পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন সড়ক যেন মরণফাঁদ, গর্ত-খানাখন্দে চরম দুর্ভোগ
- আপডেট সময় : ০৮:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন সড়ক যেন মরণফাঁদ, গর্ত-খানাখন্দে চরম দুর্ভোগ
মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, বিশেষ প্রতিনিধি, পঞ্চগড়:
পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কোথাও বিটুমিন ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও সড়কের ওপর জমে থাকছে হাঁটুপানি। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহনকে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, অতিবৃষ্টি, সড়কের পাশে গাছপালা, পুকুর-জলাশয় এবং আশপাশের জমিতে পানি জমে থাকায় বিটুমিন দিয়ে নির্মিত সড়কগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পঞ্চগড়-টুনিরহাট হয়ে দেবীগঞ্জের ভাউলাগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে বগদুলঝুলা-বড়শশী সড়কের বেশ কিছু জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে এ সড়কে যানবাহন চলাচল করছে। প্রায় ৫০০ মিটার অংশে সড়কজুড়ে কাদা ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় বিটুমিনের কার্পেটিং উঠে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, পঞ্চগড়-টুনিরহাট, কালিয়াগঞ্জ থেকে ভাউলাগঞ্জ হয়ে দেবীগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও শত শত যানবাহন চলাচল করে। বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিটুমিন ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক সময় গাড়ি বিকল হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও ঘটছে।
এদিকে সরেজমিনে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ব্যারিস্টার বাজার থেকে কাজীপাড়া, পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া সড়কের কাকপাড়া হাট জিসি এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার, হাফিজাবাদ-তালমা হয়ে আম-কাঁঠাল এলাকা এবং পঞ্চগড় পৌর শহরের বানিয়াপাড়া সড়কসহ বিভিন্ন সড়কেরও বেহাল দশা দেখা গেছে। এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
সিএনজি চালক আমিনার রহমান বলেন, “সড়কটির সংস্কার কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু যেনতেনভাবে কাজ শেষ করায় কয়েকদিন পরই বিটুমিন উঠতে শুরু করে। কিছুদিন পর সড়কটি খানাখন্দে ভরে যায়। এখন কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে থাকে।”
পিকআপ চালক শরিফুল ইসলাম বলেন, “শত শত গাড়ি এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক দীর্ঘদিন মেরামত না করায় এখন সাধারণ মানুষ ও চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের এমন অবস্থা যে, গাড়ি পারাপারের সময় যেকোনো মুহূর্তে উল্টে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিউল আলম বলেন, চলতি অর্থবছরে ৫২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও অতিগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পঞ্চগড় শহরের বানিয়াপাড়া সড়কটি আরসিসি করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অচিরেই এর কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া দেবীগঞ্জের ভাউলাগঞ্জ সড়কের দামড়াদিঘীর ভাঙা অংশটি আরসিসি করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সড়কটি মেরামত করা হবে। এ বিষয়ে অফিসিয়াল কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

















