নালিতাবাড়ীতে ব্যবসায়ীকে মারধর করে মোটরসাইকেল, আইফোন ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
নালিতাবাড়ীতে ব্যবসায়ীর মালামাল ছিনতাইয়ের অভিযোগে আদালতে মামলা; তদন্তের নির্দেশের কথা জানিয়েছে মামলার বিবরণ।

নালিতাবাড়ীতে ব্যবসায়ীকে মারধর করে মোটরসাইকেল, আইফোন ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে জান্নাতুল নাঈম নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে মোটরসাইকেল, আইফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান মিজান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শেরপুরের সিআর আমলি আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, সি.আর. মামলা নম্বর ৮০৬/২০২৬-এর বাদী জান্নাতুল নাঈম (২৯)। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত গ্রামের নূরুল হকের ছেলে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মিজান শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নিচপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।
কাঠ কেনার কথা বলে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জান্নাতুল নাঈম বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে কাঠ কিনে ব্যবসা করেন। সেই সূত্রে ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সকালে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান তার ব্যবহৃত ফোন থেকে নাঈমকে কল করে আকাশমণি কাঠের সন্ধান দেন। পরে ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে কাঠ কেনার উদ্দেশ্যে নালিতাবাড়ী উপজেলার আড়াইআনী বাজারের কালেমা চত্বরে যান নাঈম।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখান থেকে মিজানুর রহমান ও অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজন তাকে একটি কফি হাউসে নিয়ে যান। সেখানে কফি পান করার পর তার মাথা ঝিমঝিম ও ঘুমঘুম ভাব হয়। এরপর কাঠ দেখানোর কথা বলে তাকে নালিতাবাড়ীর রামচন্দ্রকোনা ইউনিয়নের কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মারধর ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
বাদীর অভিযোগ, ওই বাড়িতে তাকে আটকে রেখে মিজানুর রহমান রড দিয়ে মারধর করেন। তার কাছে থাকা মালামাল বের করে দিতে বলা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা রড, ছুরি ও পিস্তল দেখিয়ে তাকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, এ সময় তার মোটরসাইকেল ও কাগজপত্র, একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স, ডেবিট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং কাঠ কেনার জন্য সঙ্গে রাখা নগদ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। বাদীর দাবি অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা, আইফোনের মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং নগদ টাকার পরিমাণ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৪, ৩৪১, ৩৬৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৮৬, ৩৯২, ৩৯৪, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। আদালত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বক্তব্য অভিযুক্তের
অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর রহমান মিজান বলেন, জান্নাতুল নাঈম ছদ্মনাম ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেন বলে তার দাবি। মিজানের ভাষ্য অনুযায়ী, জাপানপ্রবাসী এক নারীর কাছ থেকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে ১৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নাঈমের বিরুদ্ধে। ওই নারী নাঈমের ঠিকানা দিয়ে তাকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে যেতে বলেছিলেন বলে দাবি করেন মিজান।
মিজানের বক্তব্য, এ কারণেই তিনি নাঈমকে ফোন করে আসতে বলেন। পরে তাদের মধ্যে টাকা ও মালামাল নিয়ে সমঝোতা হয় এবং নাঈম স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে যান বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, এরপর নাঈম তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও পরিকল্পিত মামলা করেছেন। এসব বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি সাক্ষীর
মামলার ১ নম্বর সাক্ষী বাদশা মিয়া দাবি করেন, মিজানুর রহমান পরিকল্পিতভাবে নাঈমকে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন এবং তার মোটরসাইকেল, আইফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন। তার বক্তব্য, নাঈমের বিরুদ্ধে অন্য কোনো প্রতারণার অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে; কিন্তু কাউকে আটকে রেখে মারধর করা বা জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে মামলার অভিযোগ, অভিযুক্তের পাল্টা বক্তব্য এবং সাক্ষীর দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তদন্তের ফলাফল বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী তথ্য হালনাগাদ করা প্রয়োজন।


















