ঢাকা ০৮:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাণীশংকৈলে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় দুই প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা গোদাগাড়ীতে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয় সভা রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ ৫ দাবিতে রাবিতে ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলন শেরপুরে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মুরাদ মিয়া গ্রেপ্তার লালপুরে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপসহ আইডি হ্যাকিং চক্রের ৪ সদস্য আটক অতিথি হতে না পেরে ১৪৪ ধারা জারির মাইকিং, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার নলডাঙ্গা ও নাটোর সদরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টারিংয়ের অভিযোগ লালপুরে স্টিয়ারিং স্যালোগাড়ির ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত রাজশাহীতে মহিষের শিংয়ের আঘাতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু রাজশাহীতে বিএসটিআইয়ের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা

পিবিআইয়ের মিথ্যা প্রতিবেদনে সাংবাদিক কারাগারে, রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভায় তীব্র ক্ষোভ

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:২১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৩১৮ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিবিআইয়ের মিথ্যা প্রতিবেদনে সাংবাদিক কারাগারে, রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভায় তীব্র ক্ষোভ

ভুয়া মামলায় সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগ, পুনঃতদন্তের দাবি

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি বানোয়াট মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর মনগড়া ও মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদনের কারণে একজন সাংবাদিককে কারাগারে যেতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা।

গত শনিবার সন্ধ্যায় রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সাধারণ সভায় এ ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সভায় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম শাওন, সিনিয়র সাংবাদিক ছবিকান্ত দেব, আনিসুর রহমান, মোবারক আলী, ফারুক আহাম্মদ, বিপ্লব, সবুজ, নাজমুল বিজয় রায়সহ অন্যান্য সদস্যরা। তারা পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন এবং সাংবাদিক হয়রানির নিন্দা জানান।

সভায় জানানো হয়, এর আগে রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি মাসুদ রানার হঠাৎ কোটিপতি হয়ে ওঠা নিয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা অনুসন্ধান ও বক্তব্য নিতে গেলে তিনি রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবকে হেয় করে দেওয়া একটি বক্তব্যের রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

এর জেরে নিজেকে আড়াল করতে এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতিতে রাখতে তিনি ছয়জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা এবং রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল আলম ও তার ভাই খাইরুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ঠাকুরগাঁও আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য আদালত ঠাকুরগাঁও পিবিআইকে দায়িত্ব দেন। পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক মিলন ইসলাম মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হলেও অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা একপাক্ষিক ও পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

পিবিআইয়ের ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৪ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুব উল ইসলাম সাংবাদিক আশরাফুল আলমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। সাংবাদিকপক্ষের আইনজীবী ও ঠাকুরগাঁও বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, তদন্ত প্রতিবেদন সাংবাদিকের বিপক্ষে যাওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠাতে বাধ্য হন। পরে এক সপ্তাহ কারাভোগের পর গত ১ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি পান।

রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, “আমাকে ও আমার ভাইসহ আরও সাতজনকে একটি সম্পূর্ণ সাজানো মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে আমরা সবাই মিলে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছি, অথচ মামলার অনেক আসামির সঙ্গে গত কয়েক মাসে আমার দেখাই হয়নি। এমনকি মামলার বাদীর সঙ্গেও আমার কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। আমি কিডনি অপারেশনের পর অসুস্থ অবস্থায় ছিলাম। এই মামলা পুরোপুরি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে মিথ্যা ঘটনাকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।” এ ঘটনায় তিনি পুনঃতদন্তের দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক মিলন ইসলাম বলেন, “তদন্তে যা পাওয়া গেছে তাই আদালতে দাখিল করা হয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পিবিআইয়ের মিথ্যা প্রতিবেদনে সাংবাদিক কারাগারে, রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভায় তীব্র ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৪:২১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

পিবিআইয়ের মিথ্যা প্রতিবেদনে সাংবাদিক কারাগারে, রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভায় তীব্র ক্ষোভ

ভুয়া মামলায় সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগ, পুনঃতদন্তের দাবি

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি বানোয়াট মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর মনগড়া ও মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদনের কারণে একজন সাংবাদিককে কারাগারে যেতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা।

গত শনিবার সন্ধ্যায় রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সাধারণ সভায় এ ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সভায় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম শাওন, সিনিয়র সাংবাদিক ছবিকান্ত দেব, আনিসুর রহমান, মোবারক আলী, ফারুক আহাম্মদ, বিপ্লব, সবুজ, নাজমুল বিজয় রায়সহ অন্যান্য সদস্যরা। তারা পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন এবং সাংবাদিক হয়রানির নিন্দা জানান।

সভায় জানানো হয়, এর আগে রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি মাসুদ রানার হঠাৎ কোটিপতি হয়ে ওঠা নিয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা অনুসন্ধান ও বক্তব্য নিতে গেলে তিনি রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবকে হেয় করে দেওয়া একটি বক্তব্যের রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

এর জেরে নিজেকে আড়াল করতে এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতিতে রাখতে তিনি ছয়জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা এবং রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল আলম ও তার ভাই খাইরুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ঠাকুরগাঁও আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য আদালত ঠাকুরগাঁও পিবিআইকে দায়িত্ব দেন। পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক মিলন ইসলাম মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হলেও অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা একপাক্ষিক ও পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

পিবিআইয়ের ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৪ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুব উল ইসলাম সাংবাদিক আশরাফুল আলমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। সাংবাদিকপক্ষের আইনজীবী ও ঠাকুরগাঁও বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, তদন্ত প্রতিবেদন সাংবাদিকের বিপক্ষে যাওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠাতে বাধ্য হন। পরে এক সপ্তাহ কারাভোগের পর গত ১ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি পান।

রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, “আমাকে ও আমার ভাইসহ আরও সাতজনকে একটি সম্পূর্ণ সাজানো মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে আমরা সবাই মিলে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছি, অথচ মামলার অনেক আসামির সঙ্গে গত কয়েক মাসে আমার দেখাই হয়নি। এমনকি মামলার বাদীর সঙ্গেও আমার কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। আমি কিডনি অপারেশনের পর অসুস্থ অবস্থায় ছিলাম। এই মামলা পুরোপুরি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে মিথ্যা ঘটনাকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।” এ ঘটনায় তিনি পুনঃতদন্তের দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক মিলন ইসলাম বলেন, “তদন্তে যা পাওয়া গেছে তাই আদালতে দাখিল করা হয়েছে।”