রাণীশংকৈলে পিআইওকে মা/রধ/রের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১
- আপডেট সময় : ০৮:১৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

রাণীশংকৈলে পিআইওকে মা/রধ/রের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১
গণঅধিকার পরিষদের নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ; পাল্টা অভিযোগও উঠেছে
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারকে মারধরের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার পর অভিযান চালিয়ে জিয়াউর রহমান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই পিআইও নুরুন্নবী সরকার বাদী হয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে রাণীশংকৈল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে অফিসে কাজ করছিলেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন, উপজেলা সভাপতি সোহরাব আলী, সম্পাদক জাফর আলীসহ কয়েকজন তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির জেরে পিআইও ও তার অফিস সহকারীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার পর রাতেই পুলিশ পৌরশহরের ভান্ডারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের দপ্তরি আইয়ুব আলী দাবি করেন, “স্যারকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। আমি দরজা বন্ধ করতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়।”
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার বলেন, “পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার অফিসে এসে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলা করেছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন। তিনি বলেন, “অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলাম। পিআইওকে মারধর করা হয়নি, বরং তার লোকজনই আমাদের ওপর হামলা করেছে। এটি একটি মিথ্যা মামলা।”
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, “পিআইও সাহেবের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্য পক্ষ থেকেও লিখিত অভিযোগ এলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।”
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
এদিকে, ঘটনার পেছনে পিআইওর বিরুদ্ধে আগে থেকে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, সরকারি দপ্তরে অনিয়ম ও আচরণগত নানা বিষয় নিয়ে এর আগেও তাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




















