ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাণীশংকৈলে নারীসহ দুইজনকে মাদক মামলায় কারাদণ্ড উন্নয়ন প্রশ্নে কারও রক্তচক্ষুকে ভয় করি না- লালপুরে নারী এমপি তুলি তেঁতুলিয়ায় সেতুর দাবিতে মানববন্ধন, দুর্ভোগে ৫ গ্রামের ১৫ হাজার কৃষক পুঠিয়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নারি নিহত, দুই কিশোর আহত লালপুরে ১১ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জয় আটক নলডাঙ্গায় গাঁজার গাছসহ এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার, পলাতক ভাই ঝিনাইগাতীতে ৪৯০ ট্যাপেন্টাডল ও দুই মোবাইল ফোন জব্দ লালপুরে ২০ ইয়াবাসহ যুবক আটক, আগেও মাদক মামলায় অভিযুক্ত নারী কণ্ঠে প্রতারণা, পরে প্রবাসীর বন্ধু সেজে টাকা দাবি; লালপুরে আটক ৩ নাটোরে খেজুরগাছের ডাল কাটতে গিয়ে ভিমরুলের হুলে বৃদ্ধার মৃত্যু

গোদাগাড়ীতে ব্রিধান-১০৩ এর উচ্চ ফলন: নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস পালন

মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ২১৯ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোদাগাড়ীতে ব্রিধান-১০৩ এর উচ্চ ফলন: নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস পালন

ব্রি উদ্ভাবিত এ জাত বাতাস-বৃষ্টি সহনশীল, ফলন স্বর্ণার চেয়ে বেশি—বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান-১০৩ জাতের ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ঘনশ্যামপুর মাঠে নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস পালন করে ব্রির আঞ্চলিক কার্যালয়, রাজশাহী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হান্নান আলী। আরও উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তাপস কুমার হোড়, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুমনা হক, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন, ফার্ম ম্যানেজার মোখলেসুর রহমান, এসএএও আব্দুল্লাহ আল মারুফ ও কৃষক মতিউর রহমান।

মাঠ দিবসে বক্তারা জানান, আমন মৌসুমে স্বর্ণা ধান রাজশাহীর কৃষকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। তবে এ বছর ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাবে বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে স্বর্ণা ধানের অধিকাংশ জমিতে ধান শুয়ে পড়ে। কিন্তু ঘনশ্যামপুরের কৃষক মতিউর রহমান তার ৬ বিঘা জমিতে ব্রিধান-১০৩ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতি বিঘায় তিনি ২৪ মণ করে ফলন পেয়েছেন।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা বলেন, ব্রিধান-১০৩ জাতের গাছ স্বর্ণার তুলনায় লম্বা ও কাণ্ড শক্ত। তাই ঝড়-বাতাসেও এই জাত সহজে ল Lodging হয় না। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম, ফলে উৎপাদন খরচ কমে এবং লাভ বাড়ে। এই ধান স্বর্ণার চেয়ে প্রায় ১৫ দিন আগে পাকে—যা এলাকায় পরবর্তী আলু চাষের জন্যও সুবিধাজনক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণা যেখানে গড়ে ১৯ মণ পর্যন্ত ফলন দেয়, সেখানে ব্রিধান-১০৩ জাতে ২২ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এই জাতের খড়ও শক্ত হওয়ায় বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি।

প্রধান অতিথি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, “ব্রিধান-১০৩ এর ফলন, রোগ-সহনশীলতা ও বাতাসে না শোয়ার সক্ষমতা কৃষকদের বাড়তি লাভ দেবে। আগামী মৌসুমে এই জাত পুরো মাঠ জুড়ে চাষ করার আহ্বান জানাই।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গোদাগাড়ীতে ব্রিধান-১০৩ এর উচ্চ ফলন: নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস পালন

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

গোদাগাড়ীতে ব্রিধান-১০৩ এর উচ্চ ফলন: নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস পালন

ব্রি উদ্ভাবিত এ জাত বাতাস-বৃষ্টি সহনশীল, ফলন স্বর্ণার চেয়ে বেশি—বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান-১০৩ জাতের ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ঘনশ্যামপুর মাঠে নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস পালন করে ব্রির আঞ্চলিক কার্যালয়, রাজশাহী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হান্নান আলী। আরও উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তাপস কুমার হোড়, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুমনা হক, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন, ফার্ম ম্যানেজার মোখলেসুর রহমান, এসএএও আব্দুল্লাহ আল মারুফ ও কৃষক মতিউর রহমান।

মাঠ দিবসে বক্তারা জানান, আমন মৌসুমে স্বর্ণা ধান রাজশাহীর কৃষকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। তবে এ বছর ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাবে বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে স্বর্ণা ধানের অধিকাংশ জমিতে ধান শুয়ে পড়ে। কিন্তু ঘনশ্যামপুরের কৃষক মতিউর রহমান তার ৬ বিঘা জমিতে ব্রিধান-১০৩ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতি বিঘায় তিনি ২৪ মণ করে ফলন পেয়েছেন।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা বলেন, ব্রিধান-১০৩ জাতের গাছ স্বর্ণার তুলনায় লম্বা ও কাণ্ড শক্ত। তাই ঝড়-বাতাসেও এই জাত সহজে ল Lodging হয় না। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম, ফলে উৎপাদন খরচ কমে এবং লাভ বাড়ে। এই ধান স্বর্ণার চেয়ে প্রায় ১৫ দিন আগে পাকে—যা এলাকায় পরবর্তী আলু চাষের জন্যও সুবিধাজনক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণা যেখানে গড়ে ১৯ মণ পর্যন্ত ফলন দেয়, সেখানে ব্রিধান-১০৩ জাতে ২২ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এই জাতের খড়ও শক্ত হওয়ায় বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি।

প্রধান অতিথি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, “ব্রিধান-১০৩ এর ফলন, রোগ-সহনশীলতা ও বাতাসে না শোয়ার সক্ষমতা কৃষকদের বাড়তি লাভ দেবে। আগামী মৌসুমে এই জাত পুরো মাঠ জুড়ে চাষ করার আহ্বান জানাই।”