রুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ি চালু
- আপডেট সময় : ০৭:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২১ বার পড়া হয়েছে

রুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ি চালু
নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ১২ আসনের গাড়ি চলবে প্রতি ২০ মিনিট পরপর, ভাড়া লাগবে না
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের যাতায়াত সুবিধা বাড়াতে চালু হয়েছে সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ি সেবা। প্রাথমিকভাবে বিনামূল্যে চালু হওয়া এই সেবা শুধু ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবা চালু করা হয়। এদিন সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম আব্দুর রাজ্জাক গাড়িটির উদ্বোধন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যন্ত্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর অর্থায়নে পরিচালিত একটি গবেষণা প্রকল্পের আওতায় গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শাহজাদা মাহমুদুল হাসান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি জ্বালানিসংকটের কারণে ক্যাম্পাসে চলাচলকারী কিছু ডিজেলচালিত বাসের ট্রিপ কমিয়ে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে ভোগান্তি তৈরি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কম খরচে পরিচালনাযোগ্য ও জ্বালানিনির্ভরতা কম এমন একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির উদ্যোগ নেয় রুয়েটের গবেষক দল।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গাড়িটি উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। রুয়েটের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই গাড়িটি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী এবং ভবিষ্যতে এমন প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থার সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।
জানা গেছে, গাড়িটির আসন সংখ্যা ১২। এটি ছাত্রীদের আবাসিক হল থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চলাচল করবে। প্রতি ২০ মিনিট পরপর গাড়িটি নির্ধারিত রুটে চলবে। এই সেবার জন্য ছাত্রীদের কোনো ভাড়া দিতে হবে না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “বাইরে থেকে গাড়ি ক্রয় না করে রুয়েটের গবেষণা খাত থেকেই গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। এতে গবেষণাকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বাস্তব প্রয়োগভিত্তিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।”
প্রকল্পের প্রধান অধ্যাপক শাহজাদা মাহমুদুল হাসান বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা আউটকাম বেসড এডুকেশন (ওবিই)-এর লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যার একটি টেকসই সমাধান দিতে পেরেছি।” তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের আবাসিক হল একাডেমিক ভবন থেকে দূরে হওয়ায় এ সেবা তাদের জন্য খুবই উপকারী হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও গাড়ির প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, রুট পারমিট পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে এই বৈদ্যুতিক গাড়ি ক্যাম্পাসের বাইরেও চালানো সম্ভব হতে পারে।




















