কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিতে রাবিতে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৯:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিতে রাবিতে মানববন্ধন
এম এম মামুন:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, ছাত্রত্ব বাতিলসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতিসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ছাত্রত্ব বাতিল, রাকসু প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট পদ থেকে অপসারণ ও বহিষ্কার, প্রক্টর অফিসে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে সব ধরনের সহিংসতা, সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি থেকে মুক্ত রাখতে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “রাজাকার ও আলবদরের দোসররাই গতকাল ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। ছাত্রশিবির একটি অনৈতিক সংগঠন। লাইব্রেরির মতো নিরাপদ স্থানে শিবিরের কর্মীরা শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করেছে। লাইব্রেরিতে হামলার উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭১ সালের জামায়াত-শিবিরের অপকর্মের সংরক্ষিত তথ্য মুছে ফেলা। তারা শুধু লাইব্রেরি নয়, পুরো ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করেছে।”
সাংবাদিকদের উদ্দেশে রাকসু ভিপির দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা শুধু পেশাগত দায়িত্বই পালন করেন না, তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী। তারা সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেন। কোনো সংবাদ কারও পছন্দ না হলেই সাংবাদিকদের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা গ্রহণযোগ্য নয়।”
রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের উদ্দেশে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, “আপনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেন। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি শুধু আপনাদের জন্য? অন্যরা প্রতিবাদ করতে পারবে না—এমন ধারণা গণতান্ত্রিক হতে পারে না।”
মানববন্ধনকারীরা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন হল শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এই সংবাদে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ও বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য ও দাবি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হলে সংবাদটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।



















