ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় গৃহবধূকে সং/ঘব/দ্ধ ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, থানায় মামলা পুঠিয়ার পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগে প্রশাসনের অভিযান টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক খাদে উ/ল্টে নিহত ১৫, আহত অন্তত ১০ সিংড়ায় চোরের কাছ থেকে ফ্রিজ কেনার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে মান্দায় ৪৫ দিনের শি’শুকে বি-ষ খাইয়ে হ/ত্যা/চেষ্টার অভিযোগ নলডাঙ্গায় ট্রাকচা/পা/য় ভাঙারি ব্যবসায়ী নি’হ’ত, আহত ১ শেরপুরে প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে হা/ম/লা-ভা/ঙ/চু/র ও লু’টপা’টের অভিযোগ, আদালতে মামলা বাগাতিপাড়ায় শি’শু ও নারী নি/র্যা/তনের প্রতিবাদে র‌্যালি ও মানববন্ধন ১৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি মালঞ্চি রেলস্টেশন, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসীণৃ্ পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহে মানববন্ধন, ১৪ বছর পর ছেলের খোঁজে মায়ের আকুতি

রাজশাহী মেডিকেলে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট, ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৩২ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী মেডিকেলে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট, ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা

ছয় মাস ধরে সরবরাহ বন্ধ, নিজস্ব মজুদও শেষ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে জলাতঙ্ক (রেবিস) রোগের ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে সরকারিভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ছয় মাস ধরে সরকারিভাবে কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকলেও রামেক হাসপাতাল নিজস্ব উদ্যোগে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে রোগীদের বিনামূল্যে প্রদান করে আসছিল। তবে সেই মজুদও তিন দিন আগে শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া বন্ধ রয়েছে।

হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২৭০ থেকে ২৮০ জন রোগী জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে আসেন। সে হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ডোজ ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীর স্বজন রাশেদ রিপন বলেন, “হাসপাতালে এসে জানতে পারলাম ভ্যাকসিন নেই। অনেকেই আমাদের মতো ফিরে যাচ্ছেন। পরে বাইরে খোঁজ করেও ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।”

তিনি জানান, শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় কিছু ফার্মেসিতে ভ্যাকসিন পাওয়া গেলেও প্রতিটির দাম প্রায় ৪৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। যা অনেকের পক্ষে বহন করা কঠিন।

কুকুরে কামড়ানো রোগী সঞ্জয় রায় বলেন, “ডাক্তার দ্রুত ভ্যাকসিন নিতে বলেছেন। কিন্তু হাসপাতালে এসে দেখি ভ্যাকসিনই নেই। এখন খুব আতঙ্কে আছি।”

আরেক রোগী বাঁধন হোসেন বলেন, “প্রাণঘাতী রোগের ভ্যাকসিন হাসপাতালে না থাকাটা খুবই উদ্বেগজনক। বাইরে খুঁজেও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না।”

চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুরের নির্দিষ্ট প্রজনন মৌসুম না থাকলেও অনেক এলাকায় বর্ষা-পরবর্তী সময়ে কুকুরের সংখ্যা ও আক্রমণাত্মক আচরণ বৃদ্ধি পায়। ফলে কুকুরে কামড়ানোর ঘটনাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের ঘাটতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে বাইরে খুঁজছেন, কিন্তু সেখানেও সহজে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “ছয় মাস ধরে সরকারিভাবে কোনো সরবরাহ নেই। আমরা স্থানীয়ভাবে কিনে কিছুদিন সেবা দিয়েছি। এখন আর সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান পাওয়া যায়নি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহী মেডিকেলে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট, ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা

আপডেট সময় : ০৮:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী মেডিকেলে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট, ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা

ছয় মাস ধরে সরবরাহ বন্ধ, নিজস্ব মজুদও শেষ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে জলাতঙ্ক (রেবিস) রোগের ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে সরকারিভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ছয় মাস ধরে সরকারিভাবে কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকলেও রামেক হাসপাতাল নিজস্ব উদ্যোগে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে রোগীদের বিনামূল্যে প্রদান করে আসছিল। তবে সেই মজুদও তিন দিন আগে শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া বন্ধ রয়েছে।

হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২৭০ থেকে ২৮০ জন রোগী জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে আসেন। সে হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ডোজ ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীর স্বজন রাশেদ রিপন বলেন, “হাসপাতালে এসে জানতে পারলাম ভ্যাকসিন নেই। অনেকেই আমাদের মতো ফিরে যাচ্ছেন। পরে বাইরে খোঁজ করেও ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।”

তিনি জানান, শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় কিছু ফার্মেসিতে ভ্যাকসিন পাওয়া গেলেও প্রতিটির দাম প্রায় ৪৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। যা অনেকের পক্ষে বহন করা কঠিন।

কুকুরে কামড়ানো রোগী সঞ্জয় রায় বলেন, “ডাক্তার দ্রুত ভ্যাকসিন নিতে বলেছেন। কিন্তু হাসপাতালে এসে দেখি ভ্যাকসিনই নেই। এখন খুব আতঙ্কে আছি।”

আরেক রোগী বাঁধন হোসেন বলেন, “প্রাণঘাতী রোগের ভ্যাকসিন হাসপাতালে না থাকাটা খুবই উদ্বেগজনক। বাইরে খুঁজেও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না।”

চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুরের নির্দিষ্ট প্রজনন মৌসুম না থাকলেও অনেক এলাকায় বর্ষা-পরবর্তী সময়ে কুকুরের সংখ্যা ও আক্রমণাত্মক আচরণ বৃদ্ধি পায়। ফলে কুকুরে কামড়ানোর ঘটনাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের ঘাটতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে বাইরে খুঁজছেন, কিন্তু সেখানেও সহজে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “ছয় মাস ধরে সরকারিভাবে কোনো সরবরাহ নেই। আমরা স্থানীয়ভাবে কিনে কিছুদিন সেবা দিয়েছি। এখন আর সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান পাওয়া যায়নি।”