ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় বাবার সঙ্গে অভিমানের পর যুবকের আ/ত্ম/হ/ত্যা বাগাতিপাড়ায় ১০ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক জাতীয় পদক অর্জন করায় ফজলে রাব্বীকে সংবর্ধনা লালপুরে ১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক, মাদক আইনে মামলা লালপুরে ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত পথচারীর মৃত্যু ঝিনাইগাতীতে ঘোড়া জবাই করে মাংস পাচারের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে রুয়েটে তালগাছের চারা রোপণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যার পানিতে গোসল করতে গিয়ে প্রাণ গেল একই গ্রামের ৫ কিশোরীর, শোকে স্তব্ধ চর চাকলা সৌদি আরবে কারখানায় আগুনে নিহত শ্যামলের দাফন, তিন মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা পরিবার নাটোরে ১৪০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

কিছু ব্যক্তির কুপরামর্শে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: গোলাম পরওয়ার

এম এম মামুনঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ২২৬ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিছু ব্যক্তির কুপরামর্শে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: গোলাম পরওয়ার

রাজশাহীতে সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের অভিযোগ

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কুপরামর্শেই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলকে নিষিদ্ধকরণসহ পাঁচ দফা দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের সব বিভাগীয় শহরে পর্যায়ক্রমে এমন সমাবেশ হবে—প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহীতে।

সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সরকার যে ডেটলাইন দিয়েছে তা আমরা মেনে নিয়েছি। নির্বাচনেও প্রস্তুত আমরা। কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না—এ প্রশ্ন এখন জাতির সামনে। অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু ব্যক্তির কুপরামর্শে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা প্রধান উপদেষ্টা ও ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যানকে বহুবার জানিয়েছি—এতে কী ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। তারপরও আমাদের কথা শোনা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারকে কোনো সংকটে ফেলতে চাই না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই কথা বলে যাচ্ছি। এখনও সময় আছে—জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের তারিখ পরিবর্তন করুন। জনগণের ম্যান্ডেট নষ্টের কোনো চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না। জুলাই সনদের আলোকে আগে গণভোট, পরে পার্লামেন্ট গঠিত হওয়ার কথা—এই ক্রমে পরিবর্তন জনগণ মানবে না।”

বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, “একটি দল শুরু থেকেই সংস্কারের বিরুদ্ধে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে আসছে। এখন জনতার চাপে তারা নিরুপায় হলেও এখনও ষড়যন্ত্র করছে—কীভাবে ভোট পেছানো যায়, কীভাবে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট করা যায় এবং কীভাবে সংস্কারের ধারাবাহিকতাকে নষ্ট করা যায়।”

নির্বাচনি পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো তৈরি হয়নি। একটি দলের গোপন তৎপরতায় ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসিদের অযথা বদলি করা হচ্ছে। প্রশাসনকে প্রভাবিত করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি অফিস ও মিটিংয়ে হামলা হচ্ছে। প্রশাসন যদি এখনই এসব নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারে, তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “৫৪ বছরে আমরা তিনটি দলকে ক্ষমতায় দেখেছি—প্রত্যেক সময়ে বাংলাদেশ দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। তারা সন্ত্রাস করেছে, লুটপাট করেছে, ভিন্নমত দমন করেছে। ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের কারাগার, রিমান্ড, ক্রসফায়ার কিংবা ফাঁসিতে হত্যা করা হয়েছে। আগামী বাংলাদেশ হবে দুর্নীতিকে লালকার্ড দেখানোর বাংলাদেশ।”

জোট সম্প্রসারণ বিষয়ে তিনি জানান, “আমাদের আটদলীয় জোট আরও বড় হচ্ছে। বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে জোটে যুক্ত হতে আবেদন করেছে। খুব শিগগিরই জোটের পরিধি বাড়বে।”

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কিছু ব্যক্তির কুপরামর্শে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: গোলাম পরওয়ার

আপডেট সময় : ০৩:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

কিছু ব্যক্তির কুপরামর্শে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: গোলাম পরওয়ার

রাজশাহীতে সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের অভিযোগ

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কুপরামর্শেই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলকে নিষিদ্ধকরণসহ পাঁচ দফা দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের সব বিভাগীয় শহরে পর্যায়ক্রমে এমন সমাবেশ হবে—প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহীতে।

সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সরকার যে ডেটলাইন দিয়েছে তা আমরা মেনে নিয়েছি। নির্বাচনেও প্রস্তুত আমরা। কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না—এ প্রশ্ন এখন জাতির সামনে। অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু ব্যক্তির কুপরামর্শে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা প্রধান উপদেষ্টা ও ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যানকে বহুবার জানিয়েছি—এতে কী ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। তারপরও আমাদের কথা শোনা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারকে কোনো সংকটে ফেলতে চাই না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই কথা বলে যাচ্ছি। এখনও সময় আছে—জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের তারিখ পরিবর্তন করুন। জনগণের ম্যান্ডেট নষ্টের কোনো চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না। জুলাই সনদের আলোকে আগে গণভোট, পরে পার্লামেন্ট গঠিত হওয়ার কথা—এই ক্রমে পরিবর্তন জনগণ মানবে না।”

বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, “একটি দল শুরু থেকেই সংস্কারের বিরুদ্ধে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে আসছে। এখন জনতার চাপে তারা নিরুপায় হলেও এখনও ষড়যন্ত্র করছে—কীভাবে ভোট পেছানো যায়, কীভাবে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট করা যায় এবং কীভাবে সংস্কারের ধারাবাহিকতাকে নষ্ট করা যায়।”

নির্বাচনি পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো তৈরি হয়নি। একটি দলের গোপন তৎপরতায় ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসিদের অযথা বদলি করা হচ্ছে। প্রশাসনকে প্রভাবিত করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি অফিস ও মিটিংয়ে হামলা হচ্ছে। প্রশাসন যদি এখনই এসব নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারে, তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “৫৪ বছরে আমরা তিনটি দলকে ক্ষমতায় দেখেছি—প্রত্যেক সময়ে বাংলাদেশ দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। তারা সন্ত্রাস করেছে, লুটপাট করেছে, ভিন্নমত দমন করেছে। ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের কারাগার, রিমান্ড, ক্রসফায়ার কিংবা ফাঁসিতে হত্যা করা হয়েছে। আগামী বাংলাদেশ হবে দুর্নীতিকে লালকার্ড দেখানোর বাংলাদেশ।”

জোট সম্প্রসারণ বিষয়ে তিনি জানান, “আমাদের আটদলীয় জোট আরও বড় হচ্ছে। বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে জোটে যুক্ত হতে আবেদন করেছে। খুব শিগগিরই জোটের পরিধি বাড়বে।”

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।