মোহনপুরে ভেকু চাপা দিয়ে কৃষক হত্যা: পুকুর খনন চক্রের মূলহোতা বিপ্লব গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৩:০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ২৫৫ বার পড়া হয়েছে

মোহনপুরে ভেকু চাপা দিয়ে কৃষক হত্যা: পুকুর খনন চক্রের মূলহোতা বিপ্লব গ্রেপ্তার
র্যাবের অভিযানে ফরিদপুর থেকে আটক, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই বিএনপি নেতা এখনও পলাতক
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় অবৈধ পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় আহমেদ জুবায়ের (২৫) নামের এক কৃষককে ভেকু চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় পুকুর খনন চক্রের মূলহোতা বিপ্লব হোসেন (৫২) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) র্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ওয়াপদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৫ এর সদর কোম্পানি এবং র্যাব-১০ এর ফরিদপুর সিপিসি-৩ এর একটি যৌথ দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার বিপ্লব হোসেন রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং এলাকায় অবৈধ পুকুর খনন চক্রের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত।
র্যাব জানায়, বিপ্লব হোসেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে মোহনপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালসা বিলে কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে একটি চক্র অবৈধভাবে পুকুর খনন শুরু করে। গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে পুকুর খননের সময় শতাধিক গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন। এ সময় ভেকু চালক আবদুল হামিদ ভেকুর বালতি ঘোরাতে থাকেন, যাতে কেউ কাছে যেতে না পারে। এক পর্যায়ে ভেকুর বালতির আঘাতে কৃষক আহমেদ জুবায়ের মাটিতে পড়ে যান। পরে ভেকু চালক তার শরীরের ওপর ভেকু তুলে দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা ভেকু চালক আবদুল হামিদকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০–১২ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার আসামিদের মধ্যে ধুরইল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান বকুল ও ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিনের নাম রয়েছে। তারা অবৈধ পুকুর খননে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তারা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।
এ বিষয়ে ধুরইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, “এগুলো সন্ত্রাসী কার্যক্রম। সন্ত্রাসীদের দলে কোনো স্থান নেই। আমরা মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছি ওই দুজন যেন দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ না নেয়। পুলিশকে তাদের গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ আমাদেরই বলছে কোথায় আছে তা জানাতে হবে। গ্রেপ্তার না হওয়ার পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে, যা আমি প্রকাশ্যে বলতে চাই না।”
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, “ঘটনার পর ভেকু চালককে আটক করা হলেও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে এখনও সফল হওয়া যায়নি। তবে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগিরই অগ্রগতি হবে।”



















