ঋত্বিক ঘটকের বসতভিটা সংরক্ষণের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
- আপডেট সময় : ০৪:৩৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৮৩ বার পড়া হয়েছে

ঋত্বিক ঘটকের বসতভিটা সংরক্ষণের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
বসতভিটা ধ্বংসের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটকের বসতভিটা ভাঙার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ঐতিহ্যবাহী এই বসতভিটা সংরক্ষণের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে রাজশাহীর নাগরিকদের আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঋত্বিক কুমার ঘটক ছিলেন সেই ক্ষণজন্মা বাঙালি চলচ্চিত্রকারদের অন্যতম, যাঁর হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্র বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসন লাভ করেছে। তাঁর নির্মিত ‘সুবর্ণরেখা’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ও ‘অযান্ত্রিক’সহ বহু চলচ্চিত্র বাংলা চলচ্চিত্রের অমূল্য সম্পদ। এসব চলচ্চিত্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র শিক্ষার পাঠ্য হিসেবে স্বীকৃত।
বক্তারা আরও বলেন, রাজশাহী শহরের মিঞাপাড়ায় অবস্থিত ঋত্বিক কুমার ঘটকের ঐতিহ্যবাহী বসতভিটাটি গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ভেঙে ফেলা হয়। সে সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে জানানো হয়েছিল, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বসতভিটাটি অপরিবর্তিত থাকবে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ পুনরায় সেখানে থাকা ঋত্বিক ঘটকের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকুও মুছে ফেলার চেষ্টা করে। অভিযোগ রয়েছে, ভাঙা ইটগুলো শহরের খড়খড়ি বাইপাস এলাকায় শাহমখদুম নার্সিং কলেজের পাশে একটি পুকুর ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে একদিকে ঐতিহ্য ধ্বংস, অন্যদিকে পরিবেশ ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে।
মানববন্ধনে রাজশাহীর চলচ্চিত্র সংসদ কর্মী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, যুব সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা অবিলম্বে ঋত্বিক ঘটকের বসতভিটা ভাঙা ও স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে বসতভিটা থেকে সরিয়ে নেওয়া ঐতিহ্যবাহী ইটগুলো দ্রুত ফিরিয়ে আনা ও পুরো বসতভিটা সংরক্ষণের জোর দাবি তোলা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও দাবি করা হয়—ঋত্বিক কুমার ঘটকের পৈতৃক বসতভিটার অবশিষ্ট ০.১৬০৩ একর জমি সংরক্ষণ করে সেটিকে ‘ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার জন্য অবমুক্ত ঘোষণা করতে হবে; রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নামে থাকা ইজারা পুনর্বিবেচনা ও বাতিল করতে হবে; অবশিষ্ট অংশ সীমানা প্রাচীর দিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে এবং সেখানে ‘ঋত্বিক কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থান’ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে। ভবিষ্যতে সেখানে ‘ঋত্বিক কমপ্লেক্স’, ‘ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র কেন্দ্র’ ও ‘ঋত্বিক ফিল্ম ইন্সটিটিউট’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির নির্বাহী সদস্য মো. আতিকুর রহমান আতিকের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা আহসান কবীর লিটনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদ হোসেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাদিম সিনা, আদিবাসী যুব পরিষদের সভাপতি উপেন রবিদাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য সংগঠন স্বণনের সভাপতি মিজান শেখ, তীর্থক নাটকের সভাপতি আনোয়ার আমজাদ সজল, নারী নেত্রী ও সাংস্কৃতিক কর্মী ঈশিতা ইয়াসমিন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি তাহমিদ জাকিসহ আরও অনেকে।
পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়। একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংস্কৃতি, ভূমি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।




















