ঢাকা ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাজেক পর্যটন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, পর্যটকদের ফিরতে নির্দেশ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দুটি স্পিডবোটে আগুন, পরে মাঝনদীতে ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নাটোরে জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদে বাবা-ছেলে উত্তরাঞ্চলের চায়ের মান বাড়াতে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে: চা বোর্ড চেয়ারম্যান পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতে ঘুষ দাবির অভিযোগ, ৪০০ টাকা ফেরত দেওয়ার ভিডিও থাকার দাবি নালিতাবাড়ীতে ব্যবসায়ীকে মারধর করে মোটরসাইকেল, আইফোন ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৮ টিমের অভিযান, মশক নিধন ও লিফলেট বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন, ডিসি কার্যালয়ে প্রতিবাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের চেক বিতরণ পঞ্চগড়ে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই কর্মী গ্রেপ্তার

চীনে ডাক্তারি পড়ার স্বপ্নে নতুন আশার আলো, ফাতেমা পেলেন ৫ লাখ টাকার অনুদান

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:০৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

Bagatipara Fathama khanom

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চীনে ডাক্তারি পড়ার স্বপ্নে নতুন আশার আলো, ফাতেমা পেলেন ৫ লাখ টাকার অনুদান

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
অর্থের অভাবে চীনের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়া নাটোরের বাগাতিপাড়ার মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতেমা খানমের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নে নতুন আশার আলো জ্বলেছে। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার অনুদান পেয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফাতেমা খানমের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাগাতিপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঁকফো নতুনপাড়া গ্রামের পিকআপচালক লাভলু খাঁনের মেয়ে ফাতেমা খানম চীনের হেনান প্রদেশের ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল অব ঝেংঝৌ ইউনিভার্সিটিতে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে ভর্তি ও প্রাথমিক খরচ বাবদ প্রায় ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হওয়ায় স্বল্প আয়ের পরিবারের পক্ষে সেই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। এতে তাঁর বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

ফাতেমা ২০২২ সালে জিগরী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং ২০২৪ সালে টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৭ অর্জন করেন। পরে আইইএলটিএস সম্পন্ন করে সিএসসিএ (CSCA)-এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। অনলাইন ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির অনুমোদন পান। পাশাপাশি ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস থেকে শিক্ষার্থী ভিসাও সংগ্রহ করেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আগামী ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চীনে গিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর আগে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর তার ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না হওয়ায় পরিবারটি দুশ্চিন্তায় ছিল।

অনুদান পাওয়ার পর ফাতেমা খানম বলেন, আজকে আমার এবং আমার পরিবারের জন্য খুবই আনন্দের একটি দিন। এই আনন্দ কাউকে বলে বোঝাতে পারব না। অর্থের অভাবে আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেয়েছি। আর এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল আপুর।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে ২১ দিন আগে ৫০ হাজার টাকা করে তিনটি চেক দেওয়া হয়েছে। সেটিও মন্ত্রী পুতুল আপুর সহযোগিতার কারণেই পেয়েছি। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর আমার ফ্লাইট। সবার কাছে দোয়া চাই। আমি ডাক্তার হয়ে দেশে ফিরে আসতে চাই। দেশ ও এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারলেই নিজেকে ধন্য মনে করব।

ফাতেমার মা হাবিবা খানম বলেন, অভাবের কারণে আমি নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। অনেক কষ্ট করে মেয়েকে লেখাপড়া করিয়েছি। তার স্বপ্ন পূরণে এই সহযোগিতা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। তিনি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী পুতুলের সহযোগিতার কথা আজীবন মনে রাখবেন বলেও জানান তিনি।

ফাতেমার বাবা লাভলু খাঁন বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত। মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষ করে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিজের উদ্যোগে সহযোগিতার ব্যবস্থা করায় প্রতিমন্ত্রী পুতুলের প্রতি আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।

ফাতেমার পরিবার ও স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ায় এবার তার চীনে গিয়ে এমবিবিএস পড়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে এবং ভবিষ্যতে একজন চিকিৎসক হয়ে তিনি দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চীনে ডাক্তারি পড়ার স্বপ্নে নতুন আশার আলো, ফাতেমা পেলেন ৫ লাখ টাকার অনুদান

আপডেট সময় : ০৯:০৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

চীনে ডাক্তারি পড়ার স্বপ্নে নতুন আশার আলো, ফাতেমা পেলেন ৫ লাখ টাকার অনুদান

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
অর্থের অভাবে চীনের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়া নাটোরের বাগাতিপাড়ার মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতেমা খানমের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নে নতুন আশার আলো জ্বলেছে। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার অনুদান পেয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফাতেমা খানমের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাগাতিপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঁকফো নতুনপাড়া গ্রামের পিকআপচালক লাভলু খাঁনের মেয়ে ফাতেমা খানম চীনের হেনান প্রদেশের ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল অব ঝেংঝৌ ইউনিভার্সিটিতে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে ভর্তি ও প্রাথমিক খরচ বাবদ প্রায় ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হওয়ায় স্বল্প আয়ের পরিবারের পক্ষে সেই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। এতে তাঁর বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

ফাতেমা ২০২২ সালে জিগরী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং ২০২৪ সালে টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৭ অর্জন করেন। পরে আইইএলটিএস সম্পন্ন করে সিএসসিএ (CSCA)-এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। অনলাইন ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির অনুমোদন পান। পাশাপাশি ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস থেকে শিক্ষার্থী ভিসাও সংগ্রহ করেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আগামী ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চীনে গিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর আগে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর তার ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না হওয়ায় পরিবারটি দুশ্চিন্তায় ছিল।

অনুদান পাওয়ার পর ফাতেমা খানম বলেন, আজকে আমার এবং আমার পরিবারের জন্য খুবই আনন্দের একটি দিন। এই আনন্দ কাউকে বলে বোঝাতে পারব না। অর্থের অভাবে আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেয়েছি। আর এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল আপুর।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে ২১ দিন আগে ৫০ হাজার টাকা করে তিনটি চেক দেওয়া হয়েছে। সেটিও মন্ত্রী পুতুল আপুর সহযোগিতার কারণেই পেয়েছি। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর আমার ফ্লাইট। সবার কাছে দোয়া চাই। আমি ডাক্তার হয়ে দেশে ফিরে আসতে চাই। দেশ ও এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারলেই নিজেকে ধন্য মনে করব।

ফাতেমার মা হাবিবা খানম বলেন, অভাবের কারণে আমি নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। অনেক কষ্ট করে মেয়েকে লেখাপড়া করিয়েছি। তার স্বপ্ন পূরণে এই সহযোগিতা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। তিনি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী পুতুলের সহযোগিতার কথা আজীবন মনে রাখবেন বলেও জানান তিনি।

ফাতেমার বাবা লাভলু খাঁন বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত। মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষ করে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিজের উদ্যোগে সহযোগিতার ব্যবস্থা করায় প্রতিমন্ত্রী পুতুলের প্রতি আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।

ফাতেমার পরিবার ও স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ায় এবার তার চীনে গিয়ে এমবিবিএস পড়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে এবং ভবিষ্যতে একজন চিকিৎসক হয়ে তিনি দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন।