ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রূপগঞ্জে পৃথক স্থান থেকে নারী ও রিকশাচালকের ম/র/দে/হ উদ্ধার গোয়ালন্দে পুকুরপাড়ে মাটিচা/পা অবস্থায় মা ও মেয়ের লা/শ উদ্ধার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার স্বপ্ন ছিল- প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ লালপুরে মাদক সেবনের দায়ে একজনকে মোবাইল কোর্টে দণ্ড লালপুরে গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক নাসার বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. এম রেজাউল হক মারা গেছেন শেরপুর-ময়মনসিংহ সীমান্তে বিজিবির রাতভর অভিযানে ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ জৈষ্ঠ্যের প্রথম দিনে গুটি আম দিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু মান্দায় অনলাইন জু/য়ার আসরে অভিযান, ১৫ জন গ্রেপ্তার গোদাগাড়ীতে এক কোটি টাকার হেরোইনসহ কিশোর আটক

শেরপুর হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম চিকিৎসক নাহিদার অনুপস্থিতি: হাজিরা দুই দিন, বেতন পুরো মাস, রোগীরা বিপাকে!

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:০৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ৩২০ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শেরপুর হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম চিকিৎসক নাহিদার অনুপস্থিতি: হাজিরা দুই দিন, বেতন পুরো মাস, রোগীরা বিপাকে!

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের সুযোগে বেসরকারি ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম ব্যবসা; প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ স্থানীয়দের

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাম ইউনিটে নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি সেবা কার্যক্রম। রোগীদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. নাহিদা সুলতানা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত সরকারি বেতন নিচ্ছেন। এতে প্রতিদিনই সেবা নিতে এসে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ডা. নাহিদা সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে তিন দিন সকাল ১১টার পর হাসপাতালে আসেন। অল্প সময় দায়িত্ব পালন করে হাজিরা খাতায় পুরো সপ্তাহের স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান ময়মনসিংহে, যেখানে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষা করে অতিরিক্ত আয় করে থাকেন।

হাসপাতালের বায়োমেট্রিক (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) মেশিনে তার নিয়মিত সাইন-ইন ও সাইন-আউটের রেকর্ড নেই বলে জানা গেছে। সরেজমিনে গত সপ্তাহে কয়েকদিন আল্ট্রাসনোগ্রাম ইউনিট পরিদর্শনে গেলে রুমটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

অপেক্ষমাণ এক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাইরে টেস্ট করাতে গেলে অনেক টাকা লাগে। সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার না থাকায় আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটা বড় সমস্যা।”
আরেকজন বলেন, “ডাক্তারের রুম প্রায়ই বন্ধ থাকে। রিপোর্ট না পেয়ে আমরা দিনের পর দিন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। কখন আসবেন বা আসবেন কি না-তা কেউ জানে না।”

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সেলিম মিয়া বলেন, “দেশে আল্ট্রাসনোগ্রাম বিশেষজ্ঞের ঘাটতির সুযোগ নিচ্ছেন তিনি। মৌখিক ও লিখিতভাবে একাধিকবার জানালেও তিনি নির্দেশ মানেননি। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।”

শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন বলেন, “কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা সরকারি বিধির পরিপন্থী। হাসপাতাল প্রশাসন থেকে অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলমগীর কিবরিয়া কামরুল বলেন, “সরকারি চিকিৎসকের নিয়মিত উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। অনুপস্থিত থেকে বেতন গ্রহণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একজন সরকারি চিকিৎসক বছরের অধিকাংশ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় বেতন তুলতে পারেন? তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবা পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে সমাজের বিশিষ্টজনরা বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম নতুন নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাস্তির বদলে বদলির মাধ্যমে দায় এড়ানো হয়, ফলে অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটে। যখন অপরাধের বিচার হয় না, তখন অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়। তাদের মতে, প্রশাসনিক উদাসীনতা ও দায়হীনতার কারণেই সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দায়িত্বহীনতার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শেরপুর হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম চিকিৎসক নাহিদার অনুপস্থিতি: হাজিরা দুই দিন, বেতন পুরো মাস, রোগীরা বিপাকে!

আপডেট সময় : ০২:০৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

শেরপুর হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম চিকিৎসক নাহিদার অনুপস্থিতি: হাজিরা দুই দিন, বেতন পুরো মাস, রোগীরা বিপাকে!

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের সুযোগে বেসরকারি ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম ব্যবসা; প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ স্থানীয়দের

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাম ইউনিটে নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি সেবা কার্যক্রম। রোগীদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. নাহিদা সুলতানা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত সরকারি বেতন নিচ্ছেন। এতে প্রতিদিনই সেবা নিতে এসে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ডা. নাহিদা সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে তিন দিন সকাল ১১টার পর হাসপাতালে আসেন। অল্প সময় দায়িত্ব পালন করে হাজিরা খাতায় পুরো সপ্তাহের স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান ময়মনসিংহে, যেখানে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষা করে অতিরিক্ত আয় করে থাকেন।

হাসপাতালের বায়োমেট্রিক (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) মেশিনে তার নিয়মিত সাইন-ইন ও সাইন-আউটের রেকর্ড নেই বলে জানা গেছে। সরেজমিনে গত সপ্তাহে কয়েকদিন আল্ট্রাসনোগ্রাম ইউনিট পরিদর্শনে গেলে রুমটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

অপেক্ষমাণ এক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাইরে টেস্ট করাতে গেলে অনেক টাকা লাগে। সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার না থাকায় আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটা বড় সমস্যা।”
আরেকজন বলেন, “ডাক্তারের রুম প্রায়ই বন্ধ থাকে। রিপোর্ট না পেয়ে আমরা দিনের পর দিন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। কখন আসবেন বা আসবেন কি না-তা কেউ জানে না।”

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সেলিম মিয়া বলেন, “দেশে আল্ট্রাসনোগ্রাম বিশেষজ্ঞের ঘাটতির সুযোগ নিচ্ছেন তিনি। মৌখিক ও লিখিতভাবে একাধিকবার জানালেও তিনি নির্দেশ মানেননি। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।”

শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন বলেন, “কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা সরকারি বিধির পরিপন্থী। হাসপাতাল প্রশাসন থেকে অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলমগীর কিবরিয়া কামরুল বলেন, “সরকারি চিকিৎসকের নিয়মিত উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। অনুপস্থিত থেকে বেতন গ্রহণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একজন সরকারি চিকিৎসক বছরের অধিকাংশ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় বেতন তুলতে পারেন? তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবা পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে সমাজের বিশিষ্টজনরা বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম নতুন নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাস্তির বদলে বদলির মাধ্যমে দায় এড়ানো হয়, ফলে অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটে। যখন অপরাধের বিচার হয় না, তখন অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়। তাদের মতে, প্রশাসনিক উদাসীনতা ও দায়হীনতার কারণেই সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দায়িত্বহীনতার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে।