পঞ্চগড়ে তরুণীকে ধ/র্ষ/ণ ও হ/ত্যা মামলায় যুবকের মৃ/ত্যুদ’ণ্ড
- আপডেট সময় : ০৮:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে তরুণীকে ধ/র্ষ/ণ ও হ/ত্যা মামলায় যুবকের মৃ/ত্যুদ’ণ্ড
আটোয়ারীতে রেললাইনের পাশ থেকে তরুণীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রায়; আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দিয়েছেন আদালত
মো. কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়ঃ
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৪) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি সকালে আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলগেট এলাকার একটি স্কুলের পেছনে রেললাইন থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
২০২৫ সালের ৮ মার্চ সকালে আটোয়ারী উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ মোড় এলাকায় ইজিবাইক চুরির অভিযোগে স্থানীয়দের সহায়তায় রিফাতকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার মোবাইল ফোনে কিছু ভিডিও ও ছবি পাওয়া যায়। সেগুলো যাচাই এবং জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রেললাইনে পাওয়া তরুণীর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসে বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ট্রেনে করে পঞ্চগড়ে যাওয়ার পথে দিনাজপুর রেলস্টেশনে ওই তরুণীর সঙ্গে রিফাতের পরিচয় হয়। পরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে আটোয়ারীর কিসমত রেলগেট এলাকায় নিয়ে যান তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে একটি সুপারি বাগানে তরুণীকে ধর্ষণ করেন রিফাত। পরে ঘটনা প্রকাশের আশঙ্কায় ইট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। হত্যার ঘটনা আড়াল করতে মরদেহটি টেনেহিঁচড়ে রেললাইনের ওপর রেখে পালিয়ে যান তিনি। পরে ট্রেনে কাটা পড়ে মরদেহটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৮ মার্চ আটোয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরশাদুল হক বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামির মোবাইল ফোনে পাওয়া তথ্য এবং জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। মামলায় আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত রিফাতকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।


















