বাগাতিপাড়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগে নামমাত্র প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী
- আপডেট সময় : ১২:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৭৭ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগে নামমাত্র প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী
পুরস্কারের অর্থ, ডেকোরেশন ও খাবার খাতে বরাদ্দ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ; উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অস্বীকার
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় আয়োজিত প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু হায়দার আলীর বিরুদ্ধে। খামারিরা অভিযোগ করেছেন, প্রদর্শনীটি ছিল নামমাত্র এবং জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় ছিল সর্বনিম্ন মানের।
গত ২৬ নভেম্বর বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রদর্শনীর জন্য মোট ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও ভ্যাট বাদ দিয়ে নির্ধারিত খাত অনুযায়ী পুরো অর্থ ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া একাধিক খামারি জানান, ছোট প্রাণী, বড় প্রাণী ও পাখি পালন—এই তিন ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হলেও ঘোষিত পুরস্কারের অর্থ সঠিকভাবে প্রদান করা হয়নি। কয়েকজন খামারির অভিযোগ, ৩ হাজার ৫০০ টাকার রশিদে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও হাতে দেওয়া হয়েছে কম টাকা।
খামারিরা আরও অভিযোগ করেন, প্রদর্শনীর জন্য বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় ডেকোরেশন করা হয়নি। অতিথি ও অংশগ্রহণকারী খামারিদের জন্য খাবারের মান ও পরিমাণও ছিল বরাদ্দের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
রফিকুল ইসলাম চেরান, সোনালী বেগম, বদরুজ্জামান, লিটন, মিলন ও বকুলসহ কয়েকজন খামারি অভিযোগ করেন, নিবন্ধিত ও বড় খামারিদের যথাযথভাবে অবহিত না করে অফিস সংলগ্ন ও আশপাশের এলাকার ব্যক্তিদের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত খামারিদের অংশগ্রহণ ব্যাহত হয়।
পেড়াবাড়িয়া মহল্লার খামারি লিটন ও মিলন বলেন, তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও কম বয়সী বড় গরু নিয়ে অংশ নিলেও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিজয়ীদের তালিকায় তাদের নাম রাখা হয়নি। লিটনের বাবা অভিযোগ করে বলেন, “অফিসের লোকজন আশ্বাস দিয়েছিল পুরস্কার পাওয়া যাবে। গরু বের করতে গিয়ে আমাদের ক্ষতি হয়েছে, পরে গরুটি অসুস্থও হয়ে পড়ে।”
উপজেলার একাধিক বড় খামারির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মানিক নামের এক খামারি বলেন, “অধিকাংশ বড় খামারি প্রদর্শনীর বিষয়ে আগে জানতেন না। সময়মতো জানানো হলে উন্নত মানের পশু নিয়ে অংশ নিতে পারতাম।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খামারি বলেন, “পুরো পুরস্কারের টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে কম টাকা দেওয়া হয়েছে। ডেকোরেশন ও খাবারেও বরাদ্দের কোনো প্রতিফলন ছিল না।”
এদিকে স্থানীয় এক সাংবাদিক ১০ ডিসেম্বর তথ্য অধিকার আইনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে আবেদন করলেও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু হায়দার আলী বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম করিনি। খাবার নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মাত্র।”




















