ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাটমোহরে তেল-জেলি দিয়ে নকল দুধ তৈরির অভিযোগ, কারাদণ্ডসহ জরিমানা বাগাতিপাড়ায় কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু যারা সরকার গঠন করতে পারেননি, তারা এখন সার ও বিদ্যুৎ নিয়ে ষড়যন্ত্র এবং মব সৃষ্টির চেষ্টা করছেন- ফরহাদ হোসেন আজাদ হালতি বিলে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান, ২০ হাজার টাকা জরিমানা রাণীশংকৈলে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় দুই প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা গোদাগাড়ীতে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয় সভা রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ ৫ দাবিতে রাবিতে ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলন শেরপুরে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মুরাদ মিয়া গ্রেপ্তার লালপুরে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপসহ আইডি হ্যাকিং চক্রের ৪ সদস্য আটক অতিথি হতে না পেরে ১৪৪ ধারা জারির মাইকিং, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

পাকা রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, এলাকাবাসীর প্রতিবাদে কাজ বন্ধ

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫৮০ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাকা রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, এলাকাবাসীর প্রতিবাদে কাজ বন্ধ

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় অনিয়মের অভিযোগে ঠিকাদার সাইট ত্যাগ, তদন্তের আশ্বাস

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়নের সাইলকোনা এলাকায় পাকা রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে সাইট ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি, অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে রাস্তার গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়। নির্ধারিত পরিমাণ ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহার না করে রাতের আঁধারে ৩ নম্বর ইট ও বালুর পরিবর্তে মাটি ফেলে সড়কের বেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। সকালে দায়সারা ভাবে ওপরের অংশে নামমাত্র ভালো খোয়া ব্যবহার করা হতো।

এছাড়াও বালির পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করে পানি না দিয়েই রোলার চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। কাজটির তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকাবাসী কোদাল দিয়ে রাস্তার বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে নিম্নমানের কাজের প্রমাণ দেখাচ্ছেন। সামান্য খোঁড়ালেই বেরিয়ে আসছে শক্ত মাটি। বেজমেন্টে বালির পরিবর্তে অতি সামান্য ধুলাবালিযুক্ত উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা রয়েছে নিম্নমানের মাটিযুক্ত ইটের খোয়া। লোকালয় সংলগ্ন কিছু অংশে কেবল ওপর ওপর ভালো খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, জিওবিএম প্রকল্পের আওতায় ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়নের সাইলকোনা এলাকায় ৯০০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ পায় এম এইচ কনস্ট্রাকশন ফার্ম। এর সত্তাধিকারী মাসুদ হাসান (লালপুর, নাটোর)। কাজটির চুক্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮ লাখ ১৫ হাজার ২৭৬ টাকা।

সাইলকোনা গ্রামের পুলিশ হাসান আলী বলেন, “এই রাস্তায় ব্যবহৃত ইট ও খোয়ার মান অত্যন্ত নিম্নমানের।”

এলাকাবাসীর পক্ষে রঞ্জু ও সাইদুর রহমানসহ অনেকে জানান, রাতে লোকচক্ষুর আড়ালে নিম্নমানের সামগ্রী ফেলা হতো। পানি দিলে কাঁদা বের হয়ে যাবে—এই আশঙ্কায় রোলার চালানোর সময় পানি দেওয়া হয়নি। এভাবে রাস্তা হলে কয়েক মাসও টিকবে না বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে এম এইচ কনস্ট্রাকশন ফার্মের সত্তাধিকারী মাসুদ হাসান বলেন, “এটি জিওবিএমের আওতায় রাস্তা রিপেয়ারিং কাজ। এখানে পুরাতন ইট ও খোয়া ব্যবহারের কথা রয়েছে। বিষয়টি এলাকাবাসী বুঝতে পারেননি।”

ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএসএম লেলিন জানান, কাজের মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে, ইঞ্জিনিয়ার এসে বিষয়টি দেখবেন।

উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের কার্যসহকারী ও কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা মাসুদ রানা বলেন, “ইজিংয়ে ব্যবহৃত পুরাতন ইট তিন নম্বর হলেও তা ইস্টিমেট অনুযায়ী। এলাকাবাসী শুরুতে বাধা না দিয়ে শেষ পর্যায়ে এসে আপত্তি তুলেছেন।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অনুপ কুমার ঘোষ জানান, কাজটি সদ্য শুরু হয়েছে। তিনি নিজে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাকা রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, এলাকাবাসীর প্রতিবাদে কাজ বন্ধ

আপডেট সময় : ০২:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

পাকা রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, এলাকাবাসীর প্রতিবাদে কাজ বন্ধ

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় অনিয়মের অভিযোগে ঠিকাদার সাইট ত্যাগ, তদন্তের আশ্বাস

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়নের সাইলকোনা এলাকায় পাকা রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে সাইট ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি, অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে রাস্তার গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়। নির্ধারিত পরিমাণ ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহার না করে রাতের আঁধারে ৩ নম্বর ইট ও বালুর পরিবর্তে মাটি ফেলে সড়কের বেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। সকালে দায়সারা ভাবে ওপরের অংশে নামমাত্র ভালো খোয়া ব্যবহার করা হতো।

এছাড়াও বালির পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করে পানি না দিয়েই রোলার চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। কাজটির তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকাবাসী কোদাল দিয়ে রাস্তার বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে নিম্নমানের কাজের প্রমাণ দেখাচ্ছেন। সামান্য খোঁড়ালেই বেরিয়ে আসছে শক্ত মাটি। বেজমেন্টে বালির পরিবর্তে অতি সামান্য ধুলাবালিযুক্ত উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা রয়েছে নিম্নমানের মাটিযুক্ত ইটের খোয়া। লোকালয় সংলগ্ন কিছু অংশে কেবল ওপর ওপর ভালো খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, জিওবিএম প্রকল্পের আওতায় ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়নের সাইলকোনা এলাকায় ৯০০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ পায় এম এইচ কনস্ট্রাকশন ফার্ম। এর সত্তাধিকারী মাসুদ হাসান (লালপুর, নাটোর)। কাজটির চুক্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮ লাখ ১৫ হাজার ২৭৬ টাকা।

সাইলকোনা গ্রামের পুলিশ হাসান আলী বলেন, “এই রাস্তায় ব্যবহৃত ইট ও খোয়ার মান অত্যন্ত নিম্নমানের।”

এলাকাবাসীর পক্ষে রঞ্জু ও সাইদুর রহমানসহ অনেকে জানান, রাতে লোকচক্ষুর আড়ালে নিম্নমানের সামগ্রী ফেলা হতো। পানি দিলে কাঁদা বের হয়ে যাবে—এই আশঙ্কায় রোলার চালানোর সময় পানি দেওয়া হয়নি। এভাবে রাস্তা হলে কয়েক মাসও টিকবে না বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে এম এইচ কনস্ট্রাকশন ফার্মের সত্তাধিকারী মাসুদ হাসান বলেন, “এটি জিওবিএমের আওতায় রাস্তা রিপেয়ারিং কাজ। এখানে পুরাতন ইট ও খোয়া ব্যবহারের কথা রয়েছে। বিষয়টি এলাকাবাসী বুঝতে পারেননি।”

ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএসএম লেলিন জানান, কাজের মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে, ইঞ্জিনিয়ার এসে বিষয়টি দেখবেন।

উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের কার্যসহকারী ও কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা মাসুদ রানা বলেন, “ইজিংয়ে ব্যবহৃত পুরাতন ইট তিন নম্বর হলেও তা ইস্টিমেট অনুযায়ী। এলাকাবাসী শুরুতে বাধা না দিয়ে শেষ পর্যায়ে এসে আপত্তি তুলেছেন।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অনুপ কুমার ঘোষ জানান, কাজটি সদ্য শুরু হয়েছে। তিনি নিজে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।