বাগাতিপাড়ায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা
- আপডেট সময় : ০৮:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে সচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) বেলা ১১টায় ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান-টেকসই উদ্যোগে করি বেগবান’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা পরিষদের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যগাথা হলরুমে গিয়ে শেষ হয়।
পরে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গাইনি বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু) ডা. মাহবুবা জান্নাত।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আরএমও ডা. রিতা হালদার, নার্সিং সুপারভাইজার হাবিবা খাতুন, নার্সিং ইনচার্জ সুফিয়া খাতুন, ইপিআই ইনচার্জ কবিতা খানম, মিডওয়াইফ আকলিমা খাতুন, স্যাকমো ইনচার্জ রাকিবুল ইসলাম, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল লতিফ, হেলথ ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফা, এমটি ইপিআই দানিউল ইসলাম, ইপিক বাংলাদেশের প্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিশুর জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। মায়ের দুধে শিশুর পরিপূর্ণ পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তারা।
বক্তারা বলেন, শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে শালদুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি মায়ের দুধ থেকেই পাওয়া সম্ভব। মায়ের বুকের দুধ সঠিকভাবে পান করানোর বিষয়েও সভায় আলোচনা করা হয়। বক্তারা জানান, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুর মুখ বড় করে হাঁ করা, থুতনি মায়ের স্তনে লাগানো, নিচের ঠোঁট বাইরের দিকে উল্টানো এবং স্তনের চারপাশের অধিকাংশ কালো অংশ শিশুর মুখের ভেতরে থাকা-এসব বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, ছয় মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার পর মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে বয়স উপযোগী অন্যান্য খাবার দেওয়া শুরু করতে হবে। পর্যাপ্ত ও সঠিকভাবে মাতৃদুগ্ধপান শিশুর অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে মাতৃদুগ্ধ দানকারী মায়েদের জন্য পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
সভায় কৌটা বা প্যাকেটজাত শিশুখাদ্যের প্রচার ও বিপণন নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। বক্তারা জানান, মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে শিশুখাদ্য, প্যাকেটজাত গুঁড়ো দুধ ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন বা প্রচারের ক্ষেত্রে আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে।
এ সময় বিকল্প শিশুখাদ্য বিপণন ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শিশুর সর্বোত্তম পুষ্টি ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে মায়ের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।









