ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইডে মিলল ন্যায্য সমাধান, জমি ফিরে পেলেন ভ্যানচালক আব্দুল করিম
- আপডেট সময় : ০৩:১৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৬৪ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইডে মিলল ন্যায্য সমাধান, জমি ফিরে পেলেন ভ্যানচালক আব্দুল করিম
দীর্ঘদিনের জমি ও রাস্তা বিরোধ নিষ্পত্তি, বিনামূল্যে আইনি সহায়তায় স্বস্তি ফিরল দরিদ্র পরিবারের জীবনে
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার গড়ভবানীপুর কাঠালডাঙ্গী এলাকায় জমি ও যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে। আইনের আশ্রয় নিয়ে ন্যায়বিচার পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে দরিদ্র ভ্যানচালক মো. আব্দুল করিমের জীবনে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. আব্দুল করিম তার ক্রয়কৃত ২৫ শতক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। বসতভিটার সঙ্গে সংযুক্ত যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশী লুৎফর রহমান, মর্জিনা বেগম, মোবারক, মজিবর ও মোছা রুনাদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা রাস্তা বন্ধ করার চেষ্টা এবং জমি দখলের পাঁয়তারা চালান।
এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান না পেয়ে গত ২০ জুলাই ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আব্দুল করিম।
অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা লিগ্যাল এইড অফিস প্রতিপক্ষদের সমন জারি করে। পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে একই দিনে আপস-মিমাংসার লক্ষ্যে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মজনু মিয়া মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আইনগতভাবে সমাধানের পথ দেখান। একপর্যায়ে বিবাদীরা তাদের দখলে থাকা জমি ভুক্তভোগী আব্দুল করিমকে বুঝিয়ে দিতে সম্মত হন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে জমি মাপযোগ করে আব্দুল করিমকে সম্পূর্ণ দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
ন্যায়বিচার পেয়ে আব্দুল করিম বলেন, “আমি গরিব মানুষ। ভ্যান চালিয়ে যা আয় করি, তাতেই সংসার চলে। কোর্ট-কাচারি আর মামলা-মোকদ্দমা আমার মতো মানুষের কাছে সবসময়ই ভয় আর দুশ্চিন্তার। আমি কখনো ভাবিনি একজন সাধারণ মানুষও আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেতে পারে। লিগ্যাল এইড শুধু আমার জমিই ফেরত দেয়নি, আইনের ওপর আমার বিশ্বাসও ফিরিয়ে দিয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মাজেদ, আরিফুল ও নুর মোহাম্মদ বলেন, জেলা লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতায় বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়ায় এলাকায় দীর্ঘদিনের উত্তেজনা দূর হয়েছে। একজন গরিব ভ্যানচালকও আইনের মাধ্যমে তার অধিকার ফিরে পেয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা সুজনের সভাপতি মো. আব্দুল লতিফ বলেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করে লিগ্যাল এইড সাধারণ মানুষের জন্য কতটা কার্যকর। ন্যায়বিচার কখনো শুধু বিত্তশালীদের বিষয় নয়। তবে এখনো অনেক মানুষ জানে না যে তারা বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পেতে পারেন। তাই লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে প্রচার করা প্রয়োজন।”
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) মজনু মিয়া বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়া এবং আপস-মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা। আজকের ঘটনাটি তারই একটি সফল উদাহরণ। এতে আদালতের ওপর চাপ কমে এবং মানুষ আইনের প্রতি আস্থা ফিরে পায়।”


























