ঢাকা ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে উত্তাল রাজশাহী, রেল যোগাযোগ বন্ধ ঝিনাইগাতীর লুবনা গ্রীণ ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার পঞ্চগড়ে ৩৩ বেকার যুবককে বিজিবির বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ আটোয়ারী সেটেলমেন্ট অফিসে দালালের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, হয়রানির শিকার জমির মালিকরা সংস্কারের অভাবে বেহাল রুহিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ঝুঁকিতে কালভার্ট শেরপুর জেলা যুবদলের সভাপতি আতা, সম্পাদক শওকত ঝিনাইগাতীতে নিহত নারায়ন কোচের পরিবারকে দুধাল গাভী উপহার ভেড়ামারায় অপহরণের পর ধ/র্ষ/ণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরুণীর মৃ/ত্যু মোহনপুরে মাদকবিরোধী সচেতনতা সমাবেশ, র‌্যালি ও লিফলেট বিতরণ রাজশাহীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্লাড কেয়ার ফাউন্ডেশনের মাসব্যাপী কর্মসূচি

বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠে মাঠে ধানের চারা রোপণের উৎসব

মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ২৪১ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠে মাঠে ধানের চারা রোপণের উৎসব

৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার টন

রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে ধানের চারা রোপণের উৎসব। চলতি মৌসুমে জেলার নয়টি উপজেলায় প্রায় ৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বীজতলা থেকে চারা তোলা ও রোপণের কাজ। এ আবাদ থেকে প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৩০৩ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলার তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, বাগমারা, পবা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, বাঘা ও চারঘাট—এই নয়টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ করা হচ্ছে। গত জানুয়ারি মাস থেকেই বোরো রোপণের কাজ শুরু হয়েছে, যা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ইতোমধ্যে প্রায় ২৭ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে গোদাগাড়ী, তানোর, পবা ও মোহনপুর উপজেলার মাঠগুলো এখন কৃষকদের কর্মতৎপরতায় মুখর হয়ে উঠেছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, আগে পুরোনো জাতের ধান চাষ করতেন, ফলে ফলন কম হতো। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে নতুন জাতের বীজ ব্যবহার করছেন। তার আশা, এবার ফলন কয়েক মণ বেশি হবে।

পবা উপজেলার দারুশা এলাকার কৃষক মতিউর রহমান জানান, শীত বেশি থাকায় বীজতলা তৈরিতে কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী পলিথিন দিয়ে ঢেকে চারাগুলো রক্ষা করায় এখন চারা বেশ শক্ত হয়েছে এবং ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

তবে উৎপাদনের আশা থাকলেও বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে অনেক কৃষকের। তানোর উপজেলার কৃষক সফিকুল ইসলাম বলেন, ডিজেল ও সারের দাম বাড়ায় চাষাবাদের খরচও বেড়েছে। বিশেষ করে বর্গাচাষিদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বছর রাজশাহীর মাঠগুলোতে আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদও বেড়েছে। কৃষকরা ব্রি ধান-২৮ ও ২৯ এর পাশাপাশি উচ্চফলনশীল ব্রি ধান-৮৯, ব্রি ধান-৯২ এবং জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০০ জাতের ধান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এবার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট যাতে না তৈরি হয় সে বিষয়েও সরকারের দৃষ্টি কামনা করেছেন কৃষকরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মিতা সরকার বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক জমিতে ইতোমধ্যে বোরো রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রোপণ শেষ হবে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে লাভ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠে মাঠে ধানের চারা রোপণের উৎসব

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠে মাঠে ধানের চারা রোপণের উৎসব

৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার টন

রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে ধানের চারা রোপণের উৎসব। চলতি মৌসুমে জেলার নয়টি উপজেলায় প্রায় ৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বীজতলা থেকে চারা তোলা ও রোপণের কাজ। এ আবাদ থেকে প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৩০৩ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলার তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, বাগমারা, পবা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, বাঘা ও চারঘাট—এই নয়টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ করা হচ্ছে। গত জানুয়ারি মাস থেকেই বোরো রোপণের কাজ শুরু হয়েছে, যা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ইতোমধ্যে প্রায় ২৭ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে গোদাগাড়ী, তানোর, পবা ও মোহনপুর উপজেলার মাঠগুলো এখন কৃষকদের কর্মতৎপরতায় মুখর হয়ে উঠেছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, আগে পুরোনো জাতের ধান চাষ করতেন, ফলে ফলন কম হতো। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে নতুন জাতের বীজ ব্যবহার করছেন। তার আশা, এবার ফলন কয়েক মণ বেশি হবে।

পবা উপজেলার দারুশা এলাকার কৃষক মতিউর রহমান জানান, শীত বেশি থাকায় বীজতলা তৈরিতে কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী পলিথিন দিয়ে ঢেকে চারাগুলো রক্ষা করায় এখন চারা বেশ শক্ত হয়েছে এবং ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

তবে উৎপাদনের আশা থাকলেও বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে অনেক কৃষকের। তানোর উপজেলার কৃষক সফিকুল ইসলাম বলেন, ডিজেল ও সারের দাম বাড়ায় চাষাবাদের খরচও বেড়েছে। বিশেষ করে বর্গাচাষিদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বছর রাজশাহীর মাঠগুলোতে আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদও বেড়েছে। কৃষকরা ব্রি ধান-২৮ ও ২৯ এর পাশাপাশি উচ্চফলনশীল ব্রি ধান-৮৯, ব্রি ধান-৯২ এবং জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০০ জাতের ধান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এবার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট যাতে না তৈরি হয় সে বিষয়েও সরকারের দৃষ্টি কামনা করেছেন কৃষকরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মিতা সরকার বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক জমিতে ইতোমধ্যে বোরো রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রোপণ শেষ হবে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে লাভ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।