ঘুষের টাকা হাতে তেঁতুলিয়া পিআইও অফিসের কার্যসহকারীর ভিডিও ভাইরাল
- আপডেট সময় : ০৪:১১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ২৭৬ বার পড়া হয়েছে

ঘুষের টাকা হাতে তেঁতুলিয়া পিআইও অফিসের কার্যসহকারীর ভিডিও ভাইরাল
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে তোলপাড়; বদলি হওয়া সত্ত্বেও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার অভিযোগ
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের কার্যসহকারী জহিরুল ইসলামের ঘুষের টাকা হাতে থাকার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়ির বারান্দায় জহিরুল ইসলাম দুই হাতে টাকার বান্ডিল নিয়ে হাঁটাহাঁটি করছেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “টের পাবে না।”
ভিডিওতে আরও শোনা যায়, উপস্থিত একজন ব্যক্তি জহিরুল ইসলামকে জিজ্ঞেস করছেন—“ভাই, এখানে কত পেয়েছেন?” জবাবে তাকে বলতে শোনা যায়, “দেড় দেড়।” অপর কণ্ঠে আবার শোনা যায়, “আগে দেওয়া হয়েছিল দুই লাখ দশ, তিন লাখ ষাট হাজার।”
এ সময় জহিরুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, “না, আমাকে এক লাখ ত্রিশ দিছেন।” এরপর অপরজন বলেন, “মোট দুই লাখ দশ গেছে।” জবাবে জহিরুল ইসলাম বলেন, “স্যারের সাথেই ছিলাম।”
ধারণা করা হচ্ছে, টাকার বিষয়ে কথোপকথনের সময় ঘটনাটি গোপনে ভিডিও করা হয়।
এদিকে তেঁতুলিয়া উপজেলার ছয়জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৩ মার্চ রাতে “Ashraf Sheikh” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ৪ নম্বর শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল ইসলাম একটি ফেসবুক লাইভ করেন। সেখানে তিনি কমিশন ছাড়া কোনো বিল পাশ হয় না বলে অভিযোগ করেন। তবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যানরা দাবি করেন, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত হতে পারে এবং তারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অন্যদিকে জানা গেছে, জহিরুল ইসলামকে গত ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপপ্রকল্প পরিচালক আবু নাছের মোহাম্মদ বাবর স্বাক্ষরিত এক আদেশে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রেষণে বদলি করা হয়।
বদলি আদেশে উল্লেখ ছিল, তাকে ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় ২০ নভেম্বর থেকে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম শাহ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে অবমুক্ত করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, বদলি হওয়ার প্রায় চার মাস পার হলেও জহিরুল ইসলাম এখনো তেঁতুলিয়াতেই অবস্থান করছেন এবং সরকারি কোয়ার্টার ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, বদলি হওয়ার পরও কীভাবে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে আগের জায়গায় অবস্থান করছেন এবং সরকারি কোয়ার্টার ব্যবহার করছেন।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন আফরোজ খসরু বলেন, ভিডিওতে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। জহিরুল ইসলামের সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না।
তিনি আরও বলেন, জহিরুল ইসলামের বদলির বিষয়টি তার জানা নেই। কোয়ার্টার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্বে থাকলেও সদস্য সচিব উপজেলা প্রকৌশলী।
অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল ইসলাম শাহের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




















