পঞ্চগড়ে বিস্তীর্ণ বনানীজুড়ে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন, আমনের বাম্পার ফলনের আশা
- আপডেট সময় : ০৭:০০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে বিস্তীর্ণ বনানীজুড়ে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন, আমনের বাম্পার ফলনের আশা
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন আবাদ; আগাম জাতের ধান কাটা শুরু, ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা কৃষকদের
মো. কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়ঃ
কৃষি উৎপাদনের অপার সম্ভাবনাময় জেলা পঞ্চগড়ে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ ধানগাছের সমারোহ। কোথাও কোথাও ধানের শিষে সোনালি আভা ফুটতে শুরু করেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই পুরোদমে শুরু হবে ধান কাটা ও মাড়াই। ইতোমধ্যে কিছু আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগাম জাতের ধানের মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড স্বর্ণা, ব্রি-৭৫, ব্রি-৮৭সহ কয়েকটি জাত। তবে এসব জাতের ধান এখনো সীমিত পরিমাণে কাটা হচ্ছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া, সার ও কীটনাশকের নানা সমস্যা এবং রোগবালাই মোকাবিলা করেও এবার আমনের ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন কৃষকরা। তাঁদের অপেক্ষা এখন ধান কেটে ঘরে তোলার। কৃষকদের ধারণা, চলতি নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পঞ্চগড়ে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর জমি। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে আমন আবাদ হয়েছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে।
কৃষি কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে প্রায় ৬ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এতে চালের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩ দশমিক ৬ মেট্রিক টন।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিতে ধান আর ধান। চারদিকে সবুজের সমারোহ। অনেক কৃষক ভোর হলেই নিজের ধানখেত দেখতে জমিতে ছুটে যাচ্ছেন। অক্লান্ত পরিশ্রম ও সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করে আবাদ করা ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।
আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, তার জমিতে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। অগ্রহায়ণ মাসে ধান কাটার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ঝান্ঠাপাড়া এলাকার কৃষক লিপন বলেন, তারা বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তবে কারেন্ট পোকার আক্রমণে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।
একই ইউনিয়নের তেলীপাড়া এলাকার কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ধানের ফলন ভালো হয়েছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ধান কাটা শুরু করবেন।
বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার কৃষক বদিউজ্জামান জানান, এবার ধানে শিষ মরে যাওয়ার প্রবণতা এবং কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা গেছে। তারপরও সামগ্রিকভাবে আবাদ ভালো হয়েছে। ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু করবেন বলে জানান তিনি।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের খোপড়াবান্দি এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এবার ধানের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। একই এলাকার প্রধানপাড়া গ্রামের নবির উদ্দীনও তাঁর জমিতে ভালো ফলনের আশা করছেন।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও নানা উৎকণ্ঠার মধ্যেও কৃষকদের এখন একটাই স্বপ্ন, পাকা ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলা। এরপর পরিবারের সঙ্গে নবান্নের উৎসবে পিঠাপুলির স্বাদ নেওয়ার অপেক্ষা। গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে বইতে শুরু করেছে ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসবের আগাম আমেজ।
তবে ভালো ফলনের পাশাপাশি ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা কৃষকদের। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন বলেন, ইতোমধ্যে ব্রি-৭৫ ও ব্রি-৮৭সহ কয়েকটি আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছেন কৃষকরা। তবে এখন পর্যন্ত কাটা-মাড়াইয়ের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ। চলতি মাসেই আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।



















