রাণীশংকৈলে চেয়ারম্যান-মেম্বারকে ‘সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে পুঁতে ফেলার’ হুমকি, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে উত্তেজনা
- আপডেট সময় : ০১:২২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪০৭ বার পড়া হয়েছে

রাণীশংকৈলে চেয়ারম্যান-মেম্বারকে ‘সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে পুঁতে ফেলার’ হুমকি, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে উত্তেজনা
পিআইওর বক্তব্য নিয়ে তোলপাড়; উৎকোচ দাবির অভিযোগে থানায় এজাহার, বিক্ষোভ
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও এক সদস্যকে ‘সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে গেড়ে ফেলার’ হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্কাছ আলীর সঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের বাকবিতণ্ডার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে নুরুন্নবী সরকারকে উত্তেজিত অবস্থায় বলতে শোনা যায়— তিনি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান–মেম্বারকে ‘গুণেন না’, প্রয়োজন হলে “সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে গেড়ে ফেলবেন” এবং একটি চিঠিতেই মেম্বারশিপ ‘সাসপেন্ড’ হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, “মেম্বারি খাবো, তারপর জেলের ভাত খাওয়াবো।”
ভিডিওটি প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই বলেন, সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়ে এভাবে জনপ্রতিনিধিদের হুমকি দেওয়া অনভিপ্রেত। তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে পিআইওর বিচার দাবি করেন।
এদিকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে ইউপি সদস্য আক্কাছ আলী থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে টিআর–কাবিখা বরাদ্দ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পিআইও তার কাছে ২০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। উৎকোচ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পরিদর্শনে গিয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় তাকে “মেম্বারি খেয়ে ফেলা” ও “মাটিতে পুঁতে ফেলা”র হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চেয়ারম্যানকে ‘চোর-বাটপার’ বলে সম্বোধন করে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শনের কথাও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাণীশংকৈল উপজেলা প্রশাসন-এর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়-এর ইউএনও খাদিজা বেগম বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানি না।”




















