ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান রাজশাহীতে অনুমোদনহীন বিদেশি চকলেট-লজেন্স বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা বাগাতিপাড়ায় হত্যা-ডাকাতি মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন, একজনের ৫ বছরের কারাদণ্ড মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে পবা হাইওয়ে থানা-সওজের যৌথ অভিযান সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বাউয়েটে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’ উদ্বোধন বাগাতিপাড়ায় অসহায় শাহাদাতের পরিবারের পাশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাগাতিপাড়ায় টিভির প্লাগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু লালপুরে ৩৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, থানায় মামলা ঠাকুরগাঁওয়ে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন পঞ্চগড় হাসপাতালের বেডে শি/শুকে ধ/র্ষ/ণচেষ্টার অভিযোগ, চিকিৎসাধীন রোগীকে গ্রেপ্তার

২৫ বছরেও নিজস্ব ভবন পায়নি পুঠিয়া পৌরসভা, ভাড়া ভবনেই চলছে কার্যক্রম

এম এম মামুনঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ১১৬ বার পড়া হয়েছে

Puthia Municipality pic

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২৫ বছরেও নিজস্ব ভবন পায়নি পুঠিয়া পৌরসভা, ভাড়া ভবনেই চলছে কার্যক্রম

প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন পায়নি রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভা। সীমানা-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ভবন নির্মাণের বরাদ্দ অর্থ তছরুপের অভিযোগে থমকে আছে স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ। ফলে একটি ভাড়া করা ছোট ভবনেই চলছে পৌরসভার সব কার্যক্রম। এতে প্রতিদিনই নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সেবা নিতে আসা পৌরবাসী।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ২৪ জানুয়ারি নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে পুঠিয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছরের ৭ মে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। পৌরসভার আয়তন ১৩ দশমিক ৫১ বর্গকিলোমিটার। তবে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত মামলার কারণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসকের মাধ্যমে পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালে প্রথম এবং ২০২০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০০৭ সালে পৌর ভবন নির্মাণের জন্য ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মকর্তা দাবি করেন, বিগত দুই মেয়রের আমলে ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ তছরুপ হয়েছে। বর্তমানে পৌরসভার তহবিলে মাত্র ১৬ লাখ টাকা রয়েছে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য যথেষ্ট নয়।

বর্তমানে পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের উদ্যোগ নিলেও বিপুল ঋণের বোঝা নিয়েই চলছে পৌরসভার কার্যক্রম।

নিজস্ব ভবন না থাকায় পৌরসভার নাগরিক সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং কর, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র ও প্রশাসনিক সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমান ভাড়া ভবনে প্রয়োজনীয় দপ্তর, নথি সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং সেবা নিতে আসা নাগরিকদের বসার পর্যাপ্ত স্থান নেই।

পৌরসভার ৮ নম্বর কাঁঠালবাড়িয়া ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম বলেন, “২৫ বছরেও পুঠিয়া পৌরসভার নিজস্ব ভবন নির্মাণ না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হলে আজ এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।”

‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯’ এবং ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালা’ অনুযায়ী, পৌর ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি খাস জমি, অধিগ্রহণযোগ্য জমি অথবা পৌরসভার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমি ব্যবহার করা যেতে পারে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, পুঠিয়া পৌর সদরে সরকারি খাস জমি থাকলেও তা ব্যবহার করে এখনো ভবন নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে পুঠিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ বলেন, “একটি আদর্শ পৌর ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি পৌর সদরের ভেতরে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পুঠিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের জায়গায় পৌর ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।”

দীর্ঘ ২৫ বছরেও নিজস্ব ভবন নির্মাণ না হওয়ায় পুঠিয়া পৌরসভার প্রশাসনিক সক্ষমতা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবার মানও। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত স্থায়ী পৌর ভবন নির্মাণের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

২৫ বছরেও নিজস্ব ভবন পায়নি পুঠিয়া পৌরসভা, ভাড়া ভবনেই চলছে কার্যক্রম

আপডেট সময় : ০৮:১২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

২৫ বছরেও নিজস্ব ভবন পায়নি পুঠিয়া পৌরসভা, ভাড়া ভবনেই চলছে কার্যক্রম

প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন পায়নি রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভা। সীমানা-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ভবন নির্মাণের বরাদ্দ অর্থ তছরুপের অভিযোগে থমকে আছে স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ। ফলে একটি ভাড়া করা ছোট ভবনেই চলছে পৌরসভার সব কার্যক্রম। এতে প্রতিদিনই নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সেবা নিতে আসা পৌরবাসী।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ২৪ জানুয়ারি নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে পুঠিয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছরের ৭ মে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। পৌরসভার আয়তন ১৩ দশমিক ৫১ বর্গকিলোমিটার। তবে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত মামলার কারণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসকের মাধ্যমে পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালে প্রথম এবং ২০২০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০০৭ সালে পৌর ভবন নির্মাণের জন্য ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মকর্তা দাবি করেন, বিগত দুই মেয়রের আমলে ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ তছরুপ হয়েছে। বর্তমানে পৌরসভার তহবিলে মাত্র ১৬ লাখ টাকা রয়েছে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য যথেষ্ট নয়।

বর্তমানে পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের উদ্যোগ নিলেও বিপুল ঋণের বোঝা নিয়েই চলছে পৌরসভার কার্যক্রম।

নিজস্ব ভবন না থাকায় পৌরসভার নাগরিক সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং কর, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র ও প্রশাসনিক সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমান ভাড়া ভবনে প্রয়োজনীয় দপ্তর, নথি সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং সেবা নিতে আসা নাগরিকদের বসার পর্যাপ্ত স্থান নেই।

পৌরসভার ৮ নম্বর কাঁঠালবাড়িয়া ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম বলেন, “২৫ বছরেও পুঠিয়া পৌরসভার নিজস্ব ভবন নির্মাণ না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হলে আজ এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।”

‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯’ এবং ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালা’ অনুযায়ী, পৌর ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি খাস জমি, অধিগ্রহণযোগ্য জমি অথবা পৌরসভার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমি ব্যবহার করা যেতে পারে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, পুঠিয়া পৌর সদরে সরকারি খাস জমি থাকলেও তা ব্যবহার করে এখনো ভবন নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে পুঠিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ বলেন, “একটি আদর্শ পৌর ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি পৌর সদরের ভেতরে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পুঠিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের জায়গায় পৌর ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।”

দীর্ঘ ২৫ বছরেও নিজস্ব ভবন নির্মাণ না হওয়ায় পুঠিয়া পৌরসভার প্রশাসনিক সক্ষমতা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবার মানও। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত স্থায়ী পৌর ভবন নির্মাণের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।