ঢাকা ১১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লালপুরে ১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক, মাদক আইনে মামলা লালপুরে ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত পথচারীর মৃত্যু ঝিনাইগাতীতে ঘোড়া জবাই করে মাংস পাচারের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে রুয়েটে তালগাছের চারা রোপণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যার পানিতে গোসল করতে গিয়ে প্রাণ গেল একই গ্রামের ৫ কিশোরীর, শোকে স্তব্ধ চর চাকলা সৌদি আরবে কারখানায় আগুনে নিহত শ্যামলের দাফন, তিন মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা পরিবার নাটোরে ১৪০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নলডাঙ্গার রবিউলের দাফন, শেষবারের মতো কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বজনরা Channel A News-এ সংবাদ প্রকাশের পর ফাতেমার পাশে প্রধানমন্ত্রী, পেলেন ৫ লাখ টাকার অনুদান গুরুদাসপুরে দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, মামলা

শাহজাদপুরে বীজ উৎপাদনে কৃষাণী মরিয়মের সাফল্য!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২ ২২০ বার পড়া হয়েছে

বীজ উৎপাদনে কৃষাণী মরিয়মের সাফল্য

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শাহজাদপুরে বীজ উৎপাদনে কৃষাণী মরিয়মের সাফল্য!

সবুজ হোসেন রাজা, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
শাহজাদপুরে বীজ উৎপাদনে কৃষাণী মরিয়মের সাফল্য! সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী সৈয়দপুর গ্রাম। ওই গ্রামের অন্যান্য সাধারণ নারীদের মতই কৃষাণী মরিয়মের রয়েছে স্বামী-সন্তান ও সংসার। সংসারের সব কাজ সামলিয়েও তিনি এখন সমাজের মডেল নারীতে পরিনত হয়েছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্যে ২য় শ্রেষ্ট এসএমই বীজ উৎপাদন কারী ও সফল নারী উদ্যোক্তা এবং বীজ ব্যবসায়ী। ইতোমধ্যেই তিনি এলাকায় বীজের কারিগর হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। সিরাজগঞ্জের গন্ডি পেড়িয়ে সারাদেশে তার উৎপাদিত বীজ পৌঁছে যাচ্ছে এখন কৃষকের হাতে। তিনি বীজ উৎপাদন করে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও অনেক চাষির কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন। বীজ উৎপাদন করে তিনি এখন স্বাবলম্বী। গত ৪ বছর যাবত তার উৎপাদিত উৎকৃষ্ট মানের ‘রবি সিড’ বীজ এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

কথা হয় কৃষণী মরিয়ম খাতুনের সাথে তিনি জানান- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রথমে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় তাকে বারি সরিষা-১৪, খেসারী এবং তিলের বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী দেয়। এর পরের বছর পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী পায়। সেখান থেকে যে পরিমাণ বীজ পাই তাতে ব্যাপক লাভবান হই। সেই থেকে তার বীজ ব্যবসার হাতেখড়ি। সেই ধারাবাহিকতায় ব্যাপক উৎসাহ নিয়েই নিয়মিত ভাবে বারি সরিষা-১৪ ও ১৭, তাহেরপুরি পেঁয়াজ বীজ, খেসারী, মসুর, তিল ও ধানের বীজ উৎপাদন করছেন।

এবছর তার উৎপাদিত বীজের মধ্যে সংরক্ষণ রয়েছে- সরিষা ৫৫ মন, ডাল জাতীয় ৮০০ কেজি, তিল ৩০০ কেজি, পেঁয়াজ বীজ ৫৪ কেজি, ধানের বীজ ২৫০ মন, ও ব্রি-ধান-১০০ (বঙ্গবন্ধু ধান নামে পরিচিত) ৫০ মন। তার এসব উৎপাদিত বীজ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যান। চাষিরা তার বীজ কিনে চাষে আশানুরুপ ফল পান। এ থেকে তার বীজের চাহিদা বাড়তে থাকে। এখন প্রায় সারাদেশেই ‘রবি সিড’ বীজ পৌছে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভালো মানের বীজ সর্বারোহে আমি সফল হয়েছি।’ বীজ উৎপাদনে তার প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা উৎপাদন ব্যয় হলেও উৎপাদিত বীজ ছয় থেকে সাড়ে ছয় লাখ টাকা বিক্রি হওয়ায় প্রায় তিন লাখ টাকা লাভ হয়।
উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান ও সুবর্না ইয়াসমিন সর্বক্ষণিক ভাবে তারা মাঠে এসে পরামর্শ দিচ্ছেন। তার বীজ উৎপাদনে গুনগত মান নিশ্চিত করণে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার উৎপাদিত বীজ গুনগত মান ভালো থাকায় প্রতি বছরই এর চাহিদা বাড়ছে কিন্তু পর্যাপ্ত জমি না থাকার ফলে ব্যবসা বাড়াতে পারছে না। তাই সরকারি সহযোগিতা পেলে আরো বেশি লাভবান হতে পারবে বলেও কৃষাণী জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. এহসানুল হক বলেন- এ এলাকার মানুষ নিজেরা বীজ রাখতে অভ্যস্ত নয়। সেজন্য এ এলাকায় ভালো বীজের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে। উন্নতমানের বীজ উৎপাদনের লক্ষে ওই ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি র্ককর্তারা কৃষকদের সর্বক্ষণিক মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে কৃষাণী মরিয়মের বীজ উৎপাদনে গুনগত মান নিশ্চিত করণে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শাহজাদপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুস ছালাম বলেন- কৃষাণী মরিয়ম সিরজাগঞ্জ জেলার মধ্যে ২য় শ্রেষ্ট এসএমই বীজ উৎপাদন কারী। তিনি একজন উদ্যোমি কর্মট এবং আধুনিক কৃষাণী। কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষাণী মরিয়ম একটি প্রদর্শনি নিয়ে কয়েক বছর ধরে বীজ উৎপাদন করে আসছেন। দেশে ভালো বীজের চাহিদা মেটাতেই সরকারের এ উদ্যোগ। আর সরকারের এই উদ্যোগের সাথে একাত্ম হয়ে তিনি ভালো মানের বীজ উৎপাদন করে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছেন এবং তিনি এখন সফল উদ্যোক্তা। আমি তার সাফল্য কামনা করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শাহজাদপুরে বীজ উৎপাদনে কৃষাণী মরিয়মের সাফল্য!

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২

শাহজাদপুরে বীজ উৎপাদনে কৃষাণী মরিয়মের সাফল্য!

সবুজ হোসেন রাজা, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
শাহজাদপুরে বীজ উৎপাদনে কৃষাণী মরিয়মের সাফল্য! সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী সৈয়দপুর গ্রাম। ওই গ্রামের অন্যান্য সাধারণ নারীদের মতই কৃষাণী মরিয়মের রয়েছে স্বামী-সন্তান ও সংসার। সংসারের সব কাজ সামলিয়েও তিনি এখন সমাজের মডেল নারীতে পরিনত হয়েছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্যে ২য় শ্রেষ্ট এসএমই বীজ উৎপাদন কারী ও সফল নারী উদ্যোক্তা এবং বীজ ব্যবসায়ী। ইতোমধ্যেই তিনি এলাকায় বীজের কারিগর হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। সিরাজগঞ্জের গন্ডি পেড়িয়ে সারাদেশে তার উৎপাদিত বীজ পৌঁছে যাচ্ছে এখন কৃষকের হাতে। তিনি বীজ উৎপাদন করে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও অনেক চাষির কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন। বীজ উৎপাদন করে তিনি এখন স্বাবলম্বী। গত ৪ বছর যাবত তার উৎপাদিত উৎকৃষ্ট মানের ‘রবি সিড’ বীজ এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

কথা হয় কৃষণী মরিয়ম খাতুনের সাথে তিনি জানান- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রথমে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় তাকে বারি সরিষা-১৪, খেসারী এবং তিলের বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী দেয়। এর পরের বছর পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী পায়। সেখান থেকে যে পরিমাণ বীজ পাই তাতে ব্যাপক লাভবান হই। সেই থেকে তার বীজ ব্যবসার হাতেখড়ি। সেই ধারাবাহিকতায় ব্যাপক উৎসাহ নিয়েই নিয়মিত ভাবে বারি সরিষা-১৪ ও ১৭, তাহেরপুরি পেঁয়াজ বীজ, খেসারী, মসুর, তিল ও ধানের বীজ উৎপাদন করছেন।

এবছর তার উৎপাদিত বীজের মধ্যে সংরক্ষণ রয়েছে- সরিষা ৫৫ মন, ডাল জাতীয় ৮০০ কেজি, তিল ৩০০ কেজি, পেঁয়াজ বীজ ৫৪ কেজি, ধানের বীজ ২৫০ মন, ও ব্রি-ধান-১০০ (বঙ্গবন্ধু ধান নামে পরিচিত) ৫০ মন। তার এসব উৎপাদিত বীজ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যান। চাষিরা তার বীজ কিনে চাষে আশানুরুপ ফল পান। এ থেকে তার বীজের চাহিদা বাড়তে থাকে। এখন প্রায় সারাদেশেই ‘রবি সিড’ বীজ পৌছে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভালো মানের বীজ সর্বারোহে আমি সফল হয়েছি।’ বীজ উৎপাদনে তার প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা উৎপাদন ব্যয় হলেও উৎপাদিত বীজ ছয় থেকে সাড়ে ছয় লাখ টাকা বিক্রি হওয়ায় প্রায় তিন লাখ টাকা লাভ হয়।
উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান ও সুবর্না ইয়াসমিন সর্বক্ষণিক ভাবে তারা মাঠে এসে পরামর্শ দিচ্ছেন। তার বীজ উৎপাদনে গুনগত মান নিশ্চিত করণে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার উৎপাদিত বীজ গুনগত মান ভালো থাকায় প্রতি বছরই এর চাহিদা বাড়ছে কিন্তু পর্যাপ্ত জমি না থাকার ফলে ব্যবসা বাড়াতে পারছে না। তাই সরকারি সহযোগিতা পেলে আরো বেশি লাভবান হতে পারবে বলেও কৃষাণী জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. এহসানুল হক বলেন- এ এলাকার মানুষ নিজেরা বীজ রাখতে অভ্যস্ত নয়। সেজন্য এ এলাকায় ভালো বীজের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে। উন্নতমানের বীজ উৎপাদনের লক্ষে ওই ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি র্ককর্তারা কৃষকদের সর্বক্ষণিক মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে কৃষাণী মরিয়মের বীজ উৎপাদনে গুনগত মান নিশ্চিত করণে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শাহজাদপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুস ছালাম বলেন- কৃষাণী মরিয়ম সিরজাগঞ্জ জেলার মধ্যে ২য় শ্রেষ্ট এসএমই বীজ উৎপাদন কারী। তিনি একজন উদ্যোমি কর্মট এবং আধুনিক কৃষাণী। কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষাণী মরিয়ম একটি প্রদর্শনি নিয়ে কয়েক বছর ধরে বীজ উৎপাদন করে আসছেন। দেশে ভালো বীজের চাহিদা মেটাতেই সরকারের এ উদ্যোগ। আর সরকারের এই উদ্যোগের সাথে একাত্ম হয়ে তিনি ভালো মানের বীজ উৎপাদন করে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছেন এবং তিনি এখন সফল উদ্যোক্তা। আমি তার সাফল্য কামনা করি।