পবায় অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক বন্ধের দাবি কৃষকদের
- আপডেট সময় : ০৮:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

পবায় অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক বন্ধের দাবি কৃষকদের
এম এম মামুন:
রাজশাহীর পবায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশকমুক্ত নিরাপদ কৃষি উৎপাদন এবং স্থানীয় বীজ সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন বড়গাছি গ্রামের কৃষক-কৃষাণীরা। একই সঙ্গে অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের ব্যবহার ও অবাধ বিক্রি বন্ধেরও দাবি জানান তারা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বড়গাছি গ্রামে এগ্রোইকোলজি, খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ে আয়োজিত কমিউনিটি আলোচনা সভায় এসব দাবি জানানো হয়। গ্রিন কোয়ালিশনের গ্রাসরুট নারীদের উদ্যোগে এবং উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় নিরাপদ কৃষি চর্চায় যুক্ত ৩০ জন নারী ও পুরুষ কৃষক অংশ নেন।
বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার তৌহিদুলের সঞ্চালনায় সভায় কৃষকরা নিরাপদ কৃষি উৎপাদনে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে গ্রামে পাখির সংখ্যা কমে গেছে। এতে ফসলে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের প্রকোপ বেড়েছে। পাশাপাশি বিল ও কৃষিজমির পানি বারনই নদীতে গিয়ে মেশায় নদীর দেশীয় মাছের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।
বড়গাছির দাদপুর বাগিচাপাড়ার এগ্রোইকোলজি চর্চাকারী তরুণ কৃষক হৃদয় হাসান বলেন, “কীটনাশক ক্রয়ের মাধ্যমে আমাদের পকেটের টাকা অন্যজন খাচ্ছে। আমাদের পকেটের টাকা বাঁচাতে হবে। এজন্য এগ্রোইকোলজি চর্চা করতে হবে। জৈব বালাই তৈরি ও ব্যবহার শিখতে হবে।”
মাধবপুরের কৃষাণী রুবিনা বেগম বলেন, “আমরা নিমপাতা, ছাই, বিষকাঠালি, মেহগনির বীজসহ বিভিন্ন গাছের ছাল ও পাতা থেকে রস তৈরি করে জৈব বালাই হিসেবে ব্যবহার করি। এতে পোকামাকড় দমন করা সম্ভব।”
কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, “আমি ১০ কাঠা জমিতে পেঁপে চাষ করছি। পরীক্ষার জন্য কিছু গাছে জৈব বালাই ব্যবহার করিনি। সেসব গাছে অনেক দাগ পড়েছে। অন্যদিকে নিমপাতার রস ব্যবহার করা গাছগুলোতে আর কোনো দাগ পড়েনি। কে বলে বিষ ছাড়া আবাদ হয় না? সঠিকভাবে জৈব সার ও জৈব বালাই ব্যবহার করলে বিষমুক্ত উপায়ে ফসল উৎপাদন সম্ভব।”
গ্রিন কোয়ালিশন পবা উপজেলার কৃষাণী রহিমা বেগম বলেন, “আমরা যখন ঘরের কাছেই প্রয়োজনীয় কৃষি সম্পদ পাচ্ছি এবং সেখান থেকে সহজেই জৈব বালাই তৈরি করতে পারছি, তখন কেন আমরা বিষ কিনে জমিতে দেব? ক্ষতিকর কীটনাশকের অবাধ বিজ্ঞাপন ও বিক্রি বন্ধ করতে হবে এবং নিরাপদ কৃষিকে আরও সম্প্রসারণ করতে হবে।”
সভায় জানানো হয়, বড়গাছি ইউনিয়নে বর্তমানে ৩০টি মডেল শতবাড়ি, দুটি এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার (এএলসি) ও কমিউনিটি বীজ ব্যাংক রয়েছে। মডেল শতবাড়িগুলোতে মৌসুমভিত্তিক স্থানীয় বীজ উৎপাদন করা হয়। অতিরিক্ত বীজ এএলসিতে সংরক্ষণ করা হয় এবং অন্যান্য বীজ কৃষক-কৃষাণীদের মধ্যে বিনিময় করা হয়। এএলসিতে কৃষক-কৃষাণীদের জৈব বালাই তৈরি ও ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।
সভায় নারী কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত বীজ প্রদর্শন করে স্থানীয় বীজের সংরক্ষণ ও বীজ সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার দাবি জানান। একই সঙ্গে গ্রামের ভেতরে ক্ষতিকর কীটনাশক বিক্রি বন্ধের দাবি তোলেন তারা।
বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, “আমরা আর বিষ খেতে চাই না। কৃষকরাও নিরাপদ উপায়ে খাদ্য উৎপাদন করতে চান। এজন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধ ও কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এগ্রোইকোলজিতে রূপান্তরের কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে।”
সভা থেকে স্থানীয়ভাবে বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে ইউনিয়নভিত্তিক সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি, কমিউনিটি বীজ ব্যাংক সম্প্রসারণ, কৃষকের স্থানীয় জ্ঞান ও এগ্রোইকোলজি চর্চার স্বীকৃতি এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ও অবাধ বিক্রি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানানো হয়।



















