ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাণীশংকৈলে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় দুই প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা গোদাগাড়ীতে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয় সভা রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ ৫ দাবিতে রাবিতে ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলন শেরপুরে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মুরাদ মিয়া গ্রেপ্তার লালপুরে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপসহ আইডি হ্যাকিং চক্রের ৪ সদস্য আটক অতিথি হতে না পেরে ১৪৪ ধারা জারির মাইকিং, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার নলডাঙ্গা ও নাটোর সদরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টারিংয়ের অভিযোগ লালপুরে স্টিয়ারিং স্যালোগাড়ির ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত রাজশাহীতে মহিষের শিংয়ের আঘাতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু রাজশাহীতে বিএসটিআইয়ের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা

সাপাহারে আবারও কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মে ২০২২ ২৭৪ বার পড়া হয়েছে
চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাপাহারে আবারও কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আলমগীর হোসেন, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ সাপাহারে আবারও কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। নওগাঁর সাপাহারে একদিন পরে আবারও ঝড়ের তান্ডবে টিনের চালা, কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছপালা সহ কাঁচা আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলায় অপরিপক্ব কাঁচা আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানাগেছে।

শনিবার ভোর রাতে সাপাহার উপজেলায় ব্যাপকহারে ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়। এতে বৃষ্টিতে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ঝড়ের কারনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পরে, টিনের চালা উড়ে যায় ডালপালা ভেঙ্গে গাছপালা উপড়ে পরে। এসময় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অপরিপক্ব কাঁচা আমের। বাগান মালিকদের দাবী, উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগানের ন্যাংড়া, ফজলী, আম্রপালী সহ বিভিন্ন জাতের অন্তত ২০-২৫ ভাগ আম ঝড়ে পড়ে গেছে। এদিকে ঝড়ে পরা আম অপরিপক্ব হাওয়ায় নাম মাত্র দরে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।

সরেজমিনে শনিবার (২১ মে) সকালে উপজেলা সদরের আম বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১০ থেকে ১২ টি আড়ৎতে ঝড়ে পড়া আম কেনা-বেচার ধুম পড়েছে। তবে ঝড়ে পড়া আম অপরিপক্ব হওয়ায় দেড় থেকে দুই টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দিন আড়ৎগুলোতে দুই থেকে তিন হাজার মন আম কেনা হয়েছে বলে জানান আড়ৎ মালিকরা। বাজারে আম বিক্রি করতে আসা কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, দুইদিনের ঝড়ে বাগানের প্রায় অর্ধেকের মতো আম পড়ে গেছে। ঝড়ে পড়া আমগুলো ৬০-১০০ টাকা মন হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে বাগান মালিকরা প্রায় দিশেহারা হয়েছে পড়েছে। আম বাগান মালিক কাজী আবু হাসান রানা বলেন, আমার ১৮ বিঘা জমিতে দুই দিনে প্রায় ৫০ মন আম পড়ে গেছে। বর্তমানে বাগানে যে আম আছে এতে করে জমি ইজারার টাকা সার বিষ খরচের টাকা উঠবে কিনা এনিয়ে খুবই দুশ্চিতায় আছি।

সাপাহার বাজার আম ব্যবসায়ী আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি কার্ত্তিক সাহা বলেন, গত দুই দিনের ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমার আড়তে এক দিনে ৫-৬ শত মন ঝড়ে পড়া কাঁচা আম কিনেছি। ঝড়ে পড়া আমগুলো অপরিপক্ব এই আম শুধু মাত্র তরকারীতে এবং আচার তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে। এর চাহিদাও কম একারনে দামও কম। তবে এই উপজেলা থেকে প্রায় ১০০ ট্রাক আম রপ্তানি হয়েছে বলে তিনি স্হানীয় সাংবাদিক দের জানান।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোসা: শাপলা খাতুন বলেন, ঝড়ে পড়ে যাওয়া আম বাগান থেকে তুলে বাজারে বিক্রি করছে বাগানীরা একারনে সঠিক ক্ষতির পরিমান বুঝা যাচ্ছেনা। তবে ঝড়ের কারনে ৫ ভাগের মত আম পড়তে পারে বলে প্রথমিক ধারণা করা হচ্ছে। আগের দিনের ঝড়ে ২ ভাগের মত আম পড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাপাহারে আবারও কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট সময় : ০২:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মে ২০২২

সাপাহারে আবারও কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আলমগীর হোসেন, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ সাপাহারে আবারও কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। নওগাঁর সাপাহারে একদিন পরে আবারও ঝড়ের তান্ডবে টিনের চালা, কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছপালা সহ কাঁচা আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলায় অপরিপক্ব কাঁচা আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানাগেছে।

শনিবার ভোর রাতে সাপাহার উপজেলায় ব্যাপকহারে ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়। এতে বৃষ্টিতে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ঝড়ের কারনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পরে, টিনের চালা উড়ে যায় ডালপালা ভেঙ্গে গাছপালা উপড়ে পরে। এসময় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অপরিপক্ব কাঁচা আমের। বাগান মালিকদের দাবী, উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগানের ন্যাংড়া, ফজলী, আম্রপালী সহ বিভিন্ন জাতের অন্তত ২০-২৫ ভাগ আম ঝড়ে পড়ে গেছে। এদিকে ঝড়ে পরা আম অপরিপক্ব হাওয়ায় নাম মাত্র দরে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।

সরেজমিনে শনিবার (২১ মে) সকালে উপজেলা সদরের আম বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১০ থেকে ১২ টি আড়ৎতে ঝড়ে পড়া আম কেনা-বেচার ধুম পড়েছে। তবে ঝড়ে পড়া আম অপরিপক্ব হওয়ায় দেড় থেকে দুই টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দিন আড়ৎগুলোতে দুই থেকে তিন হাজার মন আম কেনা হয়েছে বলে জানান আড়ৎ মালিকরা। বাজারে আম বিক্রি করতে আসা কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, দুইদিনের ঝড়ে বাগানের প্রায় অর্ধেকের মতো আম পড়ে গেছে। ঝড়ে পড়া আমগুলো ৬০-১০০ টাকা মন হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে বাগান মালিকরা প্রায় দিশেহারা হয়েছে পড়েছে। আম বাগান মালিক কাজী আবু হাসান রানা বলেন, আমার ১৮ বিঘা জমিতে দুই দিনে প্রায় ৫০ মন আম পড়ে গেছে। বর্তমানে বাগানে যে আম আছে এতে করে জমি ইজারার টাকা সার বিষ খরচের টাকা উঠবে কিনা এনিয়ে খুবই দুশ্চিতায় আছি।

সাপাহার বাজার আম ব্যবসায়ী আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি কার্ত্তিক সাহা বলেন, গত দুই দিনের ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমার আড়তে এক দিনে ৫-৬ শত মন ঝড়ে পড়া কাঁচা আম কিনেছি। ঝড়ে পড়া আমগুলো অপরিপক্ব এই আম শুধু মাত্র তরকারীতে এবং আচার তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে। এর চাহিদাও কম একারনে দামও কম। তবে এই উপজেলা থেকে প্রায় ১০০ ট্রাক আম রপ্তানি হয়েছে বলে তিনি স্হানীয় সাংবাদিক দের জানান।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোসা: শাপলা খাতুন বলেন, ঝড়ে পড়ে যাওয়া আম বাগান থেকে তুলে বাজারে বিক্রি করছে বাগানীরা একারনে সঠিক ক্ষতির পরিমান বুঝা যাচ্ছেনা। তবে ঝড়ের কারনে ৫ ভাগের মত আম পড়তে পারে বলে প্রথমিক ধারণা করা হচ্ছে। আগের দিনের ঝড়ে ২ ভাগের মত আম পড়েছে।