রাণীশংকৈল যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণের যাচাই বাছাইয়ে অনিয়ম!
- আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০২৩ ১৯৮ বার পড়া হয়েছে

রাণীশংকৈল যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণের যাচাই বাছাইয়ে অনিয়ম!
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
রাণীশংকৈল যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণের যাচাই বাছাইয়ে অনিয়ম! ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলা যুব উন্নয়নের আওতায় (টেকাব ২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের দুই মাস মেয়াদী কম্পিউটার ও নেটওয়াকিং এর যাচাই বাছাই মৌখিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সুপারিশকৃত নামগুলোই কেবলমাত্র প্রশিক্ষণের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, দুই মাস মেয়াদী এ প্রশিক্ষণে মোট ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী নেওয়া হবে। তবে ৪০ জনের বিপরীতে ২২০ জন আগ্রহী প্রশিক্ষণার্থী আবেদন করায় । নিয়মনুযায়ী গত ২১ আগষ্ট উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে মৌখিক ভাইবা পরীক্ষা হয়। ভাইবা পরীক্ষায় প্রশিক্ষণার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেন ঠাকুরগাঁও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জুলফিকার আলীসহ স্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ। বঞ্চিত প্রশিক্ষণার্থীদের অীভযোগ, সারাদিন ব্যাপী মৌখিক ভাইবা পরীক্ষা নেওয়া হলেও মেধানুসারে যাছাই বাছাই না করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক দলের দেওয়া নামগুলোই তালিকাভুক্ত করে চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
আব্দুল কুদ্দুস নামে এক ব্যক্তি গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের সামনে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রকাশিত চুড়ান্তে তালিকা দেথতে এসে দেখেন তার মেয়ের নাম নেই। এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সীমান্তবর্তী ধর্মগড় এলাকা থেকে এত টাকা খরচ করে মেয়েটা ভাইবা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও ভাইভা বোর্ডের কর্মকর্তারা যা প্রশ্ন ধরেছিল, তার ঠিকঠাক উত্তরে দিয়েছে। তারপরেও সে তালিকায় নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শুনলাম স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যাদের নিতে বলেছে ইউনিয়ন ভিত্তিক নাকি তাদেরই নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন তাহলে ভাইবা পরীক্ষার নামে ছেলে মেয়েদের সারাদিন বসিয়ে রাখার মানে কি? একইভাবে সন্ধারই এলাকার মুকুল হোসেন বলেন, আজ সুপারিশ নাই দেখে আমার বোনটির প্রশিক্ষণ তালিকায় নাম নেই। তিনি ক্ষোভ করে বলেন,যেখানেই যান সেখানেই সুপারিশ ছাড়া কিছুই হয় না। মেধার কোন দাম নেই। ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশিক্ষণে ইচ্ছুক রীতা বেগম বলেন,সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েও তালিকায় নাম নেই। খুব হতাশ হলাম!
জানতে চাইলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন,মেধানুসারেও নেওয়া হয়েছে। তবে ইউনিয়ন ভিত্তিক দুটো করে কোটা ছিল সেভাবেও নেওয়া হয়েছে। সুপারিশকৃত আগ্রহী প্রশিক্ষণার্থীদের বেশি সুযোগ দেওয়া হয়েছে প্রশ্নে বলেন, ইউনিয়ন ভিত্তিক কোটা ছিল চেয়ারম্যানরাও সুপারিশ করেছে সব মিলে নেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন,যেমন উপজেলা চেয়ারম্যান অনেকগুলো নাম দিয়েছিল সেগুলোর মধ্যে মাত্র তিনটি নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার রহমান গতকাল মঙ্গলবার মুঠোফোনে বলেন, সুপারিশকৃতদের সুযোগ বেশি দেওয়া হয়েছে। এটাতো হওয়ার কথা না, সেখানে তো আমিও ছিলাম। ঠিক আছে বিষয়টি আমি দেখছি। ঠাকুরগাঁও জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: মুনসুর রহমান খান বলেন, এই ধরনের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক একটু চাপ থাকে। ভাইবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বাদ দিয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সুপারিশকৃত নামগুলো নেওয়া হয়। সব মিলে ভাইবা না নিয়ে যদি লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হতো তাহলে এমনটি হতো না। মেধানুসারে না নিয়ে সুপারিশকৃত নাম চুড়ান্ত তালিকায় প্রকাশ করাটিকে তিনি দু:খজনক বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন।




















