ঢাকা ০৪:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাটোরে বাবার জানাজায় প্যারোলে অংশ নিলেন সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি জেমস জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত আদনান আজাদ ও হাসমত আলীকে সংবর্ধনা পঞ্চগড়ে ১৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু করতে দলমত-ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী মান্দায় মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড মোহনপুরে আধুনিক প্রযুক্তিতে মসলা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে মাঠ দিবস বাঘায় গোয়ালঘর থেকে আগুন, নিঃস্ব তিন পরিবার রাজশাহীতে কলেজছাত্রীকে যৌ/ন হয়রানির অভিযোগ, কি‍-শোর গ্যাং/য়ে/র ৩ সদস্য গ্রেপ্তার রাজশাহীতে শব্দদূষণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি, রেইলগেট ও লক্ষীপুর মোড়ে শব্দমাত্রা ১০০ ডেসিবেলের বেশি ঝিনাইগাতীতে বিয়ের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে নারীর দাবি বাগাতিপাড়ায় ভয়াবহ আগুনে ৬ দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষতি ১০-১২ লাখ টাকা

রাজশাহীতে শব্দদূষণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি, রেইলগেট ও লক্ষীপুর মোড়ে শব্দমাত্রা ১০০ ডেসিবেলের বেশি

রাজশাহী:
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৯১ বার পড়া হয়েছে

Rajshahi News

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে শব্দদূষণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি, রেইলগেট ও লক্ষীপুর মোড়ে শব্দমাত্রা ১০০ ডেসিবেলের বেশি

রাজশাহী:
নগরায়ন ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী নগরীতে শব্দদূষণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নগরীর ব্যস্ততম এলাকা রেইলগেট ও হাসপাতালকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা লক্ষীপুর মোড়ে সাম্প্রতিক শব্দমাত্রা পরীক্ষায় উভয় স্থানেই ১০০ ডেসিবেলের বেশি সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা পাওয়া গেছে। এতে জনস্বাস্থ্য ও নগর পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে এবং বারিন্দ এনভায়রনমেন্টের সহযোগিতায় শনিবার (১৫ আগস্ট) রেইলগেট ও লক্ষীপুর মোড়ে শব্দের বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিমাপ করা হয়। পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেন প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন খান (পিএইচডি)। তাকে সহযোগিতা করেন ড. অলি আহমেদ, শামসুর রাহমান শরীফ, মোঃ ওবায়দুল্লাহ, রুমানা আহমেদ, ইফাত আরা, কলি আহমেদ, আবু তারেক বিন আজিজ, রুহুল হাসান পলাশসহ সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবীরা।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ সাল থেকে একই স্থান ও প্রায় একই সময়সূচিতে রাজশাহী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ধারাবাহিকভাবে শব্দমাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও দিনের ব্যস্ততম সময়ে এ পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়।

পরিমাপের তথ্যে দেখা যায়, ১৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রেইলগেটে সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা ছিল ১০১.৫ ডেসিবেল। একই দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত লক্ষীপুর মোড়ে সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা পাওয়া যায় ১০২.৬ ডেসিবেল।

অথচ গত বছর রেইলগেট ও লক্ষীপুর মোড়-উভয় স্থানেই সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা ছিল প্রায় ৯৭ ডেসিবেল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উভয় এলাকাতেই শব্দদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এর আগে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP)-এর ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদনে ঢাকাকে বিশ্বের সর্বাধিক এবং রাজশাহীকে বিশ্বের চতুর্থ সর্বাধিক শব্দদূষিত শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে রাজশাহীতে শব্দমাত্রা প্রায় ১০৩ ডেসিবেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের পরিমাপ নগরীতে উচ্চমাত্রার শব্দদূষণের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশের শব্দদূষণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী শব্দমাত্রার ভিত্তিতে এলাকাকে নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প—এই পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী দিনের বেলায় বাণিজ্যিক এলাকায় অনুমোদিত শব্দমাত্রা ৭০ ডেসিবেল, আর নীরব এলাকায় সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল।

রেইলগেট বাণিজ্যিক এলাকার অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক এলাকা হওয়ায় লক্ষীপুর মোড় নীরব এলাকার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। ফলে পরিমাপ করা ১০১.৫ ও ১০২.৬ ডেসিবেলের শব্দমাত্রা উভয় এলাকার অনুমোদিত সীমার তুলনায় অত্যন্ত বেশি।

মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পরীক্ষার সময় রেইলগেট ও লক্ষীপুর মোড়ে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটো ও অটোরিকশা চলাচল করছিল। এসব যানবাহনের একটি বড় অংশে উচ্চশব্দের টিটি হর্ন ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক চালক প্রয়োজন ছাড়াই বারবার হর্ন বাজাচ্ছেন বলেও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

রেইলগেট এলাকায় বিভিন্ন বাসকেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে হর্ন বাজাতে দেখা যায়। পাশাপাশি যত্রতত্র বাস থামানো, অটোরিকশা ও রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং যানবাহনের লেন ব্যবস্থাপনার অভাবও চালকদের অহেতুক হর্ন ব্যবহারে উৎসাহিত করছে বলে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ।

রাজশাহী নগরীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় অনুমোদিত ও নিয়ন্ত্রিত ধরনের হর্ন ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং উচ্চশব্দের টিটি হর্নের ব্যবহার বন্ধ করা। অটোরিকশা ও রিকশার জন্য নির্দিষ্ট লেন চালু এবং বাসকে নির্ধারিত স্থান ছাড়া যত্রতত্র থামানো বন্ধ করারও দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন সড়কে যৌক্তিক গতিসীমা নির্ধারণ ও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে যানবাহনের আকস্মিক ব্রেক, তীব্র ত্বরণ এবং অহেতুক হর্নের ব্যবহার কমবে। এর ফলে পরোক্ষভাবেও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করে সংস্থাটি।

অতিরিক্ত শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তির ক্ষতি করার পাশাপাশি বিরক্তি, ঘুমের ব্যাঘাত, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত শব্দ পশু-পাখি ও নগর জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নগরীর সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাছপালা শব্দের বিস্তার কমাতে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করতে পারে। তাই রাজশাহীকে সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আম, জাম, নিম, সজনে ও অন্যান্য দেশীয় ও উপকারী বৃক্ষের ব্যাপক রোপণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এসব গাছ ভবিষ্যতে শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী নগরীতে শব্দদূষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটি শব্দদূষণবিরোধী লিফলেট বিতরণ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছে।

সংস্থার পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, চালক ও নগরবাসীকে সম্মিলিতভাবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় ‘অপ্রয়োজনে হর্ন নয়’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একটি পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য রাজশাহী গড়ে তুলতে শুধু রাস্তা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, সুশৃঙ্খল যান চলাচল এবং পর্যাপ্ত সবুজায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে শব্দদূষণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি, রেইলগেট ও লক্ষীপুর মোড়ে শব্দমাত্রা ১০০ ডেসিবেলের বেশি

আপডেট সময় : ০৩:১৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহীতে শব্দদূষণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি, রেইলগেট ও লক্ষীপুর মোড়ে শব্দমাত্রা ১০০ ডেসিবেলের বেশি

রাজশাহী:
নগরায়ন ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী নগরীতে শব্দদূষণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নগরীর ব্যস্ততম এলাকা রেইলগেট ও হাসপাতালকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা লক্ষীপুর মোড়ে সাম্প্রতিক শব্দমাত্রা পরীক্ষায় উভয় স্থানেই ১০০ ডেসিবেলের বেশি সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা পাওয়া গেছে। এতে জনস্বাস্থ্য ও নগর পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে এবং বারিন্দ এনভায়রনমেন্টের সহযোগিতায় শনিবার (১৫ আগস্ট) রেইলগেট ও লক্ষীপুর মোড়ে শব্দের বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিমাপ করা হয়। পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেন প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন খান (পিএইচডি)। তাকে সহযোগিতা করেন ড. অলি আহমেদ, শামসুর রাহমান শরীফ, মোঃ ওবায়দুল্লাহ, রুমানা আহমেদ, ইফাত আরা, কলি আহমেদ, আবু তারেক বিন আজিজ, রুহুল হাসান পলাশসহ সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবীরা।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ সাল থেকে একই স্থান ও প্রায় একই সময়সূচিতে রাজশাহী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ধারাবাহিকভাবে শব্দমাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও দিনের ব্যস্ততম সময়ে এ পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়।

পরিমাপের তথ্যে দেখা যায়, ১৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রেইলগেটে সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা ছিল ১০১.৫ ডেসিবেল। একই দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত লক্ষীপুর মোড়ে সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা পাওয়া যায় ১০২.৬ ডেসিবেল।

অথচ গত বছর রেইলগেট ও লক্ষীপুর মোড়-উভয় স্থানেই সর্বোচ্চ গড় শব্দমাত্রা ছিল প্রায় ৯৭ ডেসিবেল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উভয় এলাকাতেই শব্দদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এর আগে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP)-এর ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদনে ঢাকাকে বিশ্বের সর্বাধিক এবং রাজশাহীকে বিশ্বের চতুর্থ সর্বাধিক শব্দদূষিত শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে রাজশাহীতে শব্দমাত্রা প্রায় ১০৩ ডেসিবেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের পরিমাপ নগরীতে উচ্চমাত্রার শব্দদূষণের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশের শব্দদূষণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী শব্দমাত্রার ভিত্তিতে এলাকাকে নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প—এই পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী দিনের বেলায় বাণিজ্যিক এলাকায় অনুমোদিত শব্দমাত্রা ৭০ ডেসিবেল, আর নীরব এলাকায় সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল।

রেইলগেট বাণিজ্যিক এলাকার অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক এলাকা হওয়ায় লক্ষীপুর মোড় নীরব এলাকার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। ফলে পরিমাপ করা ১০১.৫ ও ১০২.৬ ডেসিবেলের শব্দমাত্রা উভয় এলাকার অনুমোদিত সীমার তুলনায় অত্যন্ত বেশি।

মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পরীক্ষার সময় রেইলগেট ও লক্ষীপুর মোড়ে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটো ও অটোরিকশা চলাচল করছিল। এসব যানবাহনের একটি বড় অংশে উচ্চশব্দের টিটি হর্ন ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক চালক প্রয়োজন ছাড়াই বারবার হর্ন বাজাচ্ছেন বলেও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

রেইলগেট এলাকায় বিভিন্ন বাসকেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে হর্ন বাজাতে দেখা যায়। পাশাপাশি যত্রতত্র বাস থামানো, অটোরিকশা ও রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং যানবাহনের লেন ব্যবস্থাপনার অভাবও চালকদের অহেতুক হর্ন ব্যবহারে উৎসাহিত করছে বলে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ।

রাজশাহী নগরীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় অনুমোদিত ও নিয়ন্ত্রিত ধরনের হর্ন ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং উচ্চশব্দের টিটি হর্নের ব্যবহার বন্ধ করা। অটোরিকশা ও রিকশার জন্য নির্দিষ্ট লেন চালু এবং বাসকে নির্ধারিত স্থান ছাড়া যত্রতত্র থামানো বন্ধ করারও দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন সড়কে যৌক্তিক গতিসীমা নির্ধারণ ও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে যানবাহনের আকস্মিক ব্রেক, তীব্র ত্বরণ এবং অহেতুক হর্নের ব্যবহার কমবে। এর ফলে পরোক্ষভাবেও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করে সংস্থাটি।

অতিরিক্ত শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তির ক্ষতি করার পাশাপাশি বিরক্তি, ঘুমের ব্যাঘাত, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত শব্দ পশু-পাখি ও নগর জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নগরীর সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাছপালা শব্দের বিস্তার কমাতে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করতে পারে। তাই রাজশাহীকে সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আম, জাম, নিম, সজনে ও অন্যান্য দেশীয় ও উপকারী বৃক্ষের ব্যাপক রোপণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এসব গাছ ভবিষ্যতে শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী নগরীতে শব্দদূষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটি শব্দদূষণবিরোধী লিফলেট বিতরণ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছে।

সংস্থার পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, চালক ও নগরবাসীকে সম্মিলিতভাবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় ‘অপ্রয়োজনে হর্ন নয়’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একটি পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য রাজশাহী গড়ে তুলতে শুধু রাস্তা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, সুশৃঙ্খল যান চলাচল এবং পর্যাপ্ত সবুজায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।