ঢাকা ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বগুড়ায় মশার কয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা গোদাগাড়ীতে বাল্যবিবাহ বন্ধ, ইমাম ও বরপক্ষকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত পঞ্চগড়ে ডিম ব্যবসায়ীকে জরিমানা, অন্যদের সতর্ক বনশ্রী সোসাইটির কমন ফ্যাসিলিটিজের জায়গা পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন মান্দায় স্কুলের সামনে ভটভটির ধাক্কায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত নকলায় মাদ্রাসাছাত্রী অপহরণ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার শ্রীবরদী সীমান্তে ভারতীয় কসমেটিকস ও অটোভ্যান আটক নলডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে এক ব্যক্তির কারাদণ্ড তামাক-নিকোটিন পণ্য এসডিজি অর্জনে বড় বাধা: গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা

পবায় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২

এম এম মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০২:২২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০২৪ ২৪৬ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পবায় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২

রাজশাহীতে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে তোফাইরুল ইসলাম রাহাত (২৫) নামের এক যুবককে এক সপ্তাহ ধরে নির্যাতন করা হয়েছে। চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে লোহার পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের কারণে রাহাতের ডান পা ভেঙে গেছে এবং দুই হাত, গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা এলাকার সূর্যোদয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, আহত রাহাতকে উদ্ধার করতে গেলে তার স্ত্রী, বোন এবং নিকটাত্মীয়দের আটকে রাখেন নিরাময় কেন্দ্রের মালিক এবং তার কর্মচারীরা। উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে তোফাইরুল ইসলাম রাহাতকে চিকিৎসা করানো হয়েছে।
রাহাতের স্ত্রী ফারাজানা আক্তার লাবণ্য তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করে গত শনিবার পবা থানায় মামলা করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন ওই নিরাময় কেন্দ্রের মালিক ফেরদৌস হাসান, ব্যবস্থাপক শুভ কুমার রনি ও ইমতিয়াজ আহমেদ ডালিম। তাদের মধ্যে পুলিশ রনি ও ডালিমকে গ্রেপ্তার করেছে। নিরাময় কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নির্যাতনে ব্যবহৃত লোহার পাইপ এবং চেতনানাশক ইনজেকশনের সিরিঞ্জসহ অন্যান্য আলামত।

ফেরদৌস হাসান বলেন, ‘রাহাতের বোন আইনজীবী শিরিন সুলতানা মেঘলা আমাকে ব্ল্যাকমেল (প্রতারণা) করার চেষ্টা করছেন। তার ভাই রাহাত নিরাময় কেন্দ্রে অন্য মাদকাসক্ত রোগীদের নিয়ে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছিলেন। তাই তাকে সামান্য মারধর করা হয়েছে।’

রাহাতের বোন আইনজীবী শিরিন সুলতানা মেঘলা বলেন, ‘আমরা রাজশাহী মহানগরীর ষষ্ঠীতলা এলাকায় বসবাস করি। আমাদের একটি প্লট রয়েছে। প্লটটিতে ডেভেলপার দিয়ে বহুতল ভবন করার কথাবার্তা চলছে। আমরা তিন ভাইবোন, বাবা নেই। আমার ভাই রাহাতও এ প্লটের অংশীদার। বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলে রাহাত টাকা পাবে। বিষয়টি জানার পর থেকে নিরাময় কেন্দ্রের মালিক ফেরদৌস নানা অজুহাতে রাহাতকে টাকার জন্য চাপ দেওয়া শুরু করেন। রাহাত রাজি না হওয়ায় তাকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি আমাদেরও আটকে রেখে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে।

পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, দুই আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মালিক ফেরদৌসকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পবায় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় : ০২:২২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০২৪

পবায় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২

রাজশাহীতে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে তোফাইরুল ইসলাম রাহাত (২৫) নামের এক যুবককে এক সপ্তাহ ধরে নির্যাতন করা হয়েছে। চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে লোহার পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের কারণে রাহাতের ডান পা ভেঙে গেছে এবং দুই হাত, গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা এলাকার সূর্যোদয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, আহত রাহাতকে উদ্ধার করতে গেলে তার স্ত্রী, বোন এবং নিকটাত্মীয়দের আটকে রাখেন নিরাময় কেন্দ্রের মালিক এবং তার কর্মচারীরা। উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে তোফাইরুল ইসলাম রাহাতকে চিকিৎসা করানো হয়েছে।
রাহাতের স্ত্রী ফারাজানা আক্তার লাবণ্য তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করে গত শনিবার পবা থানায় মামলা করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন ওই নিরাময় কেন্দ্রের মালিক ফেরদৌস হাসান, ব্যবস্থাপক শুভ কুমার রনি ও ইমতিয়াজ আহমেদ ডালিম। তাদের মধ্যে পুলিশ রনি ও ডালিমকে গ্রেপ্তার করেছে। নিরাময় কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নির্যাতনে ব্যবহৃত লোহার পাইপ এবং চেতনানাশক ইনজেকশনের সিরিঞ্জসহ অন্যান্য আলামত।

ফেরদৌস হাসান বলেন, ‘রাহাতের বোন আইনজীবী শিরিন সুলতানা মেঘলা আমাকে ব্ল্যাকমেল (প্রতারণা) করার চেষ্টা করছেন। তার ভাই রাহাত নিরাময় কেন্দ্রে অন্য মাদকাসক্ত রোগীদের নিয়ে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছিলেন। তাই তাকে সামান্য মারধর করা হয়েছে।’

রাহাতের বোন আইনজীবী শিরিন সুলতানা মেঘলা বলেন, ‘আমরা রাজশাহী মহানগরীর ষষ্ঠীতলা এলাকায় বসবাস করি। আমাদের একটি প্লট রয়েছে। প্লটটিতে ডেভেলপার দিয়ে বহুতল ভবন করার কথাবার্তা চলছে। আমরা তিন ভাইবোন, বাবা নেই। আমার ভাই রাহাতও এ প্লটের অংশীদার। বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলে রাহাত টাকা পাবে। বিষয়টি জানার পর থেকে নিরাময় কেন্দ্রের মালিক ফেরদৌস নানা অজুহাতে রাহাতকে টাকার জন্য চাপ দেওয়া শুরু করেন। রাহাত রাজি না হওয়ায় তাকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি আমাদেরও আটকে রেখে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে।

পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, দুই আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মালিক ফেরদৌসকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।