ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় ট্রেনের ধা/ক্কা/য় মা’নসিক ভা’রসাম্যহীন ব্যক্তির মৃ-ত্যু বাগাতিপাড়ায় এসএসসি ২০০৩-০৪ ব্যাচের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত লালপুরে ডোবায় পড়ে দিনমজুরের মৃত্যু লালপুরে অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু বাগাতিপাড়ায় ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিলেন একই পরিবারের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আক্কেলপুরে জমিজমা বিরোধে যুবককে ছু/রি/কা/ঘা/তে হ’ত্যা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে গোমস্তাপুরে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে শিশুর মাথায় পাতিল আটকে বিপত্তি, ওয়ার্কশপে নিয়ে কেটে খুলতে হলো সিলভারের পাতিল ২ মণ গাঁজাসহ রাজশাহীতে তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন

রাণীশংকৈলে টমেটো চাষে চমক মিন্টুর

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:০১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৮৩ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাণীশংকৈলে টমেটো চাষে চমক মিন্টুর

মালচিং ও মাঁচা পদ্ধতিতে স্মার্ট–১২১৭ জাতের টমেটো চাষ করে লক্ষাধিক টাকার সাফল্য, তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান

উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও বরাবরই দেশের কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে। জেলার উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় রাণীশংকৈল উপজেলায় মাঁচা ও মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান মিন্টু।

রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের উত্তর বনগাঁও গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মঞ্জুর আলমের ছোট ছেলে মিন্টু নিজ এলাকায় প্রায় ৫ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন একটি আধুনিক কৃষি খামার। সেখানে বাণিজ্যিকভাবে টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি টমেটোর গাছে কাঁচা ও পাকা টমেটো থোকায় থোকায় ঝুলছে। ফলের ভারে গাছগুলো মাটির দিকে নুয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, প্রতি গাছে ৫ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত টমেটো উৎপাদন হয়েছে।

খামারে টমেটোর পাশাপাশি করলা, শসা, বেগুন, আলু ও পেঁয়াজসহ নানা ধরনের ফসলের চাষ করা হচ্ছে। নিজের সফলতার পাশাপাশি মিন্টু এলাকায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।

কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান মিন্টু বলেন, “আমি কয়েক একর জমিতে কৃষি খামার গড়ে তুলেছি। এর মধ্যে ১ বিঘা জমিতে মালচিং ও মাঁচা পদ্ধতিতে স্মার্ট–১২১৭ জাতের টমেটো চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছি। আশা করছি, আরও লক্ষাধিক টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারব। টমেটোর সঙ্গে একই জমিতে উন্নত জাতের হাইব্রিড করলার চারা রোপণ করেছি। টমেটো সংগ্রহ শেষ হলে করলা উৎপাদন শুরু হবে, এতে আরও লাভবান হওয়ার আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করলে তুলনামূলক কম কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ কমে এবং ভোক্তারা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি পান।”

খামারের তত্ত্বাবধানে থাকা মো. আলম বলেন, “আমি এখানে সব ফসলের পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছি। আমার সঙ্গে প্রতিদিন প্রায় ১০ জন নারী কাজ করেন, যারা সংসারের কাজের পাশাপাশি নিয়মিত আয় করতে পারছেন।”

খামারে কর্মরত নারী শ্রমিক রুবি আক্তার বলেন, “সংসারের কাজের পাশাপাশি মিন্টু মামার খামারে নিয়মিত কাজ করি। এতে স্বামীর আয়ের পাশাপাশি সংসার খরচ ও ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার ব্যয় বহন করা সহজ হচ্ছে।”

আরেক নারী শ্রমিক মজিরন বলেন, “সারা বছর অন্য কোথাও কাজ খুঁজতে হয় না। মিন্টু ভাইয়ের খামারে প্রতিদিন কাজ করি। টমেটোর পাশাপাশি বেগুন, শসা, চিচিঙ্গা ও আলুসহ বিভিন্ন ফসলের পরিচর্যা করি। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরি পাই, এতে সংসার ভালোভাবেই চলে।”

সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম বলেন, “আমি নিয়মিত এই খামার পরিদর্শন করি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দিয়ে থাকি। এই কৃষি প্রকল্পটি এলাকায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করছি।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, “কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। মিন্টু বাণিজ্যিকভাবে টমেটো, শসা ও বেগুনসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে সফল হয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি এলাকায় একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাণীশংকৈলে টমেটো চাষে চমক মিন্টুর

আপডেট সময় : ০২:০১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাণীশংকৈলে টমেটো চাষে চমক মিন্টুর

মালচিং ও মাঁচা পদ্ধতিতে স্মার্ট–১২১৭ জাতের টমেটো চাষ করে লক্ষাধিক টাকার সাফল্য, তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান

উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও বরাবরই দেশের কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে। জেলার উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় রাণীশংকৈল উপজেলায় মাঁচা ও মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান মিন্টু।

রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের উত্তর বনগাঁও গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মঞ্জুর আলমের ছোট ছেলে মিন্টু নিজ এলাকায় প্রায় ৫ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন একটি আধুনিক কৃষি খামার। সেখানে বাণিজ্যিকভাবে টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি টমেটোর গাছে কাঁচা ও পাকা টমেটো থোকায় থোকায় ঝুলছে। ফলের ভারে গাছগুলো মাটির দিকে নুয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, প্রতি গাছে ৫ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত টমেটো উৎপাদন হয়েছে।

খামারে টমেটোর পাশাপাশি করলা, শসা, বেগুন, আলু ও পেঁয়াজসহ নানা ধরনের ফসলের চাষ করা হচ্ছে। নিজের সফলতার পাশাপাশি মিন্টু এলাকায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।

কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান মিন্টু বলেন, “আমি কয়েক একর জমিতে কৃষি খামার গড়ে তুলেছি। এর মধ্যে ১ বিঘা জমিতে মালচিং ও মাঁচা পদ্ধতিতে স্মার্ট–১২১৭ জাতের টমেটো চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছি। আশা করছি, আরও লক্ষাধিক টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারব। টমেটোর সঙ্গে একই জমিতে উন্নত জাতের হাইব্রিড করলার চারা রোপণ করেছি। টমেটো সংগ্রহ শেষ হলে করলা উৎপাদন শুরু হবে, এতে আরও লাভবান হওয়ার আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করলে তুলনামূলক কম কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ কমে এবং ভোক্তারা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি পান।”

খামারের তত্ত্বাবধানে থাকা মো. আলম বলেন, “আমি এখানে সব ফসলের পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছি। আমার সঙ্গে প্রতিদিন প্রায় ১০ জন নারী কাজ করেন, যারা সংসারের কাজের পাশাপাশি নিয়মিত আয় করতে পারছেন।”

খামারে কর্মরত নারী শ্রমিক রুবি আক্তার বলেন, “সংসারের কাজের পাশাপাশি মিন্টু মামার খামারে নিয়মিত কাজ করি। এতে স্বামীর আয়ের পাশাপাশি সংসার খরচ ও ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার ব্যয় বহন করা সহজ হচ্ছে।”

আরেক নারী শ্রমিক মজিরন বলেন, “সারা বছর অন্য কোথাও কাজ খুঁজতে হয় না। মিন্টু ভাইয়ের খামারে প্রতিদিন কাজ করি। টমেটোর পাশাপাশি বেগুন, শসা, চিচিঙ্গা ও আলুসহ বিভিন্ন ফসলের পরিচর্যা করি। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরি পাই, এতে সংসার ভালোভাবেই চলে।”

সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম বলেন, “আমি নিয়মিত এই খামার পরিদর্শন করি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দিয়ে থাকি। এই কৃষি প্রকল্পটি এলাকায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করছি।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, “কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। মিন্টু বাণিজ্যিকভাবে টমেটো, শসা ও বেগুনসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে সফল হয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি এলাকায় একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।”