সৌদি আরবে নিহত সাইদুরের লাশ পেতে পরিবারের আহাজারি
- আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪ ২০৯ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবে নিহত সাইদুরের লাশ পেতে পরিবারের আহাজারি
সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বাংলাদেশের চার জন শ্রমিক নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীর বাগমারার সাইদুর রহমান সরদার (৫২)। তিনি উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়নের বারুইহাটি রসুলপুর গ্রামের মেহের সরদারের ছেলে। নিহতের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকে থামছে না নিহতের পরিবারের আহাজারি। এদিকে নিহতের পরিবার জানে না কি ভাবে লাশ দেশে আনতে হবে। নিহত সাইদুর রহমান সরদারের বাসায় গিয়ে দেখা যায় গ্রামের লোকজন, প্রতিবেশী এবং আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙখীরা ভিড় করে আছেন। এ সময় নিহত সাইদুর রহমানের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত লাশ দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের লোকজন জানান, অভাবের তাড়নায় ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সাইদুর রহমান সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তিনি সৌদি আরবের রিয়াদের মুসাসানাইয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরি কারখানায় কাজ করতেন। গত বুধবার (৩ জুলাই) সোফা কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বাংলাদেশের চার জনের মৃত্যুতে বাগমারার সাইদুর রহমান মারা যান। একই কারখানায় পাশের নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আরও কয়েকজন কাজ করতেন।
নিহত সাইদুর রহমানের সহকর্মীদের বরাত দিয়ে নিহতের ছেলে আবু বাক্কার জানান, গত মঙ্গলবার সাইদুরসহ ১৬জন শ্রমিক ওই কারখানায় কাজ করছিলেন। এসময় আকষ্মিক আগুন ধরে যায় কারখানাটিতে। কর্মরত ১১ জন শ্রমিক রক্ষা পেলেও সাইদুরসহ চারজন আর বের হতে পারেননি। তারা আগুনে পুড়ে মারা যান। বুধবার ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া আত্রাইয়ের শ্রমিক বাবলু হোসেন মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই ঘটনায় তিনিও সামান্য দগ্ধ হয়েছেন। তাছাড়া তাদের সঙ্গের চারজন আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। পিতার মৃত্যুর সংবাদে একমাত্র ছেলে আবু বক্কর (১৫) দশম শ্রেণীর ছাত্র বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। একই ভাবে বৃদ্ধ পিতা মেহের আলী সরদার ছেলেকে হারিয়ে মূর্ছা যাচ্ছেন।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত সাইদুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের আহাজারি দেখা যায়। ১৫ বছরের কিশোরআবু বক্কর ওরফে ফাহিম কোনো কথা বলতে পারছেন না। সে নির্বাক হয়ে আছে। দুই বছর আগে মা মারা যাওয়ার পর বাবাকে ভরসা হিসেবে পেয়েছিল। আজ সেটাও হারিয়ে ফেললো সে। তাকে ঘিরে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রতিবেশীরা। সে আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিবে। আহাজারিতে সকলের কাছে বাবার লাশ দেশে এনে দাফন করতে সহযোগী চাইছে। বৃদ্ধ বাবাও হতবাক। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর অস্বাভাবিক আচরণ করছেন তিনি।
এ বিষয়ে যোগিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন। লাশ দেশে ফেরত আনতে সার্বিক ভাবে চেষ্টা করবেন তিনি। একই ভাবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আল রানা বলেন, তার দপ্তর থেকে সহযোগিতা করা হবে।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ দেশে ফেরত নিতে সর্বাত্মাক চেষ্টা করা হবে। এছাড়াও সরকারি কোন সুযোগ-সুবিধা থাকলে তা সহায়তা করতে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।



















