বাগাতিপাড়ায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
- আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
ফজলুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান-টেকসই উদ্যোগে করি বেগবান’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যগাঁথা হলরুমে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে এ আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ বসাক।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, গাইনি বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু) ডা. মাহবুবা জান্নাত, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন আখতার, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ, একাডেমিক সুপারভাইজার সালাউদ্দিন ডলার, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, নার্সিং সুপারভাইজার হাবিবা খাতুন, নার্সিং ইনচার্জ সুফিয়া খাতুন, ইপিআই ইনচার্জ কবিতা খানম, মিডওয়াইফ আকলিমা খাতুন, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল লতিফ, হেলথ ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফা, এমটি ইপিআই দানিউল ইসলাম, ইপিক বাংলাদেশ প্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিশুর জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। মায়ের দুধে শিশুর পরিপূর্ণ পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্বও তুলে ধরেন তারা।
বক্তারা বলেন, জন্মের পর শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে শালদুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুর প্রথম টিকার মতো কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। ছয় মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধেই শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। ছয় মাস পর মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে উপযুক্ত অন্যান্য খাবার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ সময় মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর সঠিক পদ্ধতি, কর্মজীবী মায়েদের জন্য দুধ সংরক্ষণ ও খাওয়ানোর পদ্ধতি এবং মাতৃদুগ্ধদানের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
আলোচকরা মাতৃদুগ্ধের বিকল্প শিশুখাদ্যের অনিয়ন্ত্রিত প্রচার ও বিপণনের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, মাতৃদুগ্ধের বিকল্প হিসেবে কৌটা বা প্যাকেটজাত গুঁড়ো দুধসহ বিভিন্ন শিশুখাদ্যের প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন ও প্রচারে আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। এ বিষয়ে ২০১৩ সালের সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান এবং বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের কাউন্সেলিং, কর্মজীবী মায়েদের দুধ সংরক্ষণ ও খাওয়ানোর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা, মা ও শিশু পুষ্টিবিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, স্কুল-কলেজভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।
এছাড়া মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইন অনুযায়ী শিশুখাদ্য নিয়ন্ত্রণ, বাজার মনিটরিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।















