৫৫ বছরেও পাকা হয়নি ঝিনাইগাতীর ২ কিলোমিটার সড়ক, দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ
- আপডেট সময় : ০৭:০৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

৫৫ বছরেও পাকা হয়নি ঝিনাইগাতীর ২ কিলোমিটার সড়ক, দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ
মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা ও সরু সড়ক সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ। দেশ স্বাধীনের পর থেকেই সড়কটির উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। তবে ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়িত হয়নি সেই দাবি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নলকুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেফলাই এলাকার জগদীশ মাস্টারের বাড়ি থেকে কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও রিকশার গ্যারেজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে যানবাহন চলাচল তো বটেই, অনেক জায়গায় পায়ে হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ সড়ক দিয়ে ডেফলাই, গান্ধীগাঁও, বাকাকুড়া, ভালুকা ও ফুলহাড়ি গ্রামের শত শত মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম মাধ্যম এটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি সরু ও কাঁচা হওয়ায় এবং বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ থাকায় কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নেওয়া যায় না। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কাদা ও পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় কাদামাটি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে হয়।
ভালুকা এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক ও ডেফলাই গ্রামের সমাজসেবক আল আমীন তালুকদারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই সড়কটি সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। বিভিন্ন সময় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন-নিবেদন করা হয়েছে। উন্নয়নের আশ্বাসও মিলেছে একাধিকবার। কিন্তু দীর্ঘ ৫৫ বছরেও সড়কটির দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।
নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুকুনুজ্জামান বলেন, সড়কটি সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন সময় উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় আবেদন করা হয়েছে। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও আশ্বাস পাওয়া গেছে। তবে এখনো কাজ শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অন্তো বল জানান, সড়কটি সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নকাজ করা হবে।


















