নাটোরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের এক সদস্য গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৩:৩০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৭০ বার পড়া হয়েছে

নাটোরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের এক সদস্য গ্রেফতার
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা–২০২৫ এর প্রশ্নপত্র আগেই সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিক্রির অভিযোগে গুরুদাসপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে একজন গ্রেফতার, পলাতক আরও কয়েকজন।
নাটোরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা–২০২৫ এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেফতারসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের এসআই (নিঃ) মো. শহিদুল ইসলামের দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি দুপুরে ডিবি পুলিশের একটি দল গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজার এলাকায় টহল ডিউটিতে থাকাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে—চাঁচকৈড় কাচারীপাড়া এলাকায় একটি প্রতারক চক্র প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই সংগ্রহ করে তা বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেখানে অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মো. সদ্দাম হোসেন (৩০) নামে একজনকে আটক করা হয়। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া এলাকার মো. প্রজা শাহের ছেলে। অপর আসামিরা কৌশলে পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করে একটি স্মার্টফোন, দুটি সিমকার্ড এবং প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা–২০২৫ এর একটি প্রবেশপত্র উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র আদান-প্রদানের একাধিক আলামত পাওয়া যায়। প্রশ্নপত্রগুলো ফোনে সংরক্ষিত অবস্থায় ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি স্বীকার করেন, পলাতক মেহেদী সুজা (৪৬) নামের এক ব্যক্তির সহযোগিতায় তারা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি ও বিতরণ করতেন। এই প্রতারণার মাধ্যমে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
এ ঘটনায় মো. মেহেদী সুজাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতে খায়ের আলম জানান, “প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস একটি গুরুতর অপরাধ। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারসহ পুরো চক্র শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”




















