ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বোদায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা নলডাঙ্গায় ক্ষতিকর পোকা শনাক্তে ‘আলোক ফাঁদ’, কমবে বালাইনাশকের ব্যবহার দেবীগঞ্জে প্যাকেটজাত দুধ পান করে ১৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ, তদন্তের দাবি বগুড়ার ইলেকট্রিক মার্কেটে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ৮ প্রতিষ্ঠানকে ৭ দিনের সময় গোদাগাড়ীতে হঠাৎ তীব্র পদ্মার ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ ৫৫ বছরেও পাকা হয়নি ঝিনাইগাতীর ২ কিলোমিটার সড়ক, দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাবিতে মানববন্ধন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ, থানায় মামলা দায়ের নলডাঙ্গায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের উদ্যোগ

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময় : ১০:০১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Benapul News

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

স্টাফ রিপোর্টারঃ
যশোরের শার্শার বেনাপোল কাস্টমস ইমিগ্রেশনে ভারতফেরত পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের এক সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, লাগেজ আটকে অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা এবং ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সদস্য জাহাঙ্গীর। তার হয়ে ফিরোজ নামে এক বহিরাগত ব্যক্তি যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ভারতীয় পাসপোর্টধারী রাজা সাহা অভিযোগ করেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর তিনি লাগেজ সুবিধায় ৩০ কেজি করসোল ফল নিয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আসেন। এ সময় গোয়েন্দা পরিচয়ে ফিরোজ তার কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাহাঙ্গীর এসে ফলগুলো আটকে ডিএম স্লিপ করে দেন বলে দাবি তার।

রাজা সাহার ভাষ্য, পরে দাবিকৃত টাকা দেওয়ার পর বিষয়টি সহজে মিটে যায়। তার মতো আরও কয়েকজন যাত্রী এ ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি কলটি কেটে দেন বলে জানা গেছে।

এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন এলাকায় গেলে ফিরোজকে ভারত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের লাগেজ দেখার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে টাকা নিতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদকের দাবি। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে জাহাঙ্গীরের সহকারী পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

স্থানীয়দের দাবি, ফিরোজ বড় আঁচড়া গ্রামের খালেকের ছেলে। এর আগে তিনি সাদীপুর রোডের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি কাস্টমস গোয়েন্দাদের হয়ে টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অতীতেও বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও স্টেশন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর পায়ুপথে স্বর্ণ বহনের অভিযোগে আটক এক পাসপোর্ট যাত্রীর স্বর্ণবার আত্মসাতের গুঞ্জনের সঙ্গেও জাহাঙ্গীরের নাম জড়ানো হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের উপপরিচালক আবু সেলিম মোহাম্মদ মোশারাফ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল বন্ধ, যাত্রী হয়রানি রোধ এবং স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

আপডেট সময় : ১০:০১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

স্টাফ রিপোর্টারঃ
যশোরের শার্শার বেনাপোল কাস্টমস ইমিগ্রেশনে ভারতফেরত পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের এক সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, লাগেজ আটকে অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা এবং ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সদস্য জাহাঙ্গীর। তার হয়ে ফিরোজ নামে এক বহিরাগত ব্যক্তি যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ভারতীয় পাসপোর্টধারী রাজা সাহা অভিযোগ করেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর তিনি লাগেজ সুবিধায় ৩০ কেজি করসোল ফল নিয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আসেন। এ সময় গোয়েন্দা পরিচয়ে ফিরোজ তার কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাহাঙ্গীর এসে ফলগুলো আটকে ডিএম স্লিপ করে দেন বলে দাবি তার।

রাজা সাহার ভাষ্য, পরে দাবিকৃত টাকা দেওয়ার পর বিষয়টি সহজে মিটে যায়। তার মতো আরও কয়েকজন যাত্রী এ ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি কলটি কেটে দেন বলে জানা গেছে।

এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন এলাকায় গেলে ফিরোজকে ভারত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের লাগেজ দেখার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে টাকা নিতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদকের দাবি। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে জাহাঙ্গীরের সহকারী পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

স্থানীয়দের দাবি, ফিরোজ বড় আঁচড়া গ্রামের খালেকের ছেলে। এর আগে তিনি সাদীপুর রোডের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি কাস্টমস গোয়েন্দাদের হয়ে টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অতীতেও বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও স্টেশন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর পায়ুপথে স্বর্ণ বহনের অভিযোগে আটক এক পাসপোর্ট যাত্রীর স্বর্ণবার আত্মসাতের গুঞ্জনের সঙ্গেও জাহাঙ্গীরের নাম জড়ানো হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের উপপরিচালক আবু সেলিম মোহাম্মদ মোশারাফ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল বন্ধ, যাত্রী হয়রানি রোধ এবং স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।