ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিংড়ায় চোরের কাছ থেকে ফ্রিজ কেনার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে মান্দায় ৪৫ দিনের শি’শুকে বি-ষ খাইয়ে হ/ত্যা/চেষ্টার অভিযোগ নলডাঙ্গায় ট্রাকচা/পা/য় ভাঙারি ব্যবসায়ী নি’হ’ত, আহত ১ শেরপুরে প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে হা/ম/লা-ভা/ঙ/চু/র ও লু’টপা’টের অভিযোগ, আদালতে মামলা বাগাতিপাড়ায় শি’শু ও নারী নি/র্যা/তনের প্রতিবাদে র‌্যালি ও মানববন্ধন ১৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি মালঞ্চি রেলস্টেশন, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসীণৃ্ পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহে মানববন্ধন, ১৪ বছর পর ছেলের খোঁজে মায়ের আকুতি রায়গঞ্জের হাটপাঙ্গাসীতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট গোদাগাড়ীতে জেলা পরিষদের উদ্যোগে ৮০ দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ রাজশাহীতে সাংবাদিকদের মামলা প্রত্যাহার ও ধর্ষণ-হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন

সিংড়ায় চোরের কাছ থেকে ফ্রিজ কেনার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

নাটোর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিংড়ায় চোরের কাছ থেকে ফ্রিজ কেনার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

চুরি হওয়া ফ্রিজ থানায় জমা না দিয়ে নিজের বাসায় নেওয়ার অভিযোগ; তদন্তের নির্দেশ পুলিশের

নাটোরের সিংড়ায় চোরকে ছেড়ে দিয়ে তার কাছ থেকে চুরির মালামাল কেনার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত এসআই মো. নজরুল ইসলাম সিংড়া থানায় কর্মরত। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে সিংড়া পৌর এলাকার চাঁদপুর মহল্লার বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের মাদকাসক্ত ছেলে মাসুম আলী তার বড় ভাই মুনছের আলীর বাসা থেকে একটি ফ্রিজসহ মূল্যবান মালামাল চুরি করে।

গভীর রাতে ভ্যানগাড়িতে করে ফ্রিজটি নিয়ে যাওয়ার সময় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে টহলরত এসআই নজরুল ইসলাম ভ্যানটি আটক করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাসুম পালিয়ে যায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, জব্দ করা মালামাল থানায় জমা না দিয়ে এসআই নজরুল পথচারী দুজনের সহায়তায় নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী সাজু ভুন্ডু ও আবু হানিফ জানান, পরদিন সকালে অভিযুক্ত মাসুম এসআই নজরুলের বাসায় গিয়ে চুরির কথা স্বীকার করে। পরে এসআই নজরুল ১১ হাজার ৫০০ টাকায় ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে ফ্রিজটি কিনে নেন বলে অভিযোগ ওঠে।

চুরির বিষয়টি জানাজানি হলে ফ্রিজের মালিক মুনছের আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মালামাল ফেরতের দাবি জানান।

ভুক্তভোগী মুনছের আলী বলেন, “আমার আপন ছোট ভাই বাসা থেকে ফ্রিজটি চুরি করেছিল। পরে জানতে পারি, ফ্রিজটি এসআই নজরুল সাহেবের কাছে আছে। আমি থানায় অভিযোগ করে মালামাল ফেরত চেয়েছি।”

মুনছের আলীর মা মর্জিনা বেগম বলেন, “আমরা জানতে পারি পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ফ্রিজটি নিয়েছেন। পরে লোকজনের মাধ্যমে টাকা দিয়ে আমাদের ফ্রিজ আমাদেরই ফেরত নিতে হয়েছে। গত শনিবার সিংড়া সার্কেল অফিসে একটি আপোষ মীমাংসা করা হয়। এরপর আমরা ফ্রিজটি ফেরত পাই।”

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত এসআই নজরুল ইসলাম নিজেকে আড়ালে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একাধিকবার সিংড়া থানায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “এসআই নজরুল ইসলাম একজনের কাছ থেকে একটি ফ্রিজ কিনে পরে তা ফেরত দিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে সেটি চুরি হওয়া ফ্রিজ কিনা, তা আমার জানা নেই। এছাড়া এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও দেননি।”

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, সিংড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নূর মোহাম্মদ আলী ভুক্তভোগী পরিবারকে ডেকে দ্রুত ঘটনাটি আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে এএসপি নূর মোহাম্মদ আলী এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন এবং জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, “এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়ার পর সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সিংড়ায় চোরের কাছ থেকে ফ্রিজ কেনার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৮:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

সিংড়ায় চোরের কাছ থেকে ফ্রিজ কেনার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

চুরি হওয়া ফ্রিজ থানায় জমা না দিয়ে নিজের বাসায় নেওয়ার অভিযোগ; তদন্তের নির্দেশ পুলিশের

নাটোরের সিংড়ায় চোরকে ছেড়ে দিয়ে তার কাছ থেকে চুরির মালামাল কেনার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত এসআই মো. নজরুল ইসলাম সিংড়া থানায় কর্মরত। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে সিংড়া পৌর এলাকার চাঁদপুর মহল্লার বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের মাদকাসক্ত ছেলে মাসুম আলী তার বড় ভাই মুনছের আলীর বাসা থেকে একটি ফ্রিজসহ মূল্যবান মালামাল চুরি করে।

গভীর রাতে ভ্যানগাড়িতে করে ফ্রিজটি নিয়ে যাওয়ার সময় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে টহলরত এসআই নজরুল ইসলাম ভ্যানটি আটক করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাসুম পালিয়ে যায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, জব্দ করা মালামাল থানায় জমা না দিয়ে এসআই নজরুল পথচারী দুজনের সহায়তায় নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী সাজু ভুন্ডু ও আবু হানিফ জানান, পরদিন সকালে অভিযুক্ত মাসুম এসআই নজরুলের বাসায় গিয়ে চুরির কথা স্বীকার করে। পরে এসআই নজরুল ১১ হাজার ৫০০ টাকায় ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে ফ্রিজটি কিনে নেন বলে অভিযোগ ওঠে।

চুরির বিষয়টি জানাজানি হলে ফ্রিজের মালিক মুনছের আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মালামাল ফেরতের দাবি জানান।

ভুক্তভোগী মুনছের আলী বলেন, “আমার আপন ছোট ভাই বাসা থেকে ফ্রিজটি চুরি করেছিল। পরে জানতে পারি, ফ্রিজটি এসআই নজরুল সাহেবের কাছে আছে। আমি থানায় অভিযোগ করে মালামাল ফেরত চেয়েছি।”

মুনছের আলীর মা মর্জিনা বেগম বলেন, “আমরা জানতে পারি পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ফ্রিজটি নিয়েছেন। পরে লোকজনের মাধ্যমে টাকা দিয়ে আমাদের ফ্রিজ আমাদেরই ফেরত নিতে হয়েছে। গত শনিবার সিংড়া সার্কেল অফিসে একটি আপোষ মীমাংসা করা হয়। এরপর আমরা ফ্রিজটি ফেরত পাই।”

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত এসআই নজরুল ইসলাম নিজেকে আড়ালে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একাধিকবার সিংড়া থানায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “এসআই নজরুল ইসলাম একজনের কাছ থেকে একটি ফ্রিজ কিনে পরে তা ফেরত দিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে সেটি চুরি হওয়া ফ্রিজ কিনা, তা আমার জানা নেই। এছাড়া এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও দেননি।”

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, সিংড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নূর মোহাম্মদ আলী ভুক্তভোগী পরিবারকে ডেকে দ্রুত ঘটনাটি আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে এএসপি নূর মোহাম্মদ আলী এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন এবং জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, “এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়ার পর সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”