বাঘায় গোয়ালঘর থেকে আগুন, নিঃস্ব তিন পরিবার
- আপডেট সময় : ০৬:১৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে

বাঘায় গোয়ালঘর থেকে আগুন, নিঃস্ব তিন পরিবার
পুড়েছে ঘরবাড়ি, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও কৃষিপণ্য; ক্ষতি প্রায় ৫০ লাখ টাকা
এম এম মামুন:
রাজশাহীর বাঘায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন পরিবারের বসতঘর ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে বাউসা ইউনিয়নের দিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, ধান-চাল, গম, পাট, পেঁয়াজ, রসুন, টেলিভিশন, ফ্রিজ, গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো—নূরুল হক নূরুর তিন ছেলে ইমদাদুল হক, শরিফুল হক ও সাজেদুল হকের পরিবার। তিন ভাই একই বাড়িতে বসবাস করলেও তারা পৃথকভাবে ব্যবসা ও গবাদিপশু পালন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ওই বাড়ির একটি গোয়ালঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। গোয়ালঘরে মশা তাড়ানোর জন্য জ্বালানো কয়েল থেকে অসাবধানতাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
প্রথমে আগুন দেখতে পান বড় ছেলে ইমদাদুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন। তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে বাঘা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের ধারণা, আগুনের তাপে একটি ফ্রিজের কম্প্রেসার ও ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডে সাতটি সেমিপাকা টিনশেড ঘরের কক্ষ, তিনটি গোয়ালঘর ও তিনটি রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে তিন পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ইমদাদুল হক জানান, তার ঘরে থাকা ১৫ মণ পাট, ৫০ মণ পেঁয়াজ, ১০ মণ রসুন, ২০ মণ চাল, ১৫ মণ গম, নগদ ৫ লাখ টাকা, একটি টেলিভিশন ও একটি ফ্রিজ পুড়ে গেছে।
দ্বিতীয় ছেলে শরিফুল হকের ঘরে থাকা ২০ মণ চাল, ৫ মণ রসুন, ১০ মণ পাট, এক ভরি স্বর্ণ, নগদ ৮০ হাজার টাকা ও একটি টেলিভিশন পুড়ে যায়।
ছোট ছেলে সাজেদুল হকের ঘরে থাকা মহিষ বিক্রির সাড়ে ৪ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণ, ২০ মণ চাল, ১০ মণ গম, ১০ মণ পাট, ৫০ মণ পেঁয়াজ, ১০ মণ রসুন, একটি টেলিভিশন, কয়েকটি মোবাইল ফোনসহ ঘরের সব আসবাবপত্র পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান।
ইমদাদুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, “আগুন দেখতে পেয়েই আমি চিৎকার শুরু করি। তখন প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আমাদের গোয়ালঘরে গরু বাঁধা ছিল। আগুনের মধ্যে তাদের গলার দড়ি কেটে দেওয়ায় তারা প্রাণে বেঁচে গেছে।”
বাঘা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী স্টেশন ইনচার্জ মিনহাজুল হক বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুনে ঘরবাড়ি ও মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন এবং বাঘা থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে বাঘা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এক রাতের আগুনে দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়ে তোলা ঘর-সংসার, সঞ্চয় ও ব্যবসার মালামাল হারিয়ে তিন পরিবার এখন চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।




















