের ভ্যাকসিন হাসপাতালে না থাকাটা খুবই উদ্বেগজনক। বাইরে খুঁজেও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না।”

চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুরের নির্দিষ্ট প্রজনন মৌসুম না থাকলেও অনেক এলাকায় বর্ষা-পরবর্তী সময়ে কুকুরের সংখ্যা ও আক্রমণাত্মক আচরণ বৃদ্ধি পায়। ফলে কুকুরে কামড়ানোর ঘটনাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের ঘাটতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে বাইরে খুঁজছেন, কিন্তু সেখানেও সহজে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “ছয় মাস ধরে সরকারিভাবে কোনো সরবরাহ নেই। আমরা স্থানীয়ভাবে কিনে কিছুদিন সেবা দিয়েছি। এখন আর সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান পাওয়া যায়নি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহী মেডিকেলে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট, ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা

আপডেট সময় : ০৮:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী মেডিকেলে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট, ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা

ছয় মাস ধরে সরবরাহ বন্ধ, নিজস্ব মজুদও শেষ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে জলাতঙ্ক (রেবিস) রোগের ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে সরকারিভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ছয় মাস ধরে সরকারিভাবে কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকলেও রামেক হাসপাতাল নিজস্ব উদ্যোগে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে রোগীদের বিনামূল্যে প্রদান করে আসছিল। তবে সেই মজুদও তিন দিন আগে শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া বন্ধ রয়েছে।

হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২৭০ থেকে ২৮০ জন রোগী জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে আসেন। সে হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ডোজ ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীর স্বজন রাশেদ রিপন বলেন, “হাসপাতালে এসে জানতে পারলাম ভ্যাকসিন নেই। অনেকেই আমাদের মতো ফিরে যাচ্ছেন। পরে বাইরে খোঁজ করেও ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।”

তিনি জানান, শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় কিছু ফার্মেসিতে ভ্যাকসিন পাওয়া গেলেও প্রতিটির দাম প্রায় ৪৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। যা অনেকের পক্ষে বহন করা কঠিন।

কুকুরে কামড়ানো রোগী সঞ্জয় রায় বলেন, “ডাক্তার দ্রুত ভ্যাকসিন নিতে বলেছেন। কিন্তু হাসপাতালে এসে দেখি ভ্যাকসিনই নেই। এখন খুব আতঙ্কে আছি।”

আরেক রোগী বাঁধন হোসেন বলেন, “প্রাণঘাতী রোগের ভ্যাকসিন হাসপাতালে না থাকাটা খুবই উদ্বেগজনক। বাইরে খুঁজেও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না।”

চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুরের নির্দিষ্ট প্রজনন মৌসুম না থাকলেও অনেক এলাকায় বর্ষা-পরবর্তী সময়ে কুকুরের সংখ্যা ও আক্রমণাত্মক আচরণ বৃদ্ধি পায়। ফলে কুকুরে কামড়ানোর ঘটনাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের ঘাটতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে বাইরে খুঁজছেন, কিন্তু সেখানেও সহজে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “ছয় মাস ধরে সরকারিভাবে কোনো সরবরাহ নেই। আমরা স্থানীয়ভাবে কিনে কিছুদিন সেবা দিয়েছি। এখন আর সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান পাওয়া যায়নি।”