পবায় বর্ষাকালীন কমিউনিটি বীজ বিনিময় উৎসব, দেশীয় বীজ সংরক্ষণে কৃষকদের অঙ্গীকার
- আপডেট সময় : ০৭:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

পবায় বর্ষাকালীন কমিউনিটি বীজ বিনিময় উৎসব, দেশীয় বীজ সংরক্ষণে কৃষকদের অঙ্গীকার
জলবায়ু সহনশীল কৃষি, দেশীয় বীজ সংরক্ষণ ও কৃষকদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজন
রাজশাহীর পবায় বর্ষাকালীন কমিউনিটি বীজ বিনিময় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে কৃষিজীবী জনগোষ্ঠীর মধ্যে দেশীয় বীজ সংরক্ষণ, বীজ বিনিময় এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি চর্চা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক ও কৃষাণিরা নিজেদের সংরক্ষিত বর্ষা মৌসুমের বিভিন্ন ফল, সবজি, ঔষধি ও অন্যান্য ফসলের বীজ প্রদর্শন ও বিনিময় করেন। আয়োজনের শুরুতে অনুসন্ধানমূলক আলোচনা পরিচালনা করেন বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় বেশ কয়েকটি দেশীয় বীজ ও উদ্ভিদ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এর মধ্যে রয়েছে দেশি বরবটি, বুনলা, পিরাকল, আমলকি, আতা, লেওয়া, বনকাঁঠাল, গাব, লটকন, বহেড়া, সাদা লজ্জাবতী, লাল কুচকড়ি, বহলা, নিশিন্দা, সাদা জবা ও হেলেঞ্চা।

স্থানীয় কৃষাণি মোছা. রুবিনা খাতুন বলেন, “আগে আমাদের বাজার থেকে বীজ কিনতে হতো। এখন নিজেদের সংরক্ষিত দেশীয় বীজ বিনিময়ের মাধ্যমে সহজেই ভালো মানের বীজ সংগ্রহ করতে পারছি। এতে উৎপাদন খরচ কমছে, পাশাপাশি দেশীয় জাতের বীজও সংরক্ষিত হচ্ছে।”
অন্য অংশগ্রহণকারী মোছা. মুনিরা বেগম বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের সংরক্ষিত অনেক দেশীয় বীজ হারিয়ে যাচ্ছিল। এই ধরনের উৎসবের মাধ্যমে আবার সেসব বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও দেশীয় বীজ সম্পর্কে জানতে পারবে।”
বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে দেশীয় বীজ তুলনামূলকভাবে বেশি সহনশীল। তাই এসব বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময়ের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা জরুরি।”
উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সংরক্ষিত বিভিন্ন ধরনের সবজি, ফল, ঔষধি ও অন্যান্য ফসলের বীজ প্রয়োজন অনুযায়ী একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করেন। একই সঙ্গে বীজ সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি, নিরাপদ কৃষি চর্চা এবং জৈব কৃষির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
কৃষক প্রতিনিধিরা বলেন, বীজ শুধু কৃষি উৎপাদনের উপকরণ নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়মিত বীজ বিনিময় উৎসবের আয়োজন হলে কৃষকদের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়বে এবং দেশীয় বীজের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ আরও সহজ হবে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আতা, পেয়ারা, আমড়া, জাম ও সুপারির চারা বিতরণ করা হয়।


















