ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে লালপুর-বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, দুই এজাহারে ২৫ জনের নাম পঞ্চগড়ে দরিদ্র নারীদের মাঝে দুইটি করে মা ছাগল বিতরণ মান্দায় মোবাইল কোর্টে ৪ ব্যবসায়ীকে ৩২ হাজার টাকা জরিমানা রাণীশংকৈলে কৃষি ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ বড়াইগ্রামে ডোবার পানিতে পড়ে দুই বছরের শিশু নাইম’র মৃত্যু শ্রীবরর্দী সীমান্তে ৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ পবায় অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক বন্ধের দাবি কৃষকদের চীনের বাজার ধরতে রাজশাহীর রেশমকে আধুনিকায়ন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী নলডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৪ মাসের কারাদণ্ড গোদাগাড়ীতে দুই ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই কলেজছাত্র নিহত

ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে লালপুর-বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, দুই এজাহারে ২৫ জনের নাম

নাটোর প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৪৪৪ বার পড়া হয়েছে

Representative image

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে লালপুর-বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, দুই এজাহারে ২৫ জনের নাম

নাটোর প্রতিনিধি:
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের জেরে নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

এজাহারে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে লালপুরের ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০ থেকে ৫০ জন এবং বাগাতিপাড়ার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় এসব এজাহার দেন।

লালপুর উপজেলা প্রশাসনের এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। পরে ৪০ থেকে ৫০ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় ইউএনও, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তারা কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ করা হয়, বিক্ষুব্ধরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে নিয়োগের ফলাফল বাতিলের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মারধর করে তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র লাথি দিয়ে এলোমেলো করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, ইউএনওর কক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরা বন্ধ করার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলা হয়। কয়েকজন ইউএনওকে ঘিরে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইউএনওকে কার্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ভেতরে থাকা ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা ইউএনওর গায়ে ও কক্ষে ডিম ছুড়ে মারেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিক্ষুব্ধরা কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আবারও জড়ো হন বলে অভিযোগ করা হয়।

অন্যদিকে, বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসনের এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট সকালে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে শতাধিক লোক উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে জড়ো হন।

পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে দরজা খুলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় কার্যালয়ের বারান্দায় থাকা কয়েকটি ফুলের টব ও একটি স্টিলের গেট ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভকারীদের ছুড়ে মারা একটি প্লাস্টিকের চেয়ার ইউএনও কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার কপালে আঘাত করে।

এ ছাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মচারী ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করার সময় বিক্ষোভকারীরা তাকে মারধর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনকে ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে তারা সেখানে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ইউএনওর টেবিলে আঘাত করে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলার অভিযোগও করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের প্রকাশিত ফলাফলের যেসব রোল নম্বর নিয়ে আপত্তি রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিতভাবে দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষুব্ধরা তা না করে পুরো ফলাফল বাতিলের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করেন। ইউএনও তাদের দাবির আইনগত ভিত্তি বোঝানোর চেষ্টা করলে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং পরের দিন আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটবে বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাগাতিপাড়ার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সরকারি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, কর্মকর্তাদের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “গতকাল সন্ধ্যায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ইউএনও কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, নাটোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে লালপুর-বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, দুই এজাহারে ২৫ জনের নাম

আপডেট সময় : ১২:০৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে লালপুর-বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, দুই এজাহারে ২৫ জনের নাম

নাটোর প্রতিনিধি:
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের জেরে নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

এজাহারে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে লালপুরের ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০ থেকে ৫০ জন এবং বাগাতিপাড়ার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় এসব এজাহার দেন।

লালপুর উপজেলা প্রশাসনের এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। পরে ৪০ থেকে ৫০ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় ইউএনও, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তারা কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ করা হয়, বিক্ষুব্ধরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে নিয়োগের ফলাফল বাতিলের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মারধর করে তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র লাথি দিয়ে এলোমেলো করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, ইউএনওর কক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরা বন্ধ করার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলা হয়। কয়েকজন ইউএনওকে ঘিরে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইউএনওকে কার্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ভেতরে থাকা ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা ইউএনওর গায়ে ও কক্ষে ডিম ছুড়ে মারেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিক্ষুব্ধরা কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আবারও জড়ো হন বলে অভিযোগ করা হয়।

অন্যদিকে, বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসনের এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট সকালে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে শতাধিক লোক উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে জড়ো হন।

পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে দরজা খুলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় কার্যালয়ের বারান্দায় থাকা কয়েকটি ফুলের টব ও একটি স্টিলের গেট ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভকারীদের ছুড়ে মারা একটি প্লাস্টিকের চেয়ার ইউএনও কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার কপালে আঘাত করে।

এ ছাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মচারী ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করার সময় বিক্ষোভকারীরা তাকে মারধর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনকে ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে তারা সেখানে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ইউএনওর টেবিলে আঘাত করে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলার অভিযোগও করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের প্রকাশিত ফলাফলের যেসব রোল নম্বর নিয়ে আপত্তি রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিতভাবে দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষুব্ধরা তা না করে পুরো ফলাফল বাতিলের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করেন। ইউএনও তাদের দাবির আইনগত ভিত্তি বোঝানোর চেষ্টা করলে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং পরের দিন আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটবে বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাগাতিপাড়ার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সরকারি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, কর্মকর্তাদের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “গতকাল সন্ধ্যায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ইউএনও কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, নাটোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।