টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বরকলে ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী
- আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বরকলে ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী
টানা ছয় দিনের বর্ষণ এবং ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির দুর্গম বরকল উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভারী বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। এতে অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তিন শতাধিক ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
উপজেলার ভুষণছড়া, বড়কুড়াদিয়া, এরাবুনিয়া, কলাবুনিয়া, বামল্যান্ড ও কুকিছড়া এলাকায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পায়ে চলার রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এলাকার প্রধান যাতায়াত মাধ্যম মোটরসাইকেল চলাচলও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
অনেক এলাকায় বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বসতঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় মানুষ কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাদ্যের সংকট। জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নৌযান চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।
ভুষণছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ময়না বেগম বলেন, “মাত্র কয়েকদিন আগেও যেখানে গরু-ছাগল চরত, সেখানে এখন নৌকা চলছে। বাড়ির চারপাশে পানি জমে গেছে, অনেকের ঘরে পানি ঢুকেছে। চুলা ডুবে যাওয়ায় রান্না করা যাচ্ছে না। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।”
ভুষণছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, “ঘরবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এ মুহূর্তে সরকারি সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।”
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির প্রবণতাও অব্যাহত থাকতে পারে।
বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার ও সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।”


















