ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোমস্তাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃ/ত্যু জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬: বাগাতিপাড়ায় তিন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ গালিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাগাতিপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এ শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা আরএমপির উদ্যোগে উদ্ধার ১০১ হারানো মোবাইল ফোন, মালিকদের হাতে হস্তান্তর লালপুরে বজ্রপাতে ইটভাটা শ্রমিক নিহত, আহত ২ নারী দা’ফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক্টরে ধা/ক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃ/ত্যু, স্ত্রী আহত দুই বছরের মধ্যে চালু হতে পারে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর- মির্জা ফখরুল জলবায়ু ঝুঁকিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় মান্দায় গণতান্ত্রিক সংলাপ অনুষ্ঠিত বিজিবি উত্তর-পশ্চিম রিজিয়নে এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য আটক সিংড়ায় ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রায়গঞ্জে টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে রোপা আমন ধান, হতাশায় হাজারো কৃষক

মোঃ মোকাদ্দেস হোসাইন সোহান, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:১১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫ ১৮১ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রায়গঞ্জে টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে রোপা আমন ধান, হতাশায় হাজারো কৃষক

মৌসুমি টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। মাঠের পর মাঠ পানিতে ডুবে থাকায় ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হতে শুরু করেছে রোপা আমন ধান। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার হাজারো কৃষক।

গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে উপজেলার ধামাইনগর, সোনাখাড়া, চান্দাইকোনা, ধানগড়া, পাঙ্গাসী, ব্রহ্মগাছা, নলকা, ঘুড়কা ও ধুবিল ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষিজমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় ধানগাছ পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে পানি না নামলে ধানগাছের গোড়ায় পচন ধরবে।

পাঙ্গাসী গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ধান পেকে গেছে, এখন কাটার সময়। কিন্তু মাঠে পানি জমে গেছে। ধান কাটা তো দূরের কথা, মাঠে ঢোকাই যাচ্ছে না।” একই গ্রামের আরেক কৃষক মো. আবদুল করিম জানান, “বৃষ্টি আর জোয়ারে ফসল ডুবে গেছে। কয়েকদিনের মধ্যে পানি না নামলে ধানগাছ পচে যাবে, পুরো বছরের পরিশ্রম শেষ।”

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলমান বৃষ্টিতে প্রতিটি ইউনিয়নের রোপা আমন ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ পানি নেমে গেলে নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, “এই সময়ে বৃষ্টি আমনের জন্য ক্ষতিকর। আমরা মাঠ পর্যায়ে নজর রাখছি। পানি দ্রুত সরে গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।”

এদিকে, টানা বৃষ্টিতে গ্রামীণ সড়ক ও হাটবাজারেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে ফসল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, কৃষকরা সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। অনেকেই বাধ্য হয়ে কাটার আগেই ক্ষেতে দাঁড়ানো ধান বিক্রির চিন্তা করছেন।

স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন, যেন মৌসুমি এই বৃষ্টিতে তাদের বছরের পরিশ্রম পুরোপুরি নষ্ট না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রায়গঞ্জে টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে রোপা আমন ধান, হতাশায় হাজারো কৃষক

আপডেট সময় : ০২:১১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

রায়গঞ্জে টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে রোপা আমন ধান, হতাশায় হাজারো কৃষক

মৌসুমি টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। মাঠের পর মাঠ পানিতে ডুবে থাকায় ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হতে শুরু করেছে রোপা আমন ধান। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার হাজারো কৃষক।

গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে উপজেলার ধামাইনগর, সোনাখাড়া, চান্দাইকোনা, ধানগড়া, পাঙ্গাসী, ব্রহ্মগাছা, নলকা, ঘুড়কা ও ধুবিল ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষিজমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় ধানগাছ পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে পানি না নামলে ধানগাছের গোড়ায় পচন ধরবে।

পাঙ্গাসী গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ধান পেকে গেছে, এখন কাটার সময়। কিন্তু মাঠে পানি জমে গেছে। ধান কাটা তো দূরের কথা, মাঠে ঢোকাই যাচ্ছে না।” একই গ্রামের আরেক কৃষক মো. আবদুল করিম জানান, “বৃষ্টি আর জোয়ারে ফসল ডুবে গেছে। কয়েকদিনের মধ্যে পানি না নামলে ধানগাছ পচে যাবে, পুরো বছরের পরিশ্রম শেষ।”

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলমান বৃষ্টিতে প্রতিটি ইউনিয়নের রোপা আমন ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ পানি নেমে গেলে নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, “এই সময়ে বৃষ্টি আমনের জন্য ক্ষতিকর। আমরা মাঠ পর্যায়ে নজর রাখছি। পানি দ্রুত সরে গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।”

এদিকে, টানা বৃষ্টিতে গ্রামীণ সড়ক ও হাটবাজারেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে ফসল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, কৃষকরা সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। অনেকেই বাধ্য হয়ে কাটার আগেই ক্ষেতে দাঁড়ানো ধান বিক্রির চিন্তা করছেন।

স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন, যেন মৌসুমি এই বৃষ্টিতে তাদের বছরের পরিশ্রম পুরোপুরি নষ্ট না হয়।