রাজশাহীতে অবৈধ ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি বন্ধের দাবিতে, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি
- আপডেট সময় : ০৭:১৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে অবৈধ ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি বন্ধের দাবিতে, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি
এম এম মামুনঃ
রাজশাহীর প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবৈধভাবে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি ও রিসাইক্লিং বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বরেন্দ্র অঞ্চলের যুব, পরিবেশবাদী, স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর বৃহৎ ঐক্য বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও গ্রিন কোয়ালিশন-এর একটি প্রতিনিধিদল রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি দেয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে অবৈধভাবে সিসা (Lead) তৈরি ও রিসাইক্লিং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। ব্যাটারি পোড়ানোর সময় বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাতাস, মাটি ও পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের শরীরে সিসার মাত্রা বেড়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, কিডনি জটিলতা, রক্তশূন্যতা এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, সিসা দূষণের কারণে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং গবাদিপশু ও জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের ওপর সিসার বিষক্রিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর।
স্মারকলিপিতে ইউনিসেফের ‘দ্য টক্সিক ট্রুথ: চিলড্রেনস এক্সপোজার পলিউশন আন্ডারমাইন্স এ জেনারেশন অব পটেনশিয়াল’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০ কোটি শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি। এদের প্রায় অর্ধেক দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাস করে। বাংলাদেশেও বিপুলসংখ্যক শিশু সিসা দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, রাজশাহীর পবা উপজেলার বিমানবন্দর সড়কে ফায়ার সার্ভিসের পাশের কিছুটা সামনে ‘এইট স্টার মেটাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সীমানার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পুরোনো ব্যাটারি পোড়ানোর কার্যক্রম চলছে। রাতের আঁধারে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা সংগ্রহ করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সংগঠনগুলোর দাবি, এভাবে ব্যাটারি পোড়ানোর ফলে রাজশাহীর পরিবেশ, প্রাণ-প্রকৃতি, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। বিদ্যমান পরিবেশ আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে রাজশাহীসহ সারাদেশে অবৈধভাবে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি ও রিসাইক্লিং বন্ধে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- পবাসহ রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ব্যাটারি পোড়ানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, লোকালয় ও ফসলি জমির পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে হবে, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়া সিসা পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত মালিকদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত নজরদারি বাড়াতে হবে, সিসা দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সরকারি উদ্যোগে মাইকিং ও সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করতে হবে এবং এতে স্থানীয় তরুণ, যুব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ ছাড়া রাজশাহীর পুকুর-দিঘি, জলাশয় ও জলাধারগুলো সুরক্ষায়ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
একই দাবিতে পৃথক স্মারকলিপি রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন এবং পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীনের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক পলি রানী, আমার বাংলা তরুণ সংঘের সভাপতি তাহমিদ জাকি, স্বচ্ছলতা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইহতেশামুল আলম জোহা, গ্রিন কোয়ালিশন রাজশাহীর সদস্য মিরাতুজ জাহান মিলি, রাকিব হাসান বাপ্পি, সুমাইয়া খাতুনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।



















