মান্দায় প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ হরিলুটের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০১:৩৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫ ৩৬৮ বার পড়া হয়েছে

মান্দায় প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ হরিলুটের অভিযোগ
কাগজে-কলমে তিন প্রকল্প সম্পন্ন দেখানো হলেও মাঠে নেই কোনো কাজ
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের (এডিপি) আওতায় তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নথিপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে এসব প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপির আওতায় পাঁজরভাঙা বিশ্ববাঁধ হতে ছাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসিকরণের জন্য ৩ লাখ টাকা, প্রসাদপুর বাজার এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন সংস্কারে ৩ লাখ টাকা এবং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় রাস্তার দুপাশে ঔষুধি গাছের চারা রোপণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি অফিসের তালিকায় প্রকল্প তিনটি যথাক্রমে ৫৬, ১২৬ ও ১৩৯ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত।
সরকারি নথি অনুযায়ী, পাঁজরভাঙা রাস্তাটি ও প্রসাদপুর ড্রেন সংস্কারের অনুমোদন দেওয়া হয় ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে উপজেলা পরিষদের বিশেষ সভায়, আর তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের বনায়ন প্রকল্প অনুমোদন পায় চলতি বছরের মার্চে।
কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি। প্রসাদপুর বাজারের ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “বাজারের ড্রেনটি নির্মাণের পর থেকে আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। বৃষ্টি হলেই রাস্তা ডুবে যায়, ভোগান্তির শেষ থাকে না।”
চা দোকানি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ড্রেন সংস্কারের কোনো কাজ হয়নি। এটা শুধু কাগজে কাজ দেখানোর খেলা।”
মুড়ি বিক্রেতা গৌতম কুমার বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে দোকান করছি। কোনো কাজ হলে তা নজরে পড়ত—এটা শুভঙ্করের ফাঁকি ছাড়া কিছুই নয়।”
অন্যদিকে, পাঁজরভাঙা বাজারের বিশ্ববাঁধ থেকে ছাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটির অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের রাস্তার পাশে বনায়ন কাজেরও কোনো হদিস নেই।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর থেকে পাওয়া কাগজপত্রে দেখা যায়, পাঁজরভাঙা এলাকায় সিসিকরণ কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে, প্রসাদপুর বাজারের ড্রেন সংস্কার আরএফকিউ পদ্ধতিতে এবং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের বনায়ন কাজ পিআইসি পদ্ধতিতে সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। তবে কে বা কারা কাজগুলো বাস্তবায়ন করেছে-সেই বিষয়ে এলজিইডি কর্মকর্তারা স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান কামরুল বলেন, “রাস্তার পাশে বনায়ন কাজটি উপজেলা পরিষদ থেকে করা হয়েছে। আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।”
উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ বলেন, “আমি এ উপজেলায় যোগদানের আগেই কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে। কাগজপত্র না দেখে কিছু বলা সম্ভব নয়।”




















